ডা. মৃণাল কুমার সরকার

সিনিয়র কনসালট্যান্ট-অবস/গাইনি, ইনফার্টিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাকশন, কো-অর্ডিনেটর-এভারকেয়ার ফার্টিলিটি সেন্টার, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা

আইভিএফ নিয়ে আপনার আগ্রহী হয়ে ওঠার গল্পটা শুনতে চাই।

আমি মূলত গাইনোকোলজিস্ট। ১৯৮৮ সাল থেকে এ বিষয়ে কাজ শুরু করি। বিশেষজ্ঞ হয়েছি ১৯৯৩ সালে। এ দীর্ঘ সময়ে আমার একটা বিষয় মনে হয়েছে, এ দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার একটা সমস্যা আছে সেটা আমরা সবাই দেখছি, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণও করছি। অথচ সন্তানহীন থাকার কারণে কত মানুষের যে কান্না, সেটার কারণে কতজনের সংসার বিচ্ছেদসহ নানা অশান্তি তৈরি হয় সেটা আমরা সেভাবে দেখি না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের সুযোগ-সুবিধা খুবই অপ্রতুল ছিল। আমি মনে করলাম, বিষয়টি সমাধানের জন্য কারো না কারো এগিয়ে আসা দরকার। একটি মর্মান্তিক ঘটনা হলো, আমার বড় ভাই ইনফার্টিলিটির সমস্যা নিয়ে গত হয়েছেন। কারণ সে সময় এ আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। সে ঘটনাও আমাকে এ বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে এগিয়ে দিয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও অবশেষে আমরা শুরু করতে পেরেছি।

স্বাস্থ্য খাতে যারা কাজ করেন বিশেষ করে যারা বেসরকারি খাতে, সেখানে কিন্তু ব্যবসার একটা ইস্যু আছে। আমি এ বিষয়ে দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে পড়াশোনা করার পর যখন এখানে এলাম তারা কিন্তু খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল না। তারা মনে করেছিল আমাকে দিয়ে এ খাত চালু করা সম্ভব নয়। যে কারণে প্রথমে তারা বিনিয়োগ করতে রাজি হয়নি। যেহেতু তারা রাজি হয়নি আমিও এমন কোনো জায়গা পাইনি আমার কাজটা দেখানোর জন্য। যা-ই হোক, এখন আমি খুশি, এ প্রতিষ্ঠানকে আমি বোঝাতে পেরেছি। তারা আমার কর্মক্ষমতা ও যে জায়গায় কাজ করেছি সেটি যাচাই করেছে, সবশেষ তারা সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে নিয়ে যাত্রা করা যেতে পারে। শুরু করার পরে ব্যবসার জায়গা থেকে তাদের আর হতাশ হতে হয়নি। অন্তত যাদের সেবা দিয়েছি তাদের প্রতিক্রিয়া এ প্রতিষ্ঠান ভালোভাবেই নিয়েছে। অন্যথায় আমার এ সেবা অব্যাহত রাখতে পারতাম না। তার পরও ভবিষ্যতে আমরা আরো কীভাবে সেবা বাড়ানো যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করছি।

আপনাদের সেন্টারে এ-সংক্রান্ত কী কী সেবা দেয়া হচ্ছে? পাশাপাশি আইভিএফ চিকিৎসায় ব্যয় কেমন হতে পারে?

আমরা এখানে আলোচনা করছি আইভিএফ নিয়ে। কিন্তু আপনাকে জানতে হবে আইভিএফ হলো বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার একটি ছোট্ট অংশ মাত্র। ছোট অংশ বলতে, যদি ১০০ জন দম্পতি আসে তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাতজনের এই আইভিএফের প্রয়োজন হয়। আর বাকিদের কম খরচের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সন্তান জন্মদান করানো সম্ভব। অথচ আমরা একটি বদনাম কামাই করে ফেলেছি, বন্ধ্যাত্ব মানেই হলো আইভিএফ করাতে হবে। আমাদের পাশের দেশের কিছু এজেন্টরা এটি বেশি করেছে, কারো বন্ধ্যাত্ব হলেই রোগীদের বোঝানো হচ্ছে আমাদের দেশে আসেন, আমাদের সেন্টারে আসেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আপনার আইভিএফ করে দেয়া হবে। এটি অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে আমাদের। অথচ বন্ধ্যাত্বের মাত্র ৫-৭ শতাংশ দম্পতির এ চিকিৎসা নিতে হয়।

তবে আইভিএফ চিকিৎসা একটু ব্যয়বহুলই বলব। যেহেতু বেসরকারি পর্যায়ে এ কাজ করতে গেলে বা গুণগতমান রক্ষা করতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রায় আড়াই লাখ টাকা চাহিদা থাকে। পাশাপাশি তাদের ওষুধ কিনতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে ব্যয় পার্থক্য হয়। যেমন ৩০ বছরের একজন নারী যখন আইভিএফ করবে তার হয়তো ওষুধের খরচ ৬০ হাজার টাকা যেতে পারে। কিন্তু ৪০ বছরের কোনো নারীর যখন আইভিএফের প্রয়োজন হবে তখন তার এ ব্যয় বেড়ে চলে যাবে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। এটা আমরা গড়ে বলতে পারি ১ লাখ টাকার মতো ওষুধের প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে প্রায় তিন থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে একজন নারীর শুধু একবার গর্ভধারণের চেষ্টা করতে।

আইভিএফের সাফল্য কেমন? প্রথমবারই কি সাফল্য পাওয়া যায়?

দেখুন বিশ্বের কোথাও প্রথমবারই যে দম্পতিরা সাফল্য পেয়ে যাবেন এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আইভিএফের সাফল্য নির্ভর করে কিছু বিষয়ের ওপর। যেমন নারীর বয়স, স্পার্মের কোয়ালিটি বা কেমন ভ্রূণ আমরা তৈরি করতে পেরেছি সেটির ওপর। এক্ষেত্রে ট্রান্সফারের সময় এটির সাফল্যের হার ৪০ শতাংশ। কোনো নারীর শরীরে বেশি ডিম তৈরি হলে তা সংগ্রহ করে বেশি ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে সাফল্যের হার ৭০-৮০ শতাংশ হয়ে যায়। আমরা যদি ১০-১২টা ভ্রূণ তৈরি করি তাহলে সবগুলোই প্রথমে কাজে লাগানোর প্রয়োজন মনে করছি না। একটি বা দুটি ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়, বাকিগুলোকে আমরা সংরক্ষণ করে রাখি। এগুলোকে ১০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। চাইলে পরবর্তী সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে আবারো এগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ আছে।

কিন্তু আমি যদি মাত্র দুটি ডিম পাই তার সাফল্যের হার ৪০ শতাংশের বেশি পাব বলে মনে করি না। অনেকে অপপ্রচার চালান যে, তাদের ৮০-১০০ শতাংশ সাফল্যের হার। এটি হলো এ দেশের মানুষকে বোকা বানানোর প্রচেষ্টা। বিভিন্ন দেশ থেকে এজেন্টরা এসে এসব প্রোপাগান্ডা চালায়। তাদের এসব কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এসব অপপ্রচারে যেন কোনো রোগী প্রতারিত না হন। যা-ই হোক, যে খরচটা বললাম এটা একজন নারীর গর্ভধারণ পর্যন্ত এ ব্যয় হবে। গর্ভধারণের পর অন্যান্য নারীদের স্বাভাবিক যে ব্যয় হয় আইভিএফ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা নারীদের একই ব্যয় হবে। বাড়তি ব্যয় হবে না।


আপনাদের কাছে যেসব রোগী আসে তাদের মধ্যে আইভিএফ নিয়ে কোনো ধরনের কুসংস্কার আছে কিনা?

কিছু কুসংস্কার আছে। যেমন আমাদের কাছে যারা আসছে তারা পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে জানাচ্ছে না। লুকিয়ে লুকিয়ে আসছে তারা। এটির দুটি কারণ হতে পারে। তারা একান্তভাবে চিকিৎসা নিতে চায়। আরেকটি দিক হলো, পুরুষটি আগে দেখে নারীর কোনো সমস্যা আছে কিনা। যদি না থাকে তাহলে তার পরীক্ষা করায়। এসব কারণে গোপন রাখে তারা। যখন নারীর মধ্যে কোনো সমস্যা পায়, সঙ্গে সঙ্গে স্বামীটি দ্বিতীয় বিয়ের দিকে চলে যায়। ভাবে, এত টাকা দিয়ে আইভিএফ চিকিৎসা কেন করাবে। এই ডমিনেটিং বিষয়গুলো তাদের আছে। আইভিএফের ব্যাপারে আর একটা ধারণা আছে যে, এটা তাদের নিজস্ব স্পার্ম বা ডিম কিনা। এই ইস্যুটা অনেকের মাথায় আছে। তবে ধীরে ধীরে এটা অনেকটা কমে যাচ্ছে।

আমি আপনার কাছে আইভিএফ নিয়ে একটা স্মৃতি জানতে চাই যা আপনার মনে আছে। অথবা এ রকম কোনো ঘটনা যদি থেকে থাকে যা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে, সমস্যাটার সমাধান থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে কাজে দেবে।

একবার নোয়াখালী অঞ্চলের এক দম্পতি এল। স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন ১৮ বছর ধরে। তারা ১৬ বছর ধরে বিবাহিত। উনি বছরে একবার আসেন। এক-দুই মাস থাকেন। আবার চলে যান। সন্তান হচ্ছে না। কিছু পয়সা হয়েছে। উনারা সার্টিফিকেট নিতে আসছেন আমার কাছ থেকে। যে লিখে দেন ডাক্তার সাহেব, সন্তান হবে না। অনেক চেষ্টা তো হলো। এটা হলো ক্লিয়ারেন্স। সে দ্বিতীয় বিয়ের চিন্তাভাবনা করছে। স্ত্রী কান্নাকাটি করেন। আমরা আলাদাভাবে আলোচনা করি স্ত্রীর সঙ্গে এবং স্বামীর সঙ্গে। পরে আবার দুজনকে নিয়ে বসি। এটা আমাদের স্ট্র্যাটেজি। কারণ অনেক কিছু আছে মেয়ে বলতে পারে না। অনেক কিছু আছে ছেলে বলতে পারে না। এবং ওই তথ্যগুলোর গোপনীয়তা আমরা মেনে চলি। সিঙ্গাপুরের মতো। শুরু থেকেই আমরা এটা মেনে চলি। যখন সে সবকিছু বলল, যে আমার সন্তান হচ্ছে না। আর উনি রাখবেন না। তারপর আমি ব্যক্তিগতভাবে বললাম, আমাকে কিছুদিন সময় দেন। অন্তত ছয় মাস সময় দেন। আমি অন্তত চেষ্টা করি। পরে যা করার করবেন। কারণ সে জেদ ধরেছে বিয়ে করবে। তো ছয় মাসের মধ্যে তৃতীয় মাসে তার একটা সন্তান এল। তার যে অভিব্যক্তি, যেভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া দিলেন গর্ভধারণের সময়ে, তা অতুলনীয়। যাহোক, সে বিয়ে টিকে আছে। এখনো টিকে আছে। এবং তার একটা সন্তান আছে। এর পরও আবার চেষ্টা করেছিল, আমরা পারিনি। কিন্তু পরিবারটা এখনো আছে। আমরা মনে করি, এই যে তাদের একটা অস্থিতিশীল অবস্থা, এটি পরিবর্তনে সামান্য কিছু অংশীদারত্ব যদি আমাদের থাকে, এর চেয়ে বেশি পাওয়ার মতো আমাদের কিছু নেই। এটা আমাদের অর্জন, আমাদের সন্তুষ্টি। শুধু আমার জন্য নয়, আমি মনে করি, আমার টিমে যারা কাজ করেন তারা সবাই নিষ্ঠা সহকারে কাজ করেন। এ জিনিস কেনা যায় না। এ জিনিস পয়সা দিয়ে পাওয়া যায় না।

আইভিএফ পদ্ধতিতে যে শিশুগুলো জন্মগ্রহণ করে, তাদের কি পরবর্তী সময়ে শারীরিক কোনো জটিলতা তৈরি হয়?

এটা খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন। আইভিএফের শিশু অন্য দশটা স্বাভাবিকভাবে যাদের সন্তান হয়, তাদের মতোই কিনা? তাদের কোনো রোগ আছে কিনা? তাদের কোনো জটিলতা আছে কিনা, ঝুঁকি আছে কিনা? জন্মগত ত্রুটির সম্ভাবনা আছে কিনা? আসলে তা নেই। কারণ ধরেন একশ দম্পতি যদি গর্ভবতী হয়, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান হিসেবে কমবেশি জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয় ১ শতাংশ। আর আইভিএফের মাধ্যমে যদি জন্ম হয়, সেক্ষেত্রে অসুবিধার হার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। সুতরাং এটি আরো কম। কারণ এখানে হয় কী, দিনটা নির্ধারণ, স্পার্মটা নির্ধারণ—এগুলো তো আমরা দেখে দেখে করছি। কাস্টম মেইড, অর্ডার দেয়া শার্ট বানানোর মতো অনেকটা। আমরা কম পারি, বিদেশে আরো বেশি পারে। তাদের অর্ডারের পরিপ্রেক্ষিতে যেমন শার্টের কলার ১৭ হবে না ১৫ হবে, ওরকম তারা এটাতে জেনেটিক অ্যানালিসিস করে নির্ধারণ করতে পারে। আবার এটা অনুমোদিত না অনেক দেশে, কিন্তু অনেকে ছেলে চাচ্ছে, মেয়ে চাচ্ছে। তার জিনগত ব্যাধি থাকবে না। এগুলো কিন্তু অনেক কিছু আইভিএফ পদ্ধতিতে করা যায়। যেমন আমাদের প্রিনেটাল জেনেটিক ডায়াগনসিস। ভ্রূণটা দেয়ার আগে আমরা জানতে পারি, এটিতে কোনো রোগ আছে কিনা। অনেক ধরনের রোগ আমরা সেখান থেকে স্ক্রিন আউট করি যে, এটা রোগ, আমরা এটা দেব না। কিন্তু আমাদের সমস্যা যেটা হচ্ছে, প্রযুক্তি আছে আমাদের, বিশেষজ্ঞ আছে। কিন্তু অর্থ দিয়ে চালানোর মতো, বা টেকসই করার মতো অবস্থা নেই। কারণ আমি তো ঘর থেকে পয়সা দিয়ে চালাতে পারব না। সারা বছরে তিনজন রোগী থাকলে তো আমি বাঁচাতে পারব না এই প্রজেক্টটা।

বাংলাদেশে আইভিএফের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার কাছে জানতে চাই।

আইভিএফ এখন কোনো বিলাসিতা নয়, আইভিএফ এখন একটা প্রয়োজন। আমরা যারা বাংলাদেশে আইভিএফ বা ফার্টিলিটি সার্ভিস দিচ্ছি, আমরা বলব যে গায়ে চুলকানোর মতো অবস্থা। সবাই করছে, তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রধানত কাজ হচ্ছে। কিছু নারায়ণগঞ্জে আছে, কুমিল্লাও এ রকম। কিন্তু প্রধান আইভিএফ ঢাকা ও চট্টগ্রামে। আমরা সবাই মিলে এ দেশের যে বাজারের আকার, যে পরিমাণ মানুষ প্রয়োজন আছে, তার বড়জোর ১০ শতাংশকে পরিষেবা দিচ্ছি। ৯০ শতাংশ হয় এ পরিষেবা নিতে পারছে না, অথবা তারা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে নিচ্ছে। এবং এটার মাধ্যমে বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে। এবং আমাদের একটা পরিসংখ্যান আছে, কী পরিমাণ টাকা আমাদের বিদেশে চলে যাচ্ছে। যার একটা সন্তান নেয়া দরকার, ফাইন্যান্সিয়াল ভূমিকায় যে ডলার বাইরে পাঠাতে পারবেন না, এটা ঠেকাতে পারবেন না। তার সন্তান নেয়ার ক্ষুধা-তৃষ্ণা যেটা, সে যেকোনোভাবে মেটাবে। সে যদি চুরি করে নিতে হয় টাকা, আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়ে নিতে হয়, হুন্ডি করে নিতে হয়, কোনো না কোনোভাবে নিচ্ছে এবং নেবে। কাজেই আমাদের যেটা করা দরকার, এ দেশে যাদের দরকার এই জিনিসটা, তাদেরকে আমাদের পরিষেবার আওতায় যেন আনতে পারি। সেটা দু-চারটা বাণিজ্যিক বেসরকারি হাসপাতাল দিয়ে সম্ভব নয়। সরকারের এগিয়ে আসতে হবে। আবার সরকারি হলে যেটা হয়, একটু ধীরগতিতে কাজ হয়। কারণ আজকে কিন্তু আমাদের দেশে একটা সম্পূর্ণ মানসম্পন্ন পরিষেবা দেয়া সম্ভব হয়নি। সরকার কিন্তু এত গরিব না। এ পরিষেবা দেয়ার জন্য উপযুক্ত। বিশেষজ্ঞ জনশক্তি আছে। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতা আছে। আমার এজেন্ট দরকার কালকে সকালে। দেখা যাবে এটা আসতে লাগবে তিন মাস। আমার যন্ত্রপাতি আপডেট করা দরকার। এটা প্রজেক্টের পড়ে যাবে। এটা হলে তো হবে না। কিন্তু সরকারের এখানে জড়িত হওয়া দরকার। এবং আমরা মনে করি, বেসরকারি-সরকারি খাতের সঙ্গে যদি আমরা পাশাপাশি কাজ করতে পারি, এ প্রযুক্তির জন্য আরো মানুষ নিয়োগ করতে আমরা এখন সক্ষম। আমরা কিন্তু জনশক্তি তৈরি করেছি। পাশাপাশি বেসরকারি খাত খোলা হয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে তারা সক্ষম। তাদের তো আমরা তৈরি করেছি। তো আমরা আরো ১০০টা বানাতে পারব না কেন? এটা করে আমরা সব জায়গায় পরিষেবাটা ছড়িয়ে দিতে পারি। যেন মানুষকে বিভিন্ন দেশে গিয়ে কষ্টে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে না হয়। সরকারের যদি সহযোগিতা থাকে, তাহলে আজকে আমি যে টাকা নিয়ে এ পরিষেবা বিক্রি করছি, এর ৪০-৫০ শতাংশে আমি খুব সহজে বিক্রি করতে পারি। আমি এটার আর্থিক সমীকরণটা জানি। আমি যেহেতু এটা পরিচালনা করি। কিন্তু বেসরকারি খাত যারা বিনিয়োগ করেছে, তারা এটা থেকে লাভ করতে চায়। তারা তো করবেই। কিন্তু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এবং বেসরকারি খাত যদি একসঙ্গে কাজ করি, আমি কয়েক দিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও বলেছেন, হ্যাঁ, আমরা বেসরকারি খাতের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। এটা করা যায়। সরকারের কাছ থেকে প্রযুক্তি ধার করে আমরা কাজ করতে পারি। আমাদের থেকে প্রযুক্তি ধার করে সরকার করতে পারে। এবং আমরা পরিষেবা দিতে পারি মানুষকে।

মার্কেট সাইজ কত এবং টাকার অংকে কত হতে পারে ?

মার্কেটটি যদি প্রতি বছরে ধরেন—লক্ষ কোটি টাকা হতে পারে। লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা আইভিএফের জন্য চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে এটার মাত্র ১০ শতাংশ পাচ্ছে?

হ্যাঁ, শুধু ১০ শতাংশ এবং এ পরিষেবা বিদেশে যখন কেউ কিনতে যায়, ইউরোপ হলে, যেমন এখানে আমি তাদের অংকেই বলি। এখানে ৪০০ ইউরো লাগে। যদি ইউরোপে এটা করতে চান, আইভিএফের যেকোনো কিছু শুরু হয় ১৮ হাজার ইউরো থেকে। আরো যত অ্যাড অন আসবে, তত বাড়বে। সেটা ৩০ হাজার ইউরো পর্যন্ত গড়াবে। আমেরিকায় এটা শুরু হয় ১৫-১৬ হাজার ডলারে। সিঙ্গাপুরে এটা করতে হলে ১১-১২ হাজার ডলার লাগবে।

যদি ভারতে এটা করতে হয়? ভারতে তো অনেকেরই একটা ধারণা থাকে ব্যয় কম হয়।

আমি স্বীকার করি ভারতে ব্যয় কম। এখন আমি বলি কেন ভারতে ব্যয় কম। এটার কারণ একটাই। আমাদের দেশে পলিসি ইস্যু আছে। বাংলাদেশের ক্যান্সারের ওষুধ আমদানি করছে ভারত এবং তারা এটা দিয়ে চিকিৎসা করছে। আপনি জানেন, কয়েকটা কোম্পানি অ্যান্টিক্যান্সার ওষুধ বানাচ্ছে এবং সেগুলো যাচ্ছে ভারতে। আমাদের দেশের যে ড্রাগ পলিসি, সে পলিসিতে ভারতীয় ওষুধ আমরা ব্যবহার করতে পারব না। অফিশিয়ালি করতে পারব না। কিন্তু আনঅফিশিয়ালি অনেক জায়গাতেই তো এটা ব্যবহার করা হচ্ছে। এটার সুবিধাটা নিচ্ছে কারা? স্মাগলাররা। কারণ এটা চোরাই পথে আসছে। মান কমে যাচ্ছে। তারা যখন নিয়ে আসছে, রাস্তায় বিভিন্ন খরচপাতি তো আছে। সেগুলোর দাম তো বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি এটা বৈধ পথে ব্যবহার করতে পারতাম, আমি সেটা কম খরচে পেতাম। দুই নম্বর হলো, যে ওষুধ ভারতীয় মুদ্রায় ৪০০ রুপি দাম, একই জাতীয় ওষুধ এখানে ৫ হাজার টাকা। এবং সর্বোচ্চ হলো ১১ হাজার টাকা। যখন ড্রাগের ব্যয়টা এখানে এসে যায়, তখন আইভিএফ সাইকেলে ৪০ হাজার টাকা হয়ে যাচ্ছে। সে রোগীটাকে চিকিৎসা দিতে আমার দেড়-দুই লাখ টাকার ওষুধ খরচ হচ্ছে। আইভিএফ করতে তাহলে আরো বেশি হয়েছে। আর একটা বিষয় হলো, আমরা পরিষেবাটি দিচ্ছি বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিকভাবে। বাণিজ্যিকভাবে যখন আমি এটা করছি, যারা এখানে বিনিয়োগ করেছি, তারা তো সেখান থেকে মুনাফা করতে চাইবে। ওখানে খাতটিতে যারা এ রকম কাজ করছে তারা ওষুধের সুবিধাটাও পাচ্ছে। করপোরেট খাতের যে থাবা সেটি থেকেও তারা কিছুটা বাঁচাতে পারছে। আর ভারতে মার্কেটের আকার অনেক বড় হচ্ছে। যে কারণে ভারতে অনেক কম খরচে সেটা করা যাচ্ছে। কিন্তু আমার দেশের মানুষের জন্য তো সেটা কম খরচ নয়। আপনি শুধু দেখলেন এখানে যে পরিষেবাটা সাড়ে ৩ লাখ টাকায় দেয়ার কথা হচ্ছে, তা আড়াই লাখ দিয়ে আপনি কিনছেন। সেটার কনভারশন আছে। আবার এটা তো এ রকম না যে, আজকে গিয়ে কাল চলে আসব। আপনার তো দুই মাস থাকতে হচ্ছে। তো সেটার পেছনে কিন্তু অনেকগুলো টাকা আপনার খরচ হচ্ছে। কিন্তু এত কিছু বলার পরও আমি মনে করি, আমাদের চিন্তা করা দরকার, কীভাবে এটাকে আরো সহজলভ্য করা যায়, কীভাবে এটাকে মানুষের কাছে আরো সুলভমূল্যে করা যায়। এবং এ ব্যাপারে ড্রাগ কর্তৃপক্ষ, সরকার, সরকারি খাত এবং আমাদের সবারই সামগ্রিকভাবে চেষ্টা করা উচিত। এবং আমি বিশ্বাস করি, এটার ব্যয় কমিয়ে ৫০-৬০ শতাংশে আনা সম্ভব। এমনকি বেসরকারি খাতেও।

আইভিএফ নিয়ে আমাদের কোনো আইনি জটিলতা আছে কিনা?

ভারতে মাত্র সাত-আট বছর হলো, ওরা পলিসি ইস্যুতে আসছে। আইন হয়েছে কিছু। আমাদের দেশে আইভিএফের ওপর সত্যিকার অর্থে কোনো ধরনের আইনের বর্ণনা নেই। এই করা যাবে, এই করা যাবে না। আইভিএফ করা যাবে, যাবে না। ডোনারে করা যাবে, যাবে না। ডোনার স্পার্ম ব্যবহার করা যাবে, যাবে না। সারোগেসি করা যাবে, যাবে না। কিন্তু দেশের ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা সারোগেসি, স্পার্ম ডোনার করছি না। কিন্তু ভারতে এটা অনুমোদিত। ইউরোপিয়ান অনেক দেশেও অনুমোদিত এবং সেখানে এগ সেল হয়। যেকোনো মেয়ে চাইলেই এগ বিক্রি করতে পারে। কেউ চাইলে স্পার্ম বিক্রি করতে পারে। ভারতের যদি ওয়েবসাইটে যান তাদের ফার্টিলিটি পলিসি অনুসারে সেখানে একজন মেয়ে এগ ডোনেট করতে পারে এবং তার এই ডোনেট করতে গিয়ে তার কাজকর্মের যে অসুবিধা হচ্ছে, এজন্য সে আইন অনুসারে সে ক্ষতিপূরণও পেতে পারে। পরিষ্কারভাবে এর সীমা নির্ধারণ করা আছে তাদের আইন অনুসারে। আমাদের দেশে এ রকম কোনো কিছু করা যাবে বা যাবে না তার কোনো নীতিমালা নেই। 

সন্তানের জন্ম স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক মিলনের মাধ্যমে হলো না আইভিএফের মাধ্যমে হলো এটা পরবর্তী সময়ে চিহ্নিত করার কোনো উপায় আছে কিনা?

সহজভাবে বললে, যখন কোনো এয়ারক্রাফট হ্যাক করা তখন ওই পাইলটকেই নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হয়। এর পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নেয় হ্যাকাররা। ঠিক একইভাবে একজন নারীর যখন আইভিএফ হচ্ছে, তখন আমরা পুরো প্রক্রিয়াটাই ওষুধের মাধ্যমে আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিই এবং সেখানে প্রাকৃতিকভাবে তার প্রেগন্যান্সি আসার আর সুযোগ থাকে না। যেমন আমরা তার ওভারিটি নিষ্ক্রিয় করে দিই, হরমোনকে প্যারালাইজ করে দিই। এর মাধ্যমে আইভিএফ চলাকলীন তার প্রাকৃতিকভাবে প্রেগন্যান্সি আসার আর সুযোগ থাকে না। তবে আইওয়াই প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক উৎস থেকেও প্রেগন্যান্সি হতে পারে, আবার আমরা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি সেখানে থেকেও হতে পারে। তবে একবার আইভিএফ করা হয়েছে এবং তারপর সে আবার প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণ করেছে—এ রকম উদাহরণ শত শত আছে। এটা আবার নির্ভর করে কী কারণে আমরা তার আইভিএফ করছি তার ওপর। যেমন একটা মেয়েকে আমি আইভিএফ করেছি তার দুটো টিউবই বন্ধ আছে। তখন আমি লাইগেশন করে দিয়েছি বা অপারেশন করে ফেলে দিয়েছি। তার ক্ষেত্রে কোনোদিনই আর স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সুযোগ নেই। আবার একজনের আইভিএফ করেছি তার স্বামীর স্পার্ম অনেক দুর্বল ছিল, এ দুর্বল স্পার্মও একদিন ফার্টিলাইজ করে প্রেগন্যান্সি হয়ে একটি সন্তানের জন্ম দিতে পারে।

এছাড়া আইভিএফ করে যে সন্তানের জন্ম হবে জেনেটিক্যালি তার কোনো পার্থক্য করার সুযোগ নেই। যখন আইভিএফ করা হয় তখন তো হাজব্যান্ডের স্পার্ম থেকেই প্রেগন্যান্সিটা করানো হয়। তাই দেখতে একই রকম হবে, গায়ের রঙও একই রকম হবে।

অন্যান্য সেবার পাশাপাশি আইভিএফ সেন্টারকে এভারকেয়ার কীভাবে দেখছে?

এভারকেয়ার প্রথমে এতটা কনফিডেন্ট ছিল না যে সেক্টরটা টেকসই কিনা। এটার বাজার আছে কিনা। এই ডাক্তারকে এখানে কাজ করালে তার বেতন ঘর থেকে দিতে হবে কিনা। অনেক কিছু চিন্তাভাবনার পরে দেখা গেল যে, এটার ব্যাপক সম্ভাবনা এবং এটা সবচেয়ে লাভজনক সেক্টর এই হাসপাতালে। এখন কিন্তু আমরা যে সুবিধা, প্রযুক্তি, জনশক্তি চাচ্ছি তারা দিচ্ছে। আমাদের সবকিছু বাড়ানো হয়েছে, ল্যাব আপডেট করা হচ্ছে। এখানে তাদের কার্পণ্য নেই। আর যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে তারা সবসময় বিশ্বের সেরাটাই নিয়ে আসে। আমাদের এখানে ট্রেনিং সেন্টারও চলছে। অনেকে আলাদা প্রাইভেট সেন্টার চালু করেছে এখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে। সরকারি বিভিন্ন সেন্টারকেও আমরা সাহায্য করেছি।

এ মুহূর্তে সারা দেশে স্পেশালাইজড চিকিৎসক কতজন?

এর সংখ্যা খুবই কম। জেলা পর্যায়ে এবং বিভাগীয় পর্যায়েও হচ্ছে। একটা সারটেইন লেভেলে যাওয়ার পরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তির প্রয়োজন হচ্ছে, এক্ষেত্রে কিন্তু খুব লিমিটেড। যেমন চট্টগ্রামে একটি কি দুটি সেন্টার আছে, ঢাকায় চার-পাঁচটি সেন্টার। এর মধ্যে ফাংশনালি কাজ করছে মাত্র দু-তিনটি সেন্টার। বাকিগুলো হয়তো ম্যানেজারিয়াল জব করছে। যেমন এখান থেকে একজন এক্সপার্ট হলো, ওখান থেকে একজন আনল, এভাবে অর্গানাইজ করছে। এটা সমালোচনা করার কিছু নেই। সব ধরনের সুবিধা দেয়ার জন্য লোকজন দরকার। যখন কোনো লোকজন তৈরি করা হয়, যখন সে বোঝে ইনডিভিজুয়ালি হি ইজ ক্যাপাবল টু রান দ্য শো, তখন সে নিজেই শুরু করে। এতে করে ১ শতাংশ হলেও কভার করা যাচ্ছে। এ সার্ভিস তো আলটিমেটলি মানুষ পাচ্ছে। সেটা আমরা খারাপ মনে করছি না যে তারা মুভ আউট করছে, বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে।

এক্সপার্টের সংখ্যা কত হবে?

২০ জনও নয়। ১৮ কোটি মানুষকে কাভার করার জন্য এটা মোটেও যথেষ্ট নয়। আমার এখানে কতজনকে সার্ভিস দিতে পারব। আমাদের লিমিট আছে। ৫০ জনের বেশি তো দিতে পারব না। কিন্তু এমন তো আরো ১৫০ জন অপেক্ষায় আছে।

এভারকেয়ার সারা দেশে এ কাজটা করছে না কেন?

সারা দেশে করতে গেলে আমাদের কিছু অসুবিধা আছে। আমাদের সেন্টার সাকসেসফুল কেন? আমরা বিশাল একটা অর্গানাইজেশনের সার্ভিসকে শেয়ার করি। আমি দু-একটা উদাহরণ দিই। আমার ল্যাব সার্ভিস দরকার। কোয়ালিটি ল্যাব দরকার। কোয়ালিটি ল্যাব চালাতে হলে কোয়ালিটি ম্যানপাওয়ার, কোয়ালিটি ইকুইপমেন্ট দরকার। এখন কোয়ালিটি ইকুইপমেন্ট থেকে ধরেন আপনি আমার থেকে প্রতিদিন ২ লাখ টাকা সেল করলেন। এই ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে। সেই ল্যাবটা তো সাসটেইনেবল না। তো আমার ল্যাবে সেখানে এক্সপার্ট আছেন, অনেক এক্সপেনসিভ কনসালট্যান্টস আছেন, টিম আছে। টোটাল সার্ভিসের ১ বা ২ শতাংশ আমি শেয়ার করছি। এজন্য কিন্তু তার বিশাল এস্টাবলিশমেন্ট আলাদা আমার জন্য লাগছে না। এ ল্যাব মেইনটেইন করার জন্য তাদের যে বিশাল বার্ডেন হতো, সেটা এখন হচ্ছে না। আমি দেখলাম, আমার একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ দরকার। আমার তো হরমোন বিশেষজ্ঞ আছেই। চার-পাঁচজন আছেন। আমি তার শেয়ার নিলাম। আলাদা কাউকে নিয়োগ দেয়ার দরকার নেই। ইলেকট্রিসিটি দরকার। আমার এখানে ৫ মিনিটের জন্যও পাওয়ার কাট গ্রহণযোগ্য নয়। গত ১৭ বছরে আমার হাসপাতালে ৫ মিনিটের জন্যও পাওয়ার কাট ছিল না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা ব্যবস্থা করা কতটা কঠিন চিন্তা করুন। আমরা পাঁচটা সোর্স নিয়ে কাজ করি। তিনটা হলো সরকারি লাইন, একটা হলো গ্যাস জেনারেটর, একটা ডিজেল জেনারেটর। এ পাঁচটা যদি কোনো কারণে কাজ না করে তাহলে আমার আইপিএস রেডি রয়েছে। ফলে আমাদের কোনো সেবা বন্ধ থাকে না। এজন্য আমার খরচ অনেক বেশি। কোয়ালিটি মেইনটেইন করতে গেলে খরচ বাড়বেই। যখনই আমি ব্যয় কমাতে যাব, তখনই আমাকে কোথাও না কোথাও কোয়ালিটি কমপ্রোমাইজ করতে হবে। এজন্য বড় হাসপাতালের অংশ হিসেবে আমরা সহজে কাজটা করতে পারছি এবং লাভবানও হচ্ছি। কিন্তু আলাদাভাবে করতে গেলে সেখানে কোয়ালিটি মেইনটেইন করা সম্ভব নয়। স্ট্রাগল করতেই হবে বা সেবার মান কমে যাবে। তাই এটা সম্ভব হয় না।

 

সাক্ষাত্কার গ্রহণ: শর্মিলা সিনড্রেলা