দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রেল রুটগুলোর অন্যতম ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা। এ রুটে প্রতিদিন আন্তঃনগরসহ ১২টি ট্রেন চলাচল করে। কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন সার্ভিস চালুর পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত, জনপ্রিয় ও লাভজনক রেল রুট। শুরুতে ট্রেনের সংখ্যা কম থাকলেও রেলের পরিকল্পনা ধীরে ধীরে চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন সার্ভিস বাড়ানো। এমনকি ঢাকা, সিলেট, চাঁদপুরসহ অন্যান্য জেলার ট্রেনগুলোর গন্তব্য স্টেশন চট্টগ্রামের পরিবর্তে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ১২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে রয়েছে দুই জোড়া বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন। সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস নামের ট্রেন দুটি যাত্রীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। চট্টলা এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলী, তূর্ণা নিশীথা, মহানগর প্রভাতী ট্রেন আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে যাত্রী পরিবহন করে। এছাড়া ঢাকা মেইল প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে খুবই জনপ্রিয় ট্রেন হিসেবে পরিচিত। একইভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ও জনপ্রিয় রুটগুলোকেও কক্সবাজার পর্যন্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা 

চলছে। চট্টগ্রামে সর্বশেষ গন্তব্য হিসেবে আসা আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিতকরণ, সিলেট-চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেন সার্ভিস চালুর মাধ্যমে রুটটিকে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ও জনপ্রিয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় রেলওয়ে। এজন্য কোচ ও ইঞ্জিন আমদানি ছাড়াও হাতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প।

চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী, আখাউড়া থেকে ভৈরব বাজার পর্যন্ত ব্রড গেজে রূপান্তর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ব্রডগেজে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের সংখ্যা ২০টিতে উন্নীত হতে পারে বলে মনে করছে রেলওয়ে। এজন্য রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী লোকবল সংখ্যা ২৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪৭ হাজারে উন্নীতের পাশাপাশি রোলিং স্টকে থাকা কোচ ও ইঞ্জিনের পরিমাণ দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে সরাসরি (চট্টগ্রামে বিরতি) একটি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিসের পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ট্রেন সার্ভিসটি চালু হতে পারে। আর প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার পর প্রতিদিন ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে দুই জোড়া, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে চালানো হবে দুই জোড়া কমিউটার ট্রেন। আসন্ন রেলওয়ে ওয়ার্কিং টাইম টেবিল-৫৩-এ নতুন প্রস্তাবিত ট্রেনগুলোর সংযোজন করা হবে।