ঢালাই স্পেশাল কেমন সিমেন্ট? 

ঢালাই স্পেশাল সিমেন্ট মাল্টিপারপাস ইউজ সিমেন্ট না, আবার ওপিসি না। এর মাঝামাঝি একটি সিমেন্ট। গ্রাহকরা যখন ঢালাই করবেন, বিশেষ করে মাটির নিচে, ছাদের জন্য যখন ঢালাই করবেন তার জন্য এ সিমেন্ট সবচেয়ে বেশি উপযোগী। 

অন্য সিমেন্টের তুলনায় এ সিমেন্ট কতটুকু টেকসই? 

অন্য সিমেন্টের তুলনায় এ সিমেন্ট অনেক বেশি টেকসই। প্রায় ওপিসির সমান, দ্রুত জমাট বাঁধতে পারে। যার কারণে দ্রুত মজবুত হয়ে যায়। 

বাজারে যেসব সাধারণ সিমেন্ট মাল্টিপারপাস কাজে ব্যবহার করা হয়, তাদের তুলনায় কেমন? 

বাজারে মাল্টিপারপাস কাজের জন্য যে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয় সেগুলোর তুলনায় এটি বেটার। এগিয়ে থাকবে। ইউনিক সিমেন্ট থেকে আমরা বলতে চাচ্ছি, ওয়ার্ল্ডের যেকোনো থার্ড পার্টি ল্যাবে আপনি আমাদের এ সিমেন্ট ও অন্যান্য সিমেন্টের তুলনা করে দেখতে পারেন। এটার ব্র্যান্ডিং করছি আমরা ঢালাই স্পেশাল সিমেন্ট হিসেবে, নীল কালারের ব্যাগে। 

ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে ইউনিক সিমেন্টের বিশেষত্ব কী? 

ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বলতে গেলে আমাদের লোকেশনটাও ইউনিক একটি জায়গায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের পাশে। শিল্প-কারখানার জন্য এটি প্লাস পয়েন্ট। আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার টন। সুতরাং মার্কেটকে আমরা আরো দিতে পারি। প্রাথমিকভাবে আমাদের একটি ইউনিট ছিল। আমরা এটাকে বলি ওল্ড সাইট। রাস্তার ওপারে আরেকটি সাইট আছে, এটাকে আমরা বলি নিউ সাইট। দুটি ইউনিটই আমরা একসঙ্গে চালাই। আমাদের কাঁচামাল খালাস করা হয় ইকোহপারে। ইকোহপার নিশ্চিতভাবেই পরিবেশগত দূষণ রোধ করে। এর মাধ্যমে খালাস করা হলে ধুলা ওড়ে না। আমাদের কোম্পানির কাঁচামাল দুটো ক্রেনে আনলোড হয়, দুটোই ইকোহপার। মাল খালাসের দিক থেকে এ ইন্ডাস্ট্রিতে অন্য যে প্লান্টগুলোয় দেখা যাবে—তিনটি ক্রেনে মাল খালাস হচ্ছে, সেখানে মাত্র একটি ইকোহপার—বাকিগুলো ইকোহপার না। ইউনিক সিমেন্ট পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আর এটি যেহেতু নদীর তীরে সেহেতু ইউনিক সিমেন্ট বিষয়টি নিয়ে আরো জোরালোভাবে ভাবছে। আমরা চেষ্টা করছি সবুজায়ন করার। বাংলাদেশের অনেক ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দেখতে পারেন, সবুজায়ন কী? যেখানে সম্ভাবনা আছে, সেখানে আমরা গাছ লাগাচ্ছি। টবে হলেও আমরা গাছ লাগাচ্ছি। কিছু কিছু জায়গায় সবজির বাগান করারও চেষ্টা করছি। আরেকটা বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, আমরা কতটুকু পাওয়ার কম ব্যয় করছি। আপনি যত কম পাওয়ার খরচ করবেন, সেটিকে তত বেশি সাসটেইনেবল বলে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পাওয়ার ব্যয়ে আমরা সর্বনিম্ন।

কেএইচডি থেকে গ্লোবাল সিমেন্টের যে প্রোগ্রামটা হয়, সেখানে সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ ব্যয়ের জন্য আমরা পুরস্কার পেয়েছি। সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ ব্যয়ে দেশে আমরা ফুটপ্রিন্ট রেখে যেতে চাই। আমাদের নিজস্ব লজিস্টিক ফ্যাসিলিটি থাকার কারণে স্থানীয় বাজারকে আমরা সাপোর্ট করছি। ব্যাগ নিজস্ব ট্রাকে, নদীপথে আমাদের পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। সিমেন্ট লোডিং ও ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তার সবই এখানে আছে। সেজন্য আমরা আত্মবিশ্বাসী যে বাজারে চাহিদা রয়েছে, আমাদের প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। সেই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে আমাদের যাওয়া সম্ভব এবং আমরা রফতানির সঙ্গেও আছি। মোট উৎপাদনের ১ শতাংশ আমরা রফতানি করি। সেখানে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। গন্তব্য দেশের আইনি জটিলতা, ট্রাকগুলো ওয়েটিংয়ে থাকে সেখানে কিছু চার্জ যায়, সরকার এগুলোকে বিবেচনায় নিলে হয়তো আমরা ভালোভাবেই রফতানি করতে পারব। বেশি দূরে পাঠানো সম্ভব হয় না। আমাদের আশপাশে সেভেন সিস্টার্স আছে, সেখানে আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি। 

কারখানায় আমাদের প্রত্যক্ষভাবে ৮৫০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান আছে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে সিমেন্ট ট্রান্সপোর্ট, সরবরাহের কাজে নিয়োজিত কর্মী নিয়ে কর্মসংস্থানের একটি বড় বাজার এটি। আমাদের প্লান্টে সবাই এক ধরনের ড্রেস পরে। একেবারে টপ টু বটম, জিএম থেকে শুরু করে ওয়ার্কার পর্যন্ত সবাই একই ড্রেস পরে। কোম্পানি এ ড্রেস সরবরাহ করে। স্থানীয় কোম্পানি হলেও আমরা সুরক্ষার দিক থেকে এগিয়ে আছি। হেলমেট, সেফটি সুজ ও সেফটি ইস্যু নিয়ে খুবই সতর্ক। এসব সামগ্রী বিনামূল্যে কোম্পানি থেকে দেয়া হয়। পরিবেশের বিষয়ে সরকারের মানদণ্ডের তুলনায় আমরা আরো বেশি রক্ষণশীল। আমরা পরিবেশ ও নিরাপত্তা ইস্যুকে এভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছি। 

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বটগাছ পরিবেশের জন্য উপকারী। আপনারা সবুজায়নের সময় কোনো বিশেষ ধরনের গাছকে গুরুত্ব দেন? 

বটগাছ ভালো, কিন্তু কারখানার মতো জায়গায়, যেখানে মাটির নিচে অবকাঠামো থাকে সেখানে বটগাছ উপযুক্ত হবে না। বটগাছ শিকড় বৃদ্ধি করে। সেজন্য বটগাছ এখানে সমস্যা।