সময়ের সঙ্গে বদলেছে আমাদের রুচিবোধ। একটা সময় ছিল যখন বাসনকোসনের ক্ষেত্রে উপাদান হিসেবে শুধু স্টিল কিংবা মেলামাইনকেই প্রাধান্য দেয়া হতো। বর্তমানে সেখানে দেখা দিচ্ছে পরিবর্তন। এখনকার রাঁধুনিরা ভেঙেছে নিয়মের শেকল। একইভাবে রান্নাঘরে লাগছে পরিবর্তনের ছোঁয়া।

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের তাগিদে মানুষ পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবার ও চলাফেরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বাসনপত্র ব্যবহারেও আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে। কেননা রুচিসম্মত বাসনপত্র স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক সব বাসনপত্রের মধ্যে দেখা মিলছে মাটি, সিরামিক, কাঠ, সিলিকন ইত্যাদির তৈরি তৈজসপত্র। পরিবেশবান্ধব বাসনকোসন তৈরিতে ব্যবহার হয় না উচ্চমাত্রার ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ। তাই রান্নাঘরে এগুলো ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে।

আগেকার সময়ে স্টিলের বাসনকোসনের ব্যবহার ছিল অতি সাধারণ বিষয়। সে সময় প্রতিটি বাসাবাড়িতেই এসব বাসনকোসনের ব্যবহার ছিল। সেক্ষেত্রে রান্নাঘরে প্লেট থেকে শুরু করে গ্লাস ও বাটি, এককথায় নিয়মিত ব্যবহারের জন্য যা প্রয়োজন তার সবই ছিল স্টিলের। সে সময় এসব স্টিলের বাসনপত্রের মধ্যে ছিল এক আভিজাত্য। স্টিল ছাড়াও তখন সিরামিক কিংবা কাচের বাসনপত্র থাকলেও তার ব্যবহার হতো না সাধারণত, বিশেষত অতিথি আপ্যায়ন ছাড়া। সে ভাবনাতেও বর্তমানে এসেছে পরিবর্তন। এখনকার রাঁধুনিরা সাধারণ জীবনযাপনের জন্যও সব ধরনের বাসনপত্র ব্যবহারে আগ্রহী।

বর্তমানে ট্রেন্ডে থাকা বাসনকোসনে এখন দেখা যাচ্ছে বেশ বৈচিত্র্য। সে পুরনো দিনের গোল আকৃতির থালা-বাটির ব্যবহার এখন আর নেই! পরিবর্তন এসেছে চায়ের কাপের ধরনেও। আগেকার সেসব রাইস বোলও এখন পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে ছড়ানো ডিশই বেশি চলছে। মুরগির রোস্ট পরিবেশন করার জন্য ব্যবহার হচ্ছে মাঝারি সাইজের হালকা গভীর বাটি। এমন করে সবকিছুতে দেখা যাচ্ছে নতুনত্বের ছোঁয়া। আপনার রান্নাঘরে আপনি কোন আকৃতির বাসনপত্র দিয়ে সাজাবেন সে স্বাধীনতা পুরো আপনার।

একসময় সিরামিকের তৈরি তৈজসপত্র আমাদের দেশে শুধু আমদানিনির্ভর ছিল। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ভিন্ন রূপ দেখা যাচ্ছে। ফলে দেশে উৎপাদনের সক্ষমতাও বেড়েছে। মুন্নু, শাইনপুকুর, শেলটেক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান এসব সিরামিকের তৈজসপত্র প্রস্তুত করে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম। যারা আধুনিকতার এ যুগে বাণিজ্যিকভাবে সিরামিক পণ্য তৈরি তো করছেই, সেই সঙ্গে নিজস্ব নকশার পণ্য তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছে। এগুলোকে নির্দিষ্ট তালিকায় রাখতে চাইলে আড়ং, ইশো, বাসনওয়ালা, আইফেইরি, দ্য ক্লে স্টেশন, প্যারাগন ইত্যাদি নাম রাখা যায়। এ পণ্যগুলোর দাম নির্ভর করে মূলত নকশা ও তৈরির উপকরণের ওপর।

স্মার্ট কিচেনে এসব বাসনকোসন শুধু ব্যবহার করলেই হবে না, সেগুলো ঠিকঠাক সংরক্ষণও করতে হবে। তা না হলে অল্পদিনেই সেগুলো তার উজ্জ্বলতা হারাবে।

চেষ্টা করুন এসব বাসনকোসন নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে।

স্মার্ট কিচেনের জন্য সাদা পাত্র ও থালাবাসন বেছে নিন। সাদা রঙটিকে শুধু রান্নাঘরের দেয়াল ও ক্যাবিনেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দরকার নেই। সাদা যন্ত্রপাতি, থালাবাসন ও ক্রোকারিজ করে তুলতে পারে আপনার রান্নাঘরকে স্মার্ট।

বাসনকোসন রাখার জন্য আলাদা ক্যাবিনেট বা র‍্যাক বানাতে পারেন। যেখানে একটি থাকে নিয়মিত ব্যবহারের বাসনকোসন আর অন্যটিতে যেগুলো কম ব্যবহার হয় সেগুলো রাখতে পারেন।