হাইব্রিড গাড়ি নিয়ে মানুষের মাঝে যে ভয়টা ছিল এখন তা অনেকটা কেটে গিয়েছে। প্রথম দিকে দক্ষ টেকনেশিয়ানের ঘাটতি বড় সমস্যা হলেও এখন টেকনেশিয়ানদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষিত করছে বিক্রেতা কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ির সম্ভাবনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন নাভানা লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আহমেদ সাকিব।

প্রচলিত জ্বালানিনির্ভর গাড়ির সঙ্গে হাইব্রিড গাড়ির পার্থক্য কতটুকু? আর হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহারে কী কী সুবিধা আছে?

সাধারণ গাড়ি আর হাইব্রিড গাড়ির মধ্যে বড় একটা পার্থক্য হচ্ছে সাধারণ গাড়ি অকটেন, পেট্রল বা গ্যাসে চলে। আর হাইব্রিড গাড়ি অকটেন, পেট্রল বা গ্যাসেও চলে পাশাপাশি ইলেকট্রিক ইঞ্জিনটা ব্যাটারিতেও চলে। হাইব্রিড গাড়ি শুধু জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল না, এটা ব্যাটারিতেও চলতে পারে। এ হাইব্রিড গাড়ির সুবিধার কথা যদি বলি, এটার অনেক সুবিধা রয়েছে। তার মধ্যে তিনটা বিশেষ সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, টয়োটা স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে ৭০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী। দ্বিতীয়ত, এটা পরিবেশবান্ধব গাড়ি। তৃতীয়ত, এটা খুব সূক্ষ্ম ও অগ্রসর প্রযুক্তি দিয়ে বানানো, যার কারণে এটাতে সাউন্ড খুব কম থাকে। ফলে শব্দদূষণ কম হয়। এসব সুবিধার কারণে পৃথিবীব্যাপী হাইব্রিড গাড়ি অনেক জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ির সংখ্যা সীমিত। এর পেছনে কারণ কী বলে মনে করেন?

হাইব্রিড গাড়ি একটি নতুন প্রযুক্তি। যখনই মার্কেটে একটা নতুন কিছু আসে, তখন মানুষের মাঝে একটা ভয় থাকে যে জিনিসটা আসলে কী? এর কারণ সচেতনতার অভাব। প্রথমদিকে মানুষের একটা ভয় ছিল এটা মেইনটেইন করা যাবে তো? ব্যাটারিটা নষ্ট হলে কী হবে? এর সুবিধাটা কী? এসব বুঝে উঠতে মানুষের একটু সময় লাগছিল। এজন্য বাজার ধরতে কিছুটা সময় লেগেছে। মূলত হাইব্রিড গাড়ি নিয়ে সচেতনতার অভাবেই এর সম্প্রসারণ শ্লথগতির ছিল। সরকার শুল্ক কম রাখায় এটা আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে।

আপনি কি মনে করছেন হাইব্রিড গাড়ির বাজার বর্তমানের তুলনায় অনেক বড় হবে?

আমি খুবই খুশি যে সর্বশেষ ২০২১ সালে প্রায় ১৩ হাজার ইউনিটের মতো হাইব্রিড বিক্রি হয়েছে। আমরা আশা করছি এ বছর এটা প্রায় ১৫ হাজার ইউনিট ছাড়াবে। সুতরাং আপনি বুঝতেই পারছেন বাজারের আকার দিন দিন বড় হচ্ছে।

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি বাজারে টয়োটার অবস্থান কেমন?

মার্কেট লিডার হিসেবে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে টয়োটা।

হাইব্রিড গাড়ির বাজার কেমন সম্প্রসারিত হয়েছে?

২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত হাইব্রিড গাড়ির বাজার প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালের দিকে মাত্র ৫০০ ইউনিট হাইব্রিড গাড়ি বিক্রি হয়েছিল।

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা কেমন?

বাংলাদেশে সমস্যার একটা জায়গা হলো এখানে হাইব্রিড গাড়ি চার্জের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সুবিধার জায়গা হলো গাড়ি চলা অবস্থায় ব্যাটারি চার্জ হতে থাকে। গাড়িচালককে নিজে থেকে কিছু করতে হয় না। চার্জিংয়ের ব্যাপারটা অটোমেটিকেলি হচ্ছে। এছাড়া হাইব্রিড গাড়ির আরেকটা ক্যাটাগরি আছে, যেটাকে বলে প্লাগ-ইন হাইব্রিড। এ গাড়িতে এতক্ষণ যে অপশনগুলোর কথা বললাম এগুলোও থাকে, পাশাপাশি চার্জ দেয়ার অপশনও থাকে। 

হাইব্রিড গাড়ির যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে মানুষের ধারণা এখনো স্পষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে আপনার মতামত এবং আরো কী করা যেতে পারে?

আমি প্রথমে বলে নিই এটা নিয়ে মানুষের মাঝে যে ভয়টা ছিল, এটা প্রথম দিকে সত্য ছিল। কারণ প্রথমদিকে যখন গাড়িগুলো এল তখন টেকনিশিয়ানদের জ্ঞান, দক্ষতা ওইভাবে ছিল না। আমরা আমাদের টেকনিশিয়ানদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষিত করেছি। এজন্য বেশির ভাগ গাড়ি আমরা ঢাকা থেকেই সার্ভিস দিচ্ছি। এখন যেহেতু মার্কেটে বিক্রি বাড়ছে, সেহেতু অনেক বড় বড় ওয়ার্কশপেও দক্ষতাসম্পন্ন টেকনিশিয়ান বাড়ছে। মালিকরা উদ্যেগ নিয়ে এটা করছেন। তবে ঢাকার বাইরে তেমন সম্প্রসারিত হয়নি। এ জায়গায় সরকারও এগিয়ে আসতে পারে।

মধ্যবিত্তের জন্য আপনাদের কী কী গাড়ি আছে?

আমাদের সব ধরনের গাড়িই আছে। সম্প্রতি আমরা তিনটি নতুন গাড়ি এনেছি। এর মধ্যে একটা হচ্ছে রেইজ, অ্যাভেঞ্জার, ভ্যালোজ। সপরিবারে ব্যবহারের জন্য সাত সিটের ভ্যালোজ হতে পারে প্রিয় সঙ্গী।