নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে। বলা হচ্ছে, এজন্য সিমেন্টের চাহিদায়ও ভাটা পড়েছে।

আমাদের নির্মাণ খাতে গবেষণার প্রয়োজন আছে। অল্প খরচে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। কেননা দেশে নির্মাণ ব্যয় এখন অনেক বেশি। পরিবেশবান্ধব ইট দিয়ে নির্মাণকাজ করা ছাড়াও বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে ভবনের ওজন কমে গেলে রডের ব্যবহারও কমে যাবে। এতে নির্মাণ খরচ কমে আসবে। কীভাবে বা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়, এগুলো নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। এসব নিয়ে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সংশ্লিষ্ট খাতের প্রকৌশলী কিংবা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন। বিশ্বব্যাপী জনপ্রতি সিমেন্টের গড় চাহিদা ৫৫০ কেজি হলেও বাংলাদেশে চাহিদা ২৩০ কেজির মতো। হয়তো আমরা এটা দিতে পারছি না। কিন্তু বাংলাদেশের যে ঘনবসতি এবং জলবায়ুর যে বৈশিষ্ট্য, তাতে আমাদের জন্য কনক্রিট কনস্ট্রাকশনই ঠিক আছে। আমাদের দেশে বৃষ্টি বেশি, আবার উপকূল এলাকায় লবণাক্ততা ও বিভিন্ন সংকটের কারণে কনস্ট্রাকশনগুলো টিকতে পারছে না। কনক্রিটের ভবন নির্মাণের দিকে আমাদের যেতে হবে।

কাস্টমস শুল্কায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তাদের প্রায়ই অভিযোগ থাকে, সে বিষয়ে আপনার মতামত কী?

বিশ্ববাজারে কাঁচামাল কয়েক বছর ধরে ৪৩-৫০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। আমরা কাস্টমসে এ রেঞ্জেই অ্যাসেসমেন্ট করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছি। কারণ ৬০ ডলার যদি অ্যাসেসমেন্ট হয়, এর সঙ্গে ভ্যাট, ট্যাক্স ও অন্যান্য ডিউটি যোগ হলে সেটা কিন্তু ভোক্তার ঘাড়ে গিয়েই পড়বে। এখন ভোক্তার ওপর চাপ পড়লে বাজারের অবস্থা নেতিবাচক হবে। ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দিলে সেটা তারা মেনে নেবে, এটা ভাবার কারণ নেই। বিক্রি এমনিই কমে আসবে। ভোক্তারও তো ক্রয়ক্ষমতার একটি ব্যাপার আছে। যদি কাস্টমস ৪৫-৫০ ডলারে অ্যাসেসমেন্ট করত, তাহলে সিমেন্টের বাজার বৃদ্ধি ইতিবাচক থাকত। আর বৃদ্ধি থাকলে কাস্টমসের সব কাভার করা যেত। সেজন্য আমরা কাস্টমস কমিশনারকে অনুরোধ জানিয়েছি। সিমেন্টের বাজার বৃদ্ধি ইতিবাচক রাখতে হলে অ্যাসেসমেন্ট সহনীয় রাখার বিকল্প নেই। যেহেতু বাজার প্রতিযোগিতামূলক, প্রতিটি কোম্পানির সিমেন্টের দাম প্রায় কাছাকাছি। সবাই মূল্য নিয়ে বেশ সতর্ক। তাই বেশি দামে সিমেন্ট বিক্রির সুযোগ নেই। কেউ যদি ওভার ইনভয়েস করে কিছু আনতে চায়, তাহলে আমরা বলব কাস্টমসকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও কেউ এমনটা করছে না। শীর্ষ থেকে সর্বনিম্ন কোম্পানিগুলোর মধ্যে অ্যাসেসমেন্টের পার্থক্য এক থেকে দেড় ডলারের মধ্যেই থাকে। কিন্তু আমরা এখন দেখছি ক্লিংকারে ১৪-১৫ ডরার পার্থক্য থাকছে। সেজন্য আমরা এনবিআরকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে বিষয়টি শনাক্ত করে। ১৪-১৫ ডলারের কারণে ভ্যাট ট্যাক্সসহ উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে, যা ঘুরেফিরে ভোক্তার ওপরই যাবে। এছাড়া যে মূল্যস্ফীতি এখন আছে, সেটা সরকারও চাইছে কমিয়ে আনার জন্য।

সিমেন্ট খাতে উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশই বসে আছে, আবার নতুন বিনিয়োগের কথাও আসছে।

সিমেন্ট শিল্পে শতভাগ ক্যাপাসিটি থাকলেও বাংলাদেশে গড়ে ৫০ শতাংশ ক্যাপাসিটি নিয়ে কাজ করছে কারখানাগুলো। এটা অসম প্রতিযোগিতা। সংস্থাগুলোর কাছে হয়তো কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। আমাদের কাছে সিমেন্ট নিয়ে যে পরিসংখ্যান আছে, সেগুলো চাইলে সরকার নিতে পারে। এসব পরিসংখ্যান সরকার যদি নেয়, তাহলে দেশে সিমেন্টের অবস্থা কী, চাহিদা কেমন, কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, দেশে কত সিমেন্ট কোম্পানি থাকা উচিত সেটা সহজে বুঝতে পারবে। আবার কেউ যদি এ খাতে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে তাকে বর্তমান বাজার সম্পর্কে ধারণা দেয়া, কীভাবে বা কতটুকু তার বিনিয়োগ করা উচিত, আদৌ তার বিনিয়োগের দরকার আছে কিনা, নতুন কোন প্রযুক্তি এখন সে ব্যবহার করতে পারবে—সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ সরকারের কাছে থাকা উচিত। আমরা চাই যৌক্তিকভাবে একটা অ্যাসেসমেন্ট করা হোক। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়ার সঙ্গে কোম্পানিগুলোও ভালোভাবে চলতে পারবে।

উৎপাদনের বড় অংশই ব্যবহার করা না গেলে এর প্রভাব কী হতে পারে?

অসম প্রতিযোগিতা নিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানকে দিন শেষে তার ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে হবে, কর্মীদের বেতন দিতে হবে, সরকারকে শুল্ক বা ভ্যাট দিতে হবে। আবার মুনাফাও করতে হবে। কোম্পানি যদি মুনাফা না করে তাহলে আগের কোনোটাই পরিশোধ করতে পারবে না। আবার মুনাফা না করে কোনো কোম্পানি যদি দীর্ঘমেয়াদে শুধু লোকসানই টেনে যায়, তাহলে ব্যবসায়ী তো এ খাতে নতুন করে আর বিনিয়োগই করবেন না। আবার মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে চাইলে কাউকে বাধাও দেয়া যায় না। তবে সিমেন্ট খাতে একটি ভারসাম্য তৈরি প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীর কাছে যদি যৌক্তিক কারণ থাকে কিংবা নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে পারেন, তবেই তিনি বিনিয়োগ করতে পারবেন কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই। এটা দেশের জন্য ভালো।

সিমেন্ট খাতে চাহিদায় ভাটা পড়লে অন্য কোনো খাতেও কি অস্বস্তি তৈরি হয়?

নির্মাণ খাত মানেই শুধু সিমেন্ট, রড বা পাথর নয়। একেবারে ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে পেইন্ট, ইলেকট্রিক্যাল আইটেম, ইনটেরিয়র ডিজাইন, স্যানিটারি ইত্যাদি সবকিছুই নির্মাণ খাতের অংশ। বর্তমানে পোশাক খাতে যদি ৪০ লাখ মানুষ কাজ করে, তাহলে নির্মাণ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে অন্তত ৬০ লাখ। বিশ্বের দিকে তাকালে বোঝা যাবে, যেখানে নির্মাণ খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, সে দেশ তত উন্নত হয়েছে। যদি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছতে হয়, তাহলে নির্মাণ খাতকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন করে দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন করা যাবে না। এ খাতের উন্নয়নেই স্বল্প আয়ের মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেয়া সম্ভব, তারা সাবলম্বী হবে। শহর এলাকা ছাড়া এখন গ্রামীণ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ায় চাহিদা থাকলেও মানুষ কাজ করতে পারছে না।

চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি সিমেন্ট খাতে কতটা প্রভাব ফেলেছে?

নির্মাণ খাত হলো দীঘমেয়াদি বিনিয়োগের অংশ। স্বল্প বিনিয়োগ করে এ খাতে টিকে থাকা সম্ভব না। এখানে বিনিয়োগ করতে হলে মানসিক স্বস্তির দরকার। এ বিনিয়োগে রিটার্ন আবার ধীরগতির। বিনিয়োগকারী সবসময় কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ কামনা করেন। তবে মূল্যস্ফীতি ভয়ানক জিনিস। পৃথিবীর যেকোনো দেশকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য মূল্যস্ফীতিই যথেষ্ট। যুদ্ধের পর ভয়ংকর কিছু থাকলে সেটা হলো মূল্যস্ফীতি। পাকিস্তান বা শ্রীলংকার দিকে তাকালেই সব বোঝা যায়। বৈদেশিক বাণিজ্যে মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সংকট এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাকে আরো সহনশীল করা প্রয়োজন। দেশে ডলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরো কৌশলী হওয়ার দরকার ছিল। ২০২১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে যখন কভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করল, তখন সরবরাহ শুরু হলো। কিন্তু জাহাজ ভাড়া বেড়ে গেল, দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেল। তখন নতুন করে কৃত্রিম সংকট শুরু হলো। এটা ধারাবাহিক ছিল না। হঠাৎ সবকিছু বেড়ে গেল। বৈশ্বিক অর্থনীতি তখন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে পড়ল। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও দেখা গেল। তখন আমরা কোনো চাপে ছিলাম না। কারণ দেশে রিজার্ভ ভালো ছিল। তখন এলসিও পাওয়া যাচ্ছিল। সে সময়ে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলসির অনুমোদন দেয়া উচিত ছিল। কোন খাতকে এলসি আগে দিতে হবে, ছোট এলসি দিতে হবে বা সাময়িক বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু সেটা সেভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। যে কারণে দেশে রিজার্ভ কমে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে নানা সংকটের মধ্যে পড়েছে। ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেয়েছেন। মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় সংকট তৈরি হয়েছে। আবার এসব বিষয় নিয়ে নেতিবাচক গুজব ছড়ানো হয়েছে। মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য কঠোর এবং এক নীতি প্রয়োগের দরকার এজন্যই ছিল, কারণ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে থাকলে সেটা সরকারের জন্য কোনোভাবেই শুভকর হতে পারে না। একটি দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির কারণে একটা দেশ ২০-২৫ বছরে পিছিয়ে যায়। এমন উদাহরণ অনেক পাওয়া যাবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরও আটকে দেয় এ মূল্যস্ফীতি। শেয়ারবাজারে যেসব বিদেশী কোম্পানি আছে তারা ডলার সংকটের কারণে ঠিক সময়মতো ডিভিডেন্ডের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। ডিভিডেন্ড দিতে না পারায় তাদের কাছে দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা চলে আসছে। এমনকি যেসব বিদেশী বিনিয়োগকারী দেশে বিনিয়োগ আগে করেছেন, তারা আর নতুন করে বিনিয়োগ করছেন না। তবে আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান পরিস্থিতি উন্নতির দিকেই যাবে। তাছাড়া চার-পাঁচ বছর যদি ব্যাংক খাত নিয়ে কাজ করা যায়, তাহলে দেশের বর্তমান সংকট স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এ খাতে উল্লেখযোগ্য আর কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা।

জ্বালানি হলো সবকিছুর প্রাণ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমাদের খরচও বেড়েছে। পৃথিবীতে এখন যে যুদ্ধ বা সংকট তৈরি হয়েছে তা জ্বালানি তেল ঘিরেই। জ্বালানি নির্মাণ খাতে অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলেছে।

সিমেন্ট খাতের পলিসি কতটা সময়োপযোগী কিংবা এর বাস্তবায়ন নিয়ে বলুন।

সিমেন্ট খাতের কাঁচামাল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। এজন্য সরকারকে আমদানি নীতিমালায় কঠোর হতে হবে। সবাইকে একই ধরনের সুযোগ দিতে হবে। বড় কোম্পানি সুযোগ বেশি পাবে আর ছোটরা কম—এ পলিসি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যেমন ধরুন এখনো প্রচুর পরিমাণে ফল আমদানি হচ্ছে। বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে দেশে কি এর এত আমদানি প্রয়োজন আছে। আমি যেকোনো কিছু আমদানি করতে চাইলেই সেটা করতে দিতে হবে—অন্তত সংকট পরিস্থিতিতে এমনটা না হলেই ভালো। যেটা প্রয়োজনীয় এবং যার চাহিদা আছে এমন পণ্য আমদানিতে সরকারকে উৎসাহিত করতে হবে। অযাচিত পণ্য আমদানি করে যাতে ডলার সংকট না বাড়ে, সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। কসমেটিকস আমদানিতেও দেখছি একই পরিস্থিতি। এখন সরকারের ভেবে দেখা উচিত কসমেটিকস আমদানি বাড়নো হবে, না দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জরুরি দরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিলাস পণ্যের দরকার আছে, কিন্তু কতটুকু দরকার সেটাও নির্ধারণ জরুরি। আরেকটি বিষয় বলতে হয় ২০০৮ সালের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারুণ স্থিতিশীলতা ছিল। আমাদের মতো একটি দেশে এমন স্থিতিশীলতা কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু ২০২০ পরবর্তী কভিড-১৯ ও বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে আমাদের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বেশ নষ্ট হয়েছে। দক্ষ নেতৃত্ব সমস্যাটির সমাধান করতে পারে। ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ঠিক করা, পলিসিগুলো প্রয়োগ করা, শেয়ারবাজারের দিকে নজর দেয়া গেলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে ব্যাংক খাতের যে অবস্থা, তাতে আমরা হতাশ। এমন পরিস্থিতি আগেও দেশে এসেছে। আবার উত্তরণও হয়েছে। ঢাকা টোবাকোর কথা আমরা বলতে পারি। ১৯৮০ সালের দিকে ৮০ বা ৮২ লাখ টাকা দিয়ে আকিজ সাহেব কিনে নিয়েছিলেন। সম্ভবত জনতা ব্যাংককে ম্যানেজ করেই তিনি কিনে নিয়েছিলেন। সেটা পাঁচ-সাত বছর আগে দেড় বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এমন পরিকল্পনা করে চালালে ব্যাংকের পরিস্থিতিও পরিবর্তন করা সম্ভব।

উৎপাদন ব্যবস্থায় অনেক উদ্যোক্তাই নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছেন। এক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কী?

নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করেছি। পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট তৈরিতে কাজ করেছি। এখনকার সিমেন্ট একেবারেই যুগোপযোগী। ফ্লাই অ্যাশ ছাড়াও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবে আমরা পেরেছি। আমরা চাই সরকারকে ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে সহযোগিতা করতে। আমাদের কোম্পানিও তো চলতে হবে। তবে স্বল্প খরচে কনস্ট্রাকশন করতে হলে সরকারকে নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন
চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান রাশেদ এইচ চৌধুরী