যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির সরকার ও জনগণকে আমি ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। দিনটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সঙ্গে আমাদেরও খানিকটা সাযুজ্য আছে। যুক্তরাষ্ট্র আজকে বিভিন্নভাবে পৃথিবীর সামনের সারির দেশ হলেও আমাদের মতো যুদ্ধ করে তাদের দেশ স্বাধীন করতে হয়েছে। কাজেই তাদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্যও অনেক মূল্য দিয়ে আসতে হয়েছে, যেটা আমাদের ক্ষেত্রেও হয়েছে। তাদের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে আমাদের আত্মত্যাগের চিত্র মানসপটে ভেসে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহুমুখী, বহুস্তরভিত্তিক। গত ৫১ বছরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বিস্তৃত হয়েছে এবং গভীর হয়েছে। কিছুটা গুণগত পরিবর্তনও হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপিত হলো। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুভেচ্ছাবাণী দিয়েছিলেন। সে সময় বাংলাদেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ঘটনাগুলোর প্রশংসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে উভয়ের জন্য উপাদেয় সম্পর্কের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।
স্বাধীনতার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল অনুদাননির্ভর। খাদ্য, আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে দেশটি আমাদের সহায়তা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা যেমন ছিল, সেখানে হয়তো এটা প্রয়োজন ছিল। তারপর একটা সময় এল আমরা অনুদাননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বাণিজ্যনির্ভর সম্পর্কে উঠে এলাম। এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উপাদেয় অবস্থানে আছে। কারণ এখনো যুক্তরাষ্ট্র একক দেশ হিসেবে আমাদের রফতানি তথা আরএমজি খাতের এক নম্বর গন্তব্য।
স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে দেশটির বিনিয়োগের আরো বেশি সুযোগ আছে। আরেকটি যে বিষয়ের কথা বলতে হয় তা হলো মানুষে মানুষে যোগাযোগ। বাংলাদেশের এক মিলিয়ন নাগরিক এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। এখন যেহেতু জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীর গোড়াপত্তন হয়েছে একই সঙ্গে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হচ্ছে। সেসব জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তরুণ প্রজন্মের যোগাযোগ এবং সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করবে।
আমার ধারণা হচ্ছে, আগামী দিনে এ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ আছে। এতসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী রাখতে হবে। তার অন্যতম উপাদান হচ্ছে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দল এবং ভোট প্রদানের উপযুক্ত সব নাগরিকের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে।





