ডক্টর মসিউর রহমানকে নিয়ে অনেক কিছু্ই বলা যাবে। তার শিক্ষা-দীক্ষা, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন অনেক কিছুর মধ্যেই আমি ওনাকে দেখেছি। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। বিশেষ করে তিনি যখন ইআরডি (ইকোনমিক রিলেশনস ডিভিশন) এবং ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউয়ে কাজ করেন, তখন আমার সঙ্গে ওনার সম্পর্ক হয়। তিনি আমাদের জন্য অনেক সাপোর্টিভ ছিলেন। তিনি সবসময় টু দ্য পয়েন্টে কথা বলতেন। অনেক সময় প্রাইভেট সেক্টরে আমরা চাই যে কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট করে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের কিছু সুযোগ করে দেয়া। এ বিষয়ে ওনার সঙ্গে অনেকের দ্বিমত হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে, সরকারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে ওনাকে যেভাবে দেখেছি তার কারণে ওনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক এখনো অটুট। মসিউর রহমান বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন।
আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গে ওনার একটা যোগাযোগ ছিল, এখনো উনি সেভাবে নিজেকে পরিচালনা করছেন। সরকারের যে অর্থনৈতিক পলিসি সেখানে তার ভূমিকা রয়েছে, সেভাবে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ যদি আরো বাড়ে, তা আমাদের জন্য আরো ভালো হবে। আমার মনে হয় ওনার এরিয়া অব অপারেশন ম্যাক্রো লেভেলের পলিসি মেকিংয়ে সীমাবদ্ধ। আমি মনে করি প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে ওনার অ্যাডভাইজেটরি সার্ভিসটা যদি আরো এক্সটেন্ড করেন আমরা অনেক বেশি উপকৃত হব। আমি ওনার দীর্ঘায়ু কামনা করি, উনি দেশ ও জাতির জন্য আরো অবদান রাখুন। উনি যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন তখন থেকে ওনাকে দেখেছি। আমি মনে করি ওনার মতো মানুষ আমাদের সরকার বা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিঃসন্দেহে ড. মসিউর রহমান দেশের একজন নোটেবল অর্থনীতিবিদ। হার্ভার্ড, কেমব্রিজসহ বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন, রিসার্চ করেছেন ও পিএইচডি করেছেন। বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। ওনার অনেক পাবলিকেশন আছে। অনেক আর্টিকেলও তিনি লিখেছেন। ওনার একটা পাবলিকেশন ছিল শ্রীলংকার অর্থনীতির ওপর। আমাদের অর্থনীতির ওপর ওনার অনেক কাজ রয়েছে। আমাদের একটি আলাদা মন্ত্রণালয় রয়েছে মিনিস্ট্রি অব ফাইনান্স ও এক্সটার্নাল ডিভিশন আর অ্যাডভাইজরি অফিস তো আলাদা। তিনি একজন অ্যাডভাইজার। এ দুটো অফিসের যাতে ক্ল্যাশ না হয়, তাই আমার মনে হয় একত্রে কাজ করলে আরো বেশি কাজ করা যাবে। এ অফিসগুলোকে আলাদা না করে একত্র করে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যওয়া যায়। তাহলে জাতীয় অর্থনীতিতে আরো অবদান রাখা যাবে।
বেসরকারি খাতে ওনার ভূমিকা পার্টিকুলারলি ডিফাইন করা যাবে না। কিন্তু ম্যাক্রো লেভেলে ওনার যে অ্যাডভাইস, গাইডেন্স টু দ্য পলিসি মেকিং অব গভার্ন্যান্স, মোর ইম্পরট্যান্ট টু দ্য প্রাইম মিনিস্টার সেগুলোর রিফ্লেকশন ন্যাশনাল পলিসিতে আসে। ওনার অ্যাডভাইজরি ক্যাপাসিটিতে উনি প্রাইম মিনিস্টারের অফিসে, প্রাইম মিনিস্টারের সেক্রেটারিয়েটে, অর্থ মন্ত্রণালয়েও তিনি তার অ্যাডভাইস, গাইডেন্স দেন। আমরা বাইরে ভালো ব্যবসা করি, কিন্তু সাউথইস্ট এশিয়ায় আমাদের ব্যবসার পরিধি কম। সেটাকে আরেকটু বাড়ানোর জন্য তিনি কাজ করছেন।
আমি ১৯৮৫ সালে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ছিলাম। ’৯২, ’৯৩, ’৯৪ সালে ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ছিলাম। আর আইসিসিতে আছি ২৯ বছর। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ওনার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাই আমি পরিচিত। উনি অবশ্য এর বাইরেও কিছু কাজকর্ম করেছেন। ওনার সঙ্গে পলিসি ইস্যুতে আমার অনেক কথা হয়েছে। যখন একজন আরেকজনকে পছন্দ করে তখন সেটা তার থেকেও ছাড়িয়ে যায়। সেজন্যই আমাদের সম্পর্কটা আজ পর্যন্ত আছে। বিকজ অব ক্লোজ অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইচ আদার।
অর্থনীতির বাইরে তিনি একজন মানবিক মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক অনেক ভালো ছিল। দে আর ভেরি গুড পার্টনার্স। পলিসি ইস্যুজের ক্ষেত্রেও তারা এক অন্যকে সহায়তা করতেন। এসব ইকোনমিক ইস্যু ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ওনার সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে।
মাহবুবুর রহমান: প্রেসিডেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ





