‘আমরা প্রমাণে বিশ্বাসী’—স্লোগান নিয়ে ২০০৪ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি। খুব ছোট পরিসরে উৎপাদন শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ সিমেন্ট খাতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতার কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। দৈনিক প্রায় ২৬ হাজার টন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি। শুধু উৎপাদনেই নয়, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ভালো মানের কাঁচামাল এবং সেবার মানসিকতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে গড়ে তুলেছে শক্ত ভিত। ব্যক্তিগত ও দেশের বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পের জন্য নিশ্চিত করেছে সুনির্দিষ্ট কম্পোজিশনের সিমেন্ট সরবরাহ।   

পণ্যের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে প্রিমিয়ার ভার্টিক্যাল রোলার মিল বা ভিআরএম প্রযুক্তির নতুন ইউনিট স্থাপনে বড় বিনিয়োগ করেছে। ডেনমার্কের এফএল স্মিথের প্রযুক্তির সর্বাধুনিক সংস্করণ এটি। এর সুবিধা হলো বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, কম কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশবান্ধব। আর এ প্রযুক্তিতে সিমেন্টের কাঁচামালসহ সব উপকরণ এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত হয় অপ্রয়োজনীয় পদার্থ নির্মূল করে সিমেন্টের স্ট্রেন্থ বাড়িয়ে তোলে।  

জ্বালানিসাশ্রয়ী হিসেবে ভিআরএম প্রযুক্তি সারা বিশ্বে এরই মধ্যে সমাদৃত। প্রিমিয়ার সিমেন্টের নতুন এ ভিআরএম স্থাপনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত ডেনমার্কের এফএলস্মিথ। সক্ষমতা বাড়ানোর এ পদক্ষেপে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে চট্টগ্রামে স্থাপিত কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় ২৭০ টন এবং ঢাকায় অবস্থিত কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় ৪৬০ টন সিমেন্ট উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর এ কর্মযজ্ঞে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করেছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি।

নির্মাণকাজ নিরাপদ করতে মানসম্মত সিমেন্ট ব্যবহার জরুরি। প্রিমিয়ার সিমেন্ট তাই আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপে কোয়ালিটি নিশ্চিত করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা এখন দৈনিক প্রায় ২৬ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানিতেও এগিয়ে যাচ্ছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। ত্রিপুরার সঙ্গে নৌবাণিজ্যেও প্রথম চালানটি ছিল প্রিমিয়ারের।