উন্নতমানের প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে সারা দেশে এক নামে পরিচিত এন মোহাম্মদ গ্রুপ। ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ ১৯৬৮ সালে আবুধাবিতে প্রথম তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বাংলাদেশে এন মোহাম্মদ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামে। বাংলাদেশের বাজারে প্রথম প্লাস্টিক চেয়ার নিয়ে আসা এ উদ্যোক্তা ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করলে ব্যবসার হাল ধরেন তার সন্তানরা। প্রায় দেড় হাজার ধরনের প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী এ প্রতিষ্ঠান আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রফতানি করছে জাপান, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয়। বাবার শেখানো ‘কোয়ান্টিটি নয় কোয়ালিটি’ নীতিকে ধারণ করে ব্যবসার পরিসর শুধু বড়ই করেননি, এনেছেন সময়োপযোগী বৈচিত্র্যও। এক ছাদের নিচে সব ধরনের বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস সেবা নিশ্চিত করতে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি করেছে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি বিল্ড বেস্টের সঙ্গে। এর আউটলেট স্থাপন করা হয়েছে নগরীর মুরাদপুরে। বিল্ড বেস্টের এ গ্রাহকসেবার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় সেবা হলো আধুনিক রান্নাঘর প্রস্তুত করে দিয়ে সেখানে স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করা। আধুনিক সেবার এ দিকটি নিয়ে কথা বলেছেন এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বণিক বার্তার চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান রাশেদ এইচ চৌধুরী

প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে এন মোহাম্মদের রয়েছে বড় অভিজ্ঞতা ও খ্যাতি। কিন্তু স্মার্ট কিচেন সেবা বিষয়টি ভাবনায় এল কীভাবে?

কভিডে অধিকাংশ সময় আমরা বাসায় বসে কাটাতাম, তখন দেখলাম রান্নাঘরের সঙ্গে নারী, পুরুষ সবারই একটা সম্পর্ক হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দিনের অর্ধেক সময় যেমন অফিসে চলে যায়, আমাদের ঘরে থাকা মা বা স্ত্রী  দিনের অর্ধেকও তেমন রান্নাঘরেই কাটিয়ে দেন।  খেয়াল করলাম, যে পরিমাণ স্পেস নিয়ে কিচেনটা করা হয়েছে, ম্যানেজমেন্টটা আসলে সেভাবে হচ্ছে না। তখনই মূলত নতুন কিছু করার ভাবনা মাথায় আসে। ভাবতে থাকি রান্নাঘর নিয়ে কিছু করার কথা। কভিডের সময় থেকেই কিচেনের আধুনিকায়ন নিয়ে কাজটা আমরা শুরু করলাম। কাজের ক্ষেত্রে স্পেস ম্যানেজমেন্টকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কম স্পেসের মধ্যে কতটুকু ব্যবহার করা যায় সেটি কম খরচের মধ্যে করার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া হাতের নাগালের সুবিধাগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানোর কথাও ভাবা হয়েছে। আশা করি, অনেকেই আগামী বছরের মধ্যে এ কনসেপ্ট  লুফে  নেবে। 

আপনি বলছিলেন, গতানুগতিকভাবে স্পেস নিয়ে কিচেনটা করা হয়েছে, ম্যানেজমেন্টটা আসলে সেভাবে হচ্ছে না।

আমরা দেখি বাসায় একটা বিশাল জায়গা নিয়ে রান্নাঘরটা করছেন কিন্তু তার সঠিক ব্যবহারটা হচ্ছে না। একটা রান্নাঘর থাকবে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ, যার প্রতিটি কর্নার আপনার নাগালের মধ্যে থাকবে। এমনকি রান্নাঘরের ওপরে হ্যাঙ্গিং যে অংশটা রয়েছে, ওখানে নাগাল পাওয়া যায় না বলে অনেক কিছু করতে পারা যায় না। এখানে পানির সদ্ব্যবহারের একটি বিষয় আছে, সেই সঙ্গে তা পরিবেশবান্ধব হতে হবে। অল্প বাসনকোসন পরিষ্কারের জন্য বড় ডিশওয়াশার ব্যবহার করতে হয় না। স্মার্ট কিচেনে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, সেখানে স্পেস ম্যানেজমেন্টের জন্য দেখা হয় কোনটা সবচেয়ে স্লিম। যেন একই সঙ্গে অনেক কিছু, যেমন ডিশওয়াশার, বিল্ডেড ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন সবই অল্প জায়গায় হয়ে যায়। এটাও ব্যয়বহুল, কিন্তু সর্বশেষ প্রযুক্তির। প্রথাগতভাবে চাইলেই একটা মাইক্রোওয়েভ কিনে আনলেন, কিন্তু সাইজ আপনার রান্নাঘরে ফিট করল না। কিন্তু এটায় জায়গাটা থাকবে বিল্ডেড। একটা ফ্যামিলির জন্য যতটুকু মাইক্রোওভেন সাইজ দরকার, ততটুকু রাখার জায়গা থাকবে সেখানে। আবার এটাকে কাস্টমাইজ করা যাবে। আপনি যখনই স্পেশাল সাইজ চাইবেন, যেমন ফ্রিজটা একটু বড় বা মাইক্রোওভেনটা একটু বড় সাইজ, বার্নারটা একটু বড় সাইজের লাগবে; তখন আমরা আবার সেভাবেই গ্রাহকদের কাস্টমাইজ করে  দেব। কাস্টমাইজেশন নির্ভর করে গ্রাহকের ওপর, কোন ম্যাটেরিয়াল, কোন রঙ কোনভাবে ব্যবহার করবেন ওটার মধ্যেও গ্রেড আছে। বোর্ডের পুরুত্বটাও গ্রাহক আমাদের ঠিক করে দিতে পারবেন। তিনি যে কাস্টমাইজ সাইজটা চাইবেন, সেটাই আপনাকে দেয়া হবে। আমাদের উদ্দেশ্যটা হচ্ছে মূলত গ্রাহকদের টেস্টটাকে একটু বদল করা। অল্প জায়গাকে কীভাবে বেশি কাজে ব্যবহার করা যায়। এখন মানুষ স্পেসের ব্যাপারে অনেক সচেতন। আমি মনে করি, ১০০ বর্গফুটের মধ্যে দারুণ কিচেন কেবিনেট করা যাবে।

কিচেনে টেকনোলজির ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে?

কিচেনের প্রতিটি জায়গায় সেন্সরের ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যাকে বলে। প্যানেল খোলার সঙ্গে সঙ্গে লাইট জ্বলে উঠবে। স্পর্শ ছাড়াই বার্নার চালু হয়ে যাবে, ভ্যাকুয়ামটাও অটো চালু হবে। সবই হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, অটোমেশনের সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে এখন। ডিশওয়াশার এবং বেসিন দুটোর কানেকশন কিন্তু একই। লেটেস্ট টেকনোলজির অনেক কিছু স্মার্ট কিচেন কেবিনেটের সঙ্গে যায়। এর অনেকগুলো আনটাচেবল, অনেকগুলোয় আছে সেন্সর। কেবিনেটগুলোয় মেনশন করা আছে কত কেজি লোড  নেবে। সাত কেজি নাকি ১৪ কেজি। হালকা জিনিস একটা সেলফে রাখবেন, ভারী জিনিসগুলো একটা সেলফে রাখবেন। আমাদের দেশে তো চাল খুব কমন একটি খাবার। দুপুরের খাবার হোক, রাতের খাবার হোক, সেটা লাগবেই। স্মার্ট কিচেনে কিন্তু আপনি যখন একটা প্যারামিটার সেট করে  দেবেন আপনার কত পাউন্ড চাল লাগবে এক বা দুই বেলার জন্য, এক ক্লিকেই চালটা বের হবে তখন। তাহলে আপনার সময়টাও বেঁচে গেল। কিচেন কেবিনেট অবশ্যই পানিরোধী হতে হবে। এর কোনো বিকল্প  নেই। স্মার্ট কিচেনে বিল্ডেড ফ্রিজ থাকতে পারে। ফ্রিজ যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করে রাখতে হবে এবং হাইজেনিকও রাখতে হবে। কোনো  ময়লা   বা পানি জমার  সুযোগ নেই। ১০-১৫-২০ বছর একইভাবে চলতে থাকবে। প্রতিটি জিনিসই সর্বশেষ প্রযুক্তির। স্মার্ট কিচেনে ইকো ফ্রেন্ডলি প্রযুক্তিও দেখিয়েছি আমরা। সম্প্রতি যে বোর্ডগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলো ওয়াটারপ্রুফ। দেখা যাচ্ছে যে ৫০-৬০-১০০ বছরেও এর আকারের কোনো পরিবর্তন বা কোনো সমস্যা হবে না। শীতকাল বা গরমকালে পানির কোনো সমস্যাই নেই। এর ব্যবহারে কোনো টেনশনই  নেই। 

এই কনসেপ্ট নিয়ে আগ্রহ কিংবা সাড়া কেমন পেলেন?

আমাদের ব্যবসার উদ্দেশ্য বিশেষত বর্তমান বাজার নিয়ে নয়, বরং ফিউচার মার্কেট। হয়তো এখন অনেকের সক্ষমতার মধ্যে নেই, কিন্তু পরিকল্পনা করতে পারছেন। গ্রাহকের মধ্যে চাহিদা তৈরি এবং রুচি পরিবর্তন নিয়ে আমরা ভাবছি। আমাদের মধ্যে রান্নাঘরের যে গতানুগতিক ধারণাটা আছে, তা থেকে বের হয়ে আরো মডার্ন এবং স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে যারা এ সেবা নিয়েছেন তারা অন্যদেরও জানান দিচ্ছেন। 

একটি আধুনিক রান্নাঘর সেবা প্রদানে কী কী ধরনের প্রস্তাব দিচ্ছেন?

আমাদের কাছে ২০০ ধরনের কিচেন প্রস্তাব আছে। এ ২০০ ধরনের মধ্যে গ্রাহকের যেটিই পছন্দ হবে, ৯০ দিনের মধ্যে করে দেয়া হবে। আসলে ৯০ দিন বলা হলেও ৬০-৭০ দিনের মধ্যেই এটা হয়ে যাবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমাদের তিনটি প্যাকেজ প্রস্তাব আছে। একটি হলো লাক্সারিয়াস, আরেকটি  মিডিয়াম। মিডিয়াম রেঞ্জেরটা ১৫০০-২০০০ বর্গফুটের মধ্যে হবে। খরচ হবে ৫-৬ লাখ টাকা। হাই রেঞ্জের রান্নাঘর ১ থেকে ২ কোটি টাকার মধ্যে হবে। আরেকটি হবে ইকোনমিক রেঞ্জের। সেটা হবে ফুল কাস্টমাইজড। ইকোনমিক রেঞ্জের রান্নাঘর করতে ৩-৪ লাখের মধ্যেই সম্ভব, যেটি আমাদের দেশীয় ফ্যাক্টরিতেই হবে। এ কারণে  কাস্টমাইজ হবে   দ্রুত সময়ে। যেহেতু স্থানীয়ভাবে নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে কাজ করে কাস্টমারকে দেয়া হবে এবং যেহেতু লোকাল সোর্স থেকে করে দেয়া হবে, তাই সময় এবং খরচ দুটোই কম হবে।

প্লাস্টিক পণ্য নিয়েই ব্যবসায় আপনাদের পথচলা শুরু। আবার এর ব্যবহারের বেলায় পরিবেশের কথাটাও সামনে চলে আসে।

একসময় আমার বাবা যখন প্লাস্টিকের চেয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং করা শুরু করে তখন এটাকে অনেক ব্যয়বহুল মনে হতো। তখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তত ছিল না। একটা চেয়ার ৫০০-৬০০  টাকা, ১৯৮৪ সালে এটা চিন্তাই করা যেত না। তখন একটা গাছ কাটলে তিন-চারটা চেয়ার বানানো যেত। সবাই বলে প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য থ্রেট। কারণ এটা ব্যবহার করে ফেলে দেয়। কিন্তু আমরা যে চেয়ারগুলো ব্যবহার করি এটা রিসাইকেল করা হয়। এখন গাছ কেটে চারটা চেয়ার করলে যে মূল্য পড়বে তা দিয়ে আমার ১০টা চেয়ার নিতে পারবেন। কিন্তু গাছের চেয়ার রিসাইকেল করা যাবে না।  প্লাস্টিকের পণ্য রিসাইকেল করা যাচ্ছে, গাছ কাটতে হবে না, পরিবেশও নিরাপদ। 

এক ছাদের নিচে সব ধরনের বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস সেবার কথা বলছেন।

আমাদের রয়েছে পলিমারের সব পণ্য। একটা বিল্ডিংয়ের জন্য পিভিসি বলেন, সিপিভিসি বলেন, এসডিপি বলেন—সব ধরনের বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল হয়। আমরা এটা শুরু করেছি ২০১০ সালে।  ১০ হাজার লিটারের ওয়াটার ট্যাংক পর্যন্ত আমাদের আছে। বড় ওয়াটার ট্যাংকের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। দেশে আমরা আরেকটা প্রডাক্ট এনেছি পিভিসি ডোর। এটা ওয়াটার প্রুফ এবং ইকো ফ্রেন্ডলি (পরিবেশবান্ধব)। এটার দামও রিজনেবল। কাঠের একটা দরজা সর্বোচ্চ ১০ বছর যাবে, তারপর নষ্ট হয়ে যাবে। দু-তিন বছর গেলেই বাঁকা হতে শুরু করে, আকৃতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। কিন্তু আমার পিভিসি ডোর ডে ওয়ানে   ১০ বছর পরও একই রকম পাবেন। আমরা কোয়ান্টিটিতে ফোকাস করি না। ইকোনমিক জোনে আমি বিশাল বড় জায়গা চেয়েছি, যার একমাত্র কারণ রফতানি। ১০ একর জায়গায় কনস্ট্রাকশন চলছে। এটা এক্সপোর্ট এবং লোকাল মার্কেট দু ধরনের কাজই চলবে, তবে এক্সপোর্টকেই এখানে বেশি ফোকস দেব। নিজস্ব ইকোনমিক জোন আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। এটা ভালোভাবে চললে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে।

স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রফতানির বাজার নিয়েও কাজ করছেন। এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই অবস্থান তৈরি করতে হচ্ছে নিশ্চয়ই।

আমাদের ওপর অনেক ট্যাক্স বার্ডেন আছে। ইকোনমিক জোনে ট্যাক্সের জন্য যে ছাড়টা দিয়েছে। ১০ বছর ট্যাক্সের মধ্যে পাঁচ বছর ট্যাক্স ফ্রি। ইকোনমিক জোনে আমি যখন ইন্ডাস্ট্রি করব তখন আমার প্রাইসটা রিজনেবল হবে। চীন যে প্রাইস   দেবে আমারটাও সেম প্রাইস থাকবে। একটা সময় ম্যান পাওয়ারের একটা ব্যয় ছিল। কিন্তু আমি যে প্রজেক্টগুলো করব সেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার হবে, রোবোটিক কাজ হবে। ইকোনমিক জোন আমাদের জন্য দারুণ একটা ফিউচার নিয়ে আসবে। আমি খুব আশাবাদী এটা নিয়ে। কারণ চট্টগ্রামে মাতারবাড়ী, মহেশখালীতে পাওয়ার প্লান্ট হচ্ছে, এটা হয়ে যাবে পুরো বাংলাদেশের পাওয়ার ফার্ম। টানেল হওয়ার পর চায়নিজ ইকোনমিক জোন হবে। এক্সপোর্ট হবে, বাইরের বিনোয়োগকারীরা আসবে। 

ব্যবসায় বৈচিত্র্য ও প্রসারে কোন দিকটা সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে?

দেখুন, আমরা বাংলাদেশে প্রথম প্লাস্টিক চেয়ার নিয়ে আসি। এখন বাংলাদেশের প্লাস্টিক শুধু বাইরে রফতানিই করা হয় না, এর বিরাট ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। গার্মেন্ট সেক্টরের পর এর প্লাস্টিকের বাজার অকল্পনীয়ভাবে বড় হচ্ছে। প্লাস্টিকের ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের পাশাপাশি ২০০০ সালে আমরা এক্সক্লুসিভ একটা ফার্নিচার নিয়ে আসি। ২০১০ সালে প্লাস্টিক কম্পালশন ডোর নিয়ে আসি। আমরা বাজারে পলিমারের অনেক আইটেম পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। ব্যবসায় আমরা সবসময় যে জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দিয়েছি তা হচ্ছে কোয়ালিটি। আমাদের প্লাস্টিকের কোয়ালিটি এবং ডোর কোয়ালিটি—এটাকে সবসময় আমরা ফ্রন্টলাইনে রাখছি। বিজনেস কম হলেও কোয়ালিটির সঙ্গে কখনো কম্প্রোমাইজ করিনি। আমার বাবা বলতেন, তুমি কোয়ান্টিটিতে ফোকাস করো না, কোয়ালিটিতে ফোকাস করো। কোয়ান্টিটিতে ফোকাস করলে তুমি অনেক কিছু করতে পারবা, কিন্তু সাসটেইন করতে পারবা না। আমরা খুব বেশি প্রচার করি না। আমাদের ব্যবহারকারীরাই আমাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন করে। এখন কোয়ালিটিকেই প্রায়োরিটি দিয়ে কিচেন কেবিনেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে অনেকগুলো কিচেন কেবিনেট লোকালি আছে। প্রতিটি স্টেপ বাই স্টেপ কাজ করে আমরা কোয়ালিটিকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছি, যেন চট্টগ্রামে আমরা বিশ্বের ব্র্যান্ডেড একটা প্রতিষ্ঠান করতে পারি। আমাদের বেশকিছু হাউজহোল্ড অ্যাকসেসরিজ আছে। কিচেন কেবিনেট এখন হয়তো আমরা আধুনিক চাচ্ছি। কিন্তু প্লাস্টিকের সব কিচেন ইকুয়েপমেন্ট আমাদের আছে। কিচেনের র‌্যাক আছে, প্যাডেল ডাস্টবিনগুলো আছে, কিচেনে ইউজ হয় এমন অনেক জগ-গ্লাস, ফুড বাস্কেট, ভেজিটেবল বাস্কেটও আছে।  ২০ বছর ধরে আমরা মার্কেটে এগুলো বিক্রি করছি। বড় শহরগুলোর বাইরেও দেখবেন—রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর ঠাকুরগাঁও যাবেন, দেখবেন যে দিনে যে পরিমাণ আমাদের প্রোডাকশন তাই বিক্রি হয়ে যায়। এর কারণ প্রোডাকশন কোয়ালিটি। আমাদের কোনো স্টোরেজ সিস্টেম নেই। যা প্রোডাকশন তা-ই সেল করি। আবার দেখবেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে জাপানের বাজারে সর্বপ্রথম আমরা প্লাস্টিক পণ্য রফতানি করেছি। জাপান অনেক বেশি কোয়ালিটি সচেতন, তারা কোয়ালিটির সঙ্গে কোনোভাবেই আপোস করবে না। এভাবে আমরা ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশেও প্লাস্টিক পণ্য রফতানি করছি।  দেশীয় সোর্স থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমাদের বাইরে থেকে ইমপোর্ট করতে হচ্ছে। এ জিনিসটায় ফোকাস করে আমাদের এগোতে হবে। কোয়ালিটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কীভাবে দেশীয় পণ্যকে সবার সামনে নিয়ে আসা যায়, আমরা তা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের পণ্য যাতে জাপান, জার্মান স্ট্যান্ডার্ড হয়। এমন সময়ও আসবে নিজেদের পণ্যকে জার্মানি কিংবা জাপানের সঙ্গে তুলনা করব।