জীবনযাপন সহজ করতে প্রযুক্তি যত কিছু সামনে এনেছে, তার একটি ক্রেডিট কার্ড। এটি কেবল লেনদেনকেই সহজ করে তোলেনি, সহজ করেছে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। সেদিকে মনোযোগ রেখেই ক্রেডিট কার্ডের যাত্রা শুরু করে সীমান্ত ব্যাংক। তবে আমাদের ক্রেডিট কার্ড বিশেষ কিছু সুবিধা নিয়ে এসেছে গ্রাহকের জন্য। প্রথমেই বলে রাখা ভালো, সীমান্ত ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে ইস্যুজনিত কোনো ফি নেই। রয়েছে ইএমভি চিপভিত্তিক নিরাপদ দ্বৈত মুদ্রার সুবিধা। ফি কাটা হবে না নবায়ন করার সময়ও।
আমাদের ব্যাংকের গোল্ড ক্রেডিট কার্ডধারী ও তার সঙ্গীরা বলাকা লাউঞ্জে ফ্রি অ্যাকসেস সুবিধা পাবেন। রয়েছে ক্রেডিট লিমিটের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্রি এটিএম ক্যাশ অ্যাডভান্স সুবিধা। ঋণ পরিশোধের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত সুদবিহীন মেয়াদ। এর বাইরে উচ্চছাড়, সুদবিহীন ইএমআই ও বাই ওয়ান গেট ওয়ান সুবিধা তো থাকছেই। আমাদের গ্রাহক সর্বোচ্চ দুটি সাপ্লিমেন্টারি কার্ডের সুযোগ পাবেন কোনো রকম খরচ ছাড়াই। নিয়মিত লেনদেনের খবরাখবর নোটিফিকেশন আকারে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয় গ্রাহকের কাছে এবং এর পাশাপাশি সুবিধা থাকে মাসিক স্টেটমেন্টের।
ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্ড পরিষেবা আনার ক্ষেত্রে সীমান্ত ব্যাংক বলতে গেলে নতুন। সে হিসেবে শুরুটা বেশ দেরিতেই বলতে হবে। তার পরও কিন্তু জনপ্রিয়তা অর্জনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। এর মধ্যে কিছু পরিষেবা গ্রাহকের মাঝে সাড়া ফেলেছে। ভূমিকা রেখেছে বাজারে কার্ডের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে। উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা যায় ক্রেডিট লিমিটের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্রি এটিএম ক্যাশ এডভান্স সুবিধার প্রসঙ্গ। কার্ড পরিষেবায় গ্রাহকমুখী সিদ্ধান্তটি বেশ ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে সীমান্ত ব্যাংকের। এছাড়া ক্যাশব্যাক সুবিধার মতো কিছু পরিকল্পনার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পেরেছে।
প্রতিযোগিতায় অনেক কার্ড থাকার পরও ভোক্তা কেন আমাদের কার্ড ব্যবহার করবেন, সেটা ভাবতে হয়েছে। আমরা কিছু কারণ তৈরির চেষ্টা করেছি, যেন গ্রাহক আকর্ষিত হয়। সীমান্ত ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডটি ডেবিট কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তার জন্য এডভান্স কোনো ফি রাখা হয়নি। অন্য ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে ২ শতাংশ ফি আরোপ করে। তাছাড়া নারী দিবস, রমজান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা, পূজা, ভ্যালেন্টাইন ডে, নিউ ইয়ার ও ক্রিসমাস ডের মতো উৎসবগুলোয় থাকে সর্বোচ্চ ও আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক সুবিধা। আমাদের সঙ্গে যুক্ত রিটেইল আউটলেটগুলোয় গিয়ে কার্ড ব্যবহার করে ক্রয় করলেই পাওয়া যাবে এসব সুবিধা। উচ্চছাড় রয়েছে লাইফস্টাইল শপ, রেস্টুরেন্ট, হসপিটাল ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোয়ও।
কাস্টমার বাড়ানোর জন্য বেশকিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আমরা বিভিন্ন পেশার মানুষের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়ে কার্ড চালু করার কথা ভাবছি। বিশেষ করে সরকারি চাকরি, ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কনসালট্যান্ট, আরএমজি সেক্টরের চাকরিজীবীদের জন্য থাকবে বিশেষ পরিষেবা। আশা করি, এ সিদ্ধান্তে আমাদের গ্রাহক বৃদ্ধির ভালো সুযোগ তৈরি করবে।
অবশ্য ক্রেডিট কার্ডের বাজার সম্প্রসারণে সামগ্রিকভাবে কিছু বাধা দৃশ্যমান থাকে। বিশেষ করে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক বিস্তার। যথাযথ নথিপত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশব্যাপী আবেদনকারীরের তদন্ত প্রক্রিয়া চালানোতেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিস্তৃত যোগাযোগের অভাবে গ্রাম অঞ্চলে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দেয়াটা বেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে স্বীকার করতেই হবে। সেগুলো আমরা বিবেচনায় রেখেছি। নানা রকম শর্তের কারণে সাধারণ গ্রাহক ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহারে ভীত থাকে। এই ভয়টাকেও আমরা কাটিয়ে উঠতে চাই। বেশির ভাগ গ্রাহকের ধারণা ক্রেডিট কার্ডের সুদহার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। যা যেকোনো ব্যাংকের অন্যান্য পরিষেবার চেয়ে বশি। গ্রাহকের কাছে প্রায়ই এটা একটা বোঝার মতো। বিশেষ করে যখন যখন সুদের সঙ্গে নানা রকমের চার্জ ও ফি যুক্ত হয়। ফলে ক্রেডিট কার্ডের বদলে তারা ক্যাশকেই প্রাধান্য দেয়। এদিক বিবেচনায় আমরা সুদের হার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। উদ্যোগ শুরু হয়েছে সুদের হারকে ২০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। ইস্যু করার কোনো ফি ও ক্যাশ এডভান্স ফি আরোপ না করাও এ পরিকল্পনারই অংশ। অর্থাৎ গ্রাহকের বোঝার বড় একটা অংশ লাঘব করছে সীমান্ত ব্যাংক। ধীরে হলেও এভাবে অবশ্যই গ্রাহকের ভয় থেকে বের করে আনা সম্ভব।
সাধারণ গ্রাহকের বড় একটা অংশ ক্রেডিট কার্ডকে বিপদের বন্ধু মনে করতে পারছে না। তারা ক্রেডিট কার্ডকে দেখে ব্যাংক খাতে অন্যান্য পরিষেবার চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হিসেবে। বিশেষ করে বড় বড় বিলের সঙ্গে যখন মোটা অংকের সুদ, ফি আর চার্জ যুক্ত হতে দেখে। তার ওপর পরিশোধের প্রক্রিয়াও বেশ কঠিন নিয়ন্ত্রিত। একটা মাসিক কিস্তি বাদ পড়ে গেলেই পরের মাসে দ্বিগুণ রূপ নেয়। ফলে সাধারণ মানুষ ক্রেডিট কার্ডের এখনো অতটা ভরসা রাখতে পারছে না। তার পরও আমরা চালিয়ে যাচ্ছি প্রয়াস। বর্তমানে রমজান মাস। রমজানে আমরা সীমান্ত ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারীর জন্য ক্যাশব্যাক সুবিধা রেখেছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আড়ং, ইয়েলো, অ্যাপেক্স ও কে-ক্রাফটের মতো প্রথম সারির ব্র্যান্ড থেকে ক্যাশব্যাক নিয়ে ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়া মানসম্মত হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থেকে ইফতার ও ডিনারের সময় গ্রাহক পাবেন বাই ওয়ান, গেট ওয়ান সুবিধা। আশা করা যায়, রমজানের শেষ দিকেই আমরা দেশের শীর্ষস্থানীয় মুদি দোকানগুলোকে বিশেষ ক্যাশব্যাক অফারে সংযুক্ত করতে পারব।





