মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) সবগুলো কার্ড ইএমভিকো স্ট্যান্ডার্ড মেনে কার্ড-অ্যান্ড-চিপ প্রযুক্তিতে বানানো। এমটিবির রয়েছে ডুয়াল ইন্টারফেস ইএমভি চিপ কার্ড, তাতে কনট্যাক্ট এবং কনট্যাক্টলেস ট্রানজেকশন করা যায়। আমাদের ক্রেডিট কার্ডের মূল ফিচারগুলো হলো দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারপোর্ট নেটওয়ার্কে এমটিবি এয়ার লাউঞ্জে কমপ্লিমেন্টারি প্রবেশের সুযোগ, ঢাকা এয়ারপোর্টে কমপ্লিমেন্টারি পিক অ্যান্ড ড্রপ সার্ভিস, ঢাকা এয়ারপোর্টে মিট অ্যান্ড গ্রিট সার্ভিস, লাউঞ্জকের অধীনে সারা বিশ্বের ১ হাজার ১০০টিরও বেশি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে প্রবেশের সুযোগ, আকর্ষণীয় সব রেস্টুরেন্টে কমপ্লিমেন্টারি কম্প্যানিয়ন, ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডে বছরজুড়ে এক্সক্লুসিভ সব ডিসকাউন্ট, শূন্য ইন্টারেস্ট ইনস্টলমেন্ট পারচেজ প্রোগ্রাম।

বর্তমানে এমটিবির প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ক্রেডিট কার্ড কার্যকর রয়েছে, সেই সঙ্গে রয়েছে ৩ লাখ ডেবিট কার্ড এবং ৪৫ হাজার প্রিপেইড কার্ড। নতুন নতুন গ্রাহকের জন্য প্রথম বছরে বার্ষিক ফি ওয়েভার এবং প্রমোশনের সুযোগও দিচ্ছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি আরো কিছু সুপরিচিত সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বের পরিকল্পনা করছে এমটিবি। যেন বিশেষ বিশেষ গ্রাহকের প্রয়োজন ও জীবনধারণ আরো সহজ করার জন্য কো-ব্র্যান্ডেড কার্ড সুবিধা প্রদান করা যায়। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে বেশকিছু অসাধারণ সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা করছে এমটিবি, যেন গ্রাহকদের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা আরো উপভোগ্য হয়।

ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কেনাকাটাও হয় এ সময়ে। উৎসবকে সামনে রেখে এ সময়ে বেশকিছু অফার দেয়া হচ্ছে এমটিবি ক্রেডিট কার্ডহোল্ডারদের।

এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে ইয়োলো, এক্সট্যাসি, অ্যাপেক্স, বাটা, লুবনান, রিচম্যান ও ইনফিনিটির মতো সুপরিচিত লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডে ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক ক্যাম্পেইন। মীনা বাজার, আগোরা, ইউনিমার্টের মতো গ্রোসারি স্টোরে কেনাকাটা করলে ১০ রিওয়ার্ড পয়েন্ট। ৩৩০টিরও বেশি অনলাইন ও অফলাইন মার্চেন্টের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট অফার। জুয়েলারি ও ফ্যাশন আউটলেট, রেস্টুরেন্ট, সুপারমার্কেট, লাইফস্টাইল দোকান, ট্রাভেল ও হোটেল পার্টনার এবং আরো অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকরা পাবেন এসব ডিসকাউন্ট অফার। রয়েছে বড় বড় সব হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ইফতার ও সাহরির অফারও।

গ্রাহকদের এসব অফার দেয়ার উদ্দেশ্য কেনাকাটায় আরো আকর্ষণীয় সব সুবিধা দেয়া এবং এর মাধ্যমে তাদের ঈদ কেনাকাটা আরো সহজ করা। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বেশকিছু সুবিধা পাওয়া যায় ক্রেডিট কার্ড থেকে। ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে থাকলে ভ্রমণ আরো সহজ ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। জেনে নিন কোন কোন পদ্ধতিতে বিদেশী ভ্রমণ আরো বেশি সহজলভ্য করছে ক্রেডিট কার্ড।

সুবিধাজনক পেমেন্ট পদ্ধতি: ক্রেডিট কার্ড বিশ্বব্যাপীই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য এবং এটি দিয়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক ও নিরাপদভাবে সব কেনাকাটার বিল পেমেন্ট করা যায়। ফলে ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে থাকলে নিজের সঙ্গে টাকা বহন করার দুশ্চিন্তা করতে হবে না, ফলে সেসব হারানোর বা চুরি হওয়ার ভয়ও থাকবে না।

মুদ্রা বিনিময়: ক্রেডিট কার্ডে বেশ প্রতিযোগিতামূলক মুদ্রা বিনিময় হারের সুবিধা রয়েছে। ফলে কোথাও গিয়ে আপনার মুদ্রা বিনিময় বুথ খুঁজতে হবে না বা সঙ্গে করে বিদেশী মুদ্রা বহন করতে হবে না। স্থানীয় মুদ্রায় কেনাকাটার ক্ষেত্রে আপনি খুব সহজেই নিজের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

জরুরি অর্থ: এমনকি জরুরি হলে ক্রেডিট কার্ড থেকে আপনি টাকাও নিতে পারবেন, তা দিয়ে আপনি অপ্রত্যাশিত সামনে আসা কিছু খরচ মেটাতে পারবেন। সব মিলিয়ে দেশের বাইরে ভ্রমণের সময়ে সব ধরনের পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে ক্রেডিট কার্ড। 

তবে ক্রেডিট কার্ডের বাজার সম্প্রসারণে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বর্তমানে সরকার একটা নতুন নীতি চালু করেছে। এ নীতি অনুসারে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে হলে আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র আবশ্যিক ডকুমেন্ট হিসেবে জমা দিতে হবে। এমন নীতি কার্ড ইস্যুয়েন্স হারে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শর্তের বেড়াজালের কারণেও অনেক সাধারণ গ্রাহক ক্রেডিট কার্ড নিতে ভয় পায়। এ ভয় কাটাতে বেশকিছু কার্ড প্রডাক্ট অফার করছে এমটিবি। এর মধ্যে রয়েছে প্রিপেইড কার্ড এবং ভার্চুয়াল প্রিপেইড কার্ড। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ডকুমেন্টেশন না থাকতে পারে এমন সব গ্রাহকের পরিষেবা দেয়ার জন্য এ কার্ডগুলো দুর্দান্ত বিকল্প হতে পারে। ডুয়েল কারেন্সির এসব প্রিপেইড কার্ড স্থানীয় ও বৈশ্বিক দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়। এমনকি গ্রাহকরা কার্ডটি এটিএম ট্রানজেকশনের জন্যও ব্যবহার করতে পারবেন, পাশাপাশি এমটিবির স্মার্ট ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে কিউআর কোডনির্ভর ট্রানজেকশন করতে পারবেন এবং ই-কমার্স সাইটে ট্রানজেকশন করতে পারবেন। ব্যাংক খাতের এসব পণ্যের খুবই প্রতিশ্রুতিশীল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু আকর্ষণীয় ফিচার ও সুবিধাও পাচ্ছেন গ্রাহকরা যেমন স্বনামধন্য মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিসকাউন্ট, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমের মতো স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের পেমেন্ট সহজে করা ইত্যাদি।

জরুরি পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক ধাপে ক্রেডিট কার্ড সাহায্য করতে পারে। যখন আপনার হাতে টাকা নেই তখনো জরুরি কোনো কিছু কেনাকাটায় সাহায্য করতে পারে ক্রেডিট কার্ড। ধরুন, মাঝরাতে জরুরি অবস্থায় আপনাকে হাসপাতালে যেতে হলো, কিন্তু আপনার হাতে টাকা নেই। সেই সময়ে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এসব খরচ আপনি মিটিয়ে দিতে পারেন। এমনকি হাতে টাকা থাকা দরকার হলে ফাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে আপনি কিছু টাকা তুলেও নিতে পারবেন।

তবে প্রতারকদের হাত থেকে ক্রেডিট কার্ড সুরক্ষিত রাখতে হলে গ্রাহকদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন ১. গ্রাহকদের কখনই তাদের ক্রেডিট কার্ডের পুরো নম্বর, পিন ও কার্ড ভেরিফিকেশন ভ্যালু (কার্ডের পেছনে থাকা ৩ ডিজিটের সিভিভি) কারো কাছে দেয়া ঠিক হবে না। এমনকি ওই ব্যক্তি যদি বলে যে সে ব্যাংক থেকে ফোন করেছে, তবুও নয়। তাছাড়া নিজের কার্ডের তথ্য ই-মেইলে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখা বা শেয়ার করা ঠিক হবে না।

গ্রাহকদের উচিত তাদের ক্রেডিট কার্ড নিরাপদ জায়গায় রাখা এবং অন্য কাউকে এটি ব্যবহার না করতে দেয়া। এটিএম বা গ্যাস স্টেশনের মতো পাবলিক প্লেসে কার্ড ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি শক্তিশাল৭৭ী ও ইউনিক পিন ব্যবহার করতে হবে। আলাদা আলাদা কার্ডে একই পিন না ব্যবহার করাই ভালো। কোনোভাবে কার্ড চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে শিগগিরই সেটা যথাযথ জায়গায় জানাতে হবে। অনলাইন কেনাকাটার সময় পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার না করাই ভালো। এভাবেই নিজের ক্রেডিট কার্ড সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবেন গ্রাহক।