আব্বা খুব ভালো ছাত্র ছিলেন। ম্যাট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েটে স্ট্যান্ড করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে বের হন। সফল ক্যারিয়ার তৈরি করেছেন তিনি। ঢাকা কলেজে পড়ান দুই বছর। তারপর সিভিল সার্ভিসে ঢুকলেন। কয়েক বছর চাকরি করে আমেরিকার হার্ভার্ডে পড়তে গেলেন। দেশপ্রেমিক মানুষ। সেখানে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ থাকতেও চলে এলেন দেশে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে দেশে আসতে বলেছিলেন। তিনি দায়িত্ব সামাল দিয়েছেন সেক্রেটারিয়েট এবং বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে।
আব্বাকে দেখেছি রোল মডেল হিসেবে। আব্বা-আম্মার পক্ষে যতদূর সম্ভব আমাদের লেখাপড়া করাতে চেষ্টা করেছেন। অবশ্য তাদের মতো ভালো ফল করতে পারিনি। কিন্তু খারাপও ছিলাম না। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছি। পরে লন্ডন থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে মাস্টার্স করেছি।
আব্বা তো সবসময় ক্যারিয়ার ও কাজের মধ্যে থাকতেন। শাসন করতেন সাধারণত আম্মা। তবে আব্বা অফিস থেকে ফিরে সময় দিতেন। এখন নাতি-নাতনিদের আদর করেন। বাসায় এলেই তাদের খোঁজ করেন আগে। যখন আমেরিকায় থাকতাম, আম্মার অফিসে থাকার সময় আব্বা রান্না করে ও খাবার গরম করে খাওয়াতেন। আব্বার সেন্স অব হিউমার বেশ ভালো। মাঝে মাঝে কৌতুক শোনাতেন। স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। আমি ইন্ডিয়ার বোর্ডিং স্কুলে থাকতাম। আব্বা মালদ্বীপ গেলে আসার সময় দেখে আসতেন। এক সময় অ্যাজমা ছিল, সে সময় হসপিটালে ছিলাম, আব্বাও সঙ্গে ছিলেন। এটাও স্মরণীয় স্মৃতিগুলোর একটা।
আব্বা সবসময় দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেছেন। ব্যুরোক্রাসিতে ছিলেন। পরে উপদেষ্টা হন। আমাদের জন্য বিষয়টা খুব গর্বের। সবসময় দেশকে ভালোবেসেছেন। দেশের জন্য কাজ করেছেন সততার সঙ্গে। তার সঙ্গে সময় কাটানো হয় ভালো। আমি খবরের কাগজ মনোযোগ দিয়ে পড়ি। প্রতি রাতে সেটা আব্বার সঙ্গে আলোচনা করি। কিন্তু তিনি তো ব্যস্ত থাকেন। ঘোরাঘুরির সময় পাওয়া যায় না। আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি আসছিলেন। আব্বা তাদের দেখে রাখলেন। বাচ্চাদের খুব আদর করেন। কোলে নেন। একটা স্মৃতি মনে আছে। যখন আমার বাচ্চার জন্ম হলো আব্বা খুশিতে দৌড়ে গিয়েছিলেন দেখতে।
আব্বাকে আমরা হাইলি অ্যাডমায়ার করি। সফল একজন মানুষ। লেখাপড়ায় ভালো। ক্যারিয়ারে ভালো করেছেন। দেশের জন্য কাজ করে চলছেন। আব্বা ও আম্মা দুজনেই সামর্থ্য অনুযায়ী পথ নির্দেশ করেছেন। আমার স্কুল-কলেজ ছিল ভারতে। তারা চেষ্টা করেছেন একটা ভালো জীবন দেয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন থেকে লেখাপড়া শেষ করে বের হলে দুজনেই খুব খুশি হয়েছিলেন। লন্ডনে আমার কনভোকেশনে আম্মা গিয়েছিলেন। ব্যস্ততার জন্য আব্বা যেতে পারেননি।
ইচ্ছা ছিল মাস্টার্স শেষ করে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার। কিন্তু আব্বা-আম্মা বললেন, তুমি একমাত্র ছেলে। দেশে না থাকলে কেমন হবে। ওটা শুনে চলে এলাম। তাছাড়া আমার সাবজেক্ট ছিল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ। এটা দিয়ে দেশেও ভালো করতে পারব বলে মনে হলো। এজন্যও চলে আসা।
ফয়সাল এম রহমান: ড. মসিউর রহমানের পুত্র ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনা





