করোনা দুর্যোগে উৎপাদন ও বিপণনে ধস নামে বিশ্বব্যাপী। সব খাতেই এর প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশেরও এর বাইরে থাকার সুযোগ ছিল না। করোনা-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
মহামারীতে দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর অন্যতম হলো পর্যটন। উদ্যোক্তাদের দাবি, পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অনেকটাই পেছনে পড়েছে খাতটি। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মতো একটি বিশেষায়িত ব্যাংক চালুর প্রস্তাব করছেন তারা।
উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রয়েছে উচ্চহারে করপোরেট কর, অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ফির ওপর আরোপিত ভ্যাটের চাপ। এ অবস্থায় ব্যবসায় টিকে থাকতে আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে এভিয়েশন খাতে আরোপিত বিভিন্ন ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো। প্রযুক্তি খাতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অন্তত ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি সংশ্লিষ্টদের। দেশীয় পণ্যের জন্য বিদ্যমান সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং আমদানি হওয়া ইলেকট্রনিকস পণ্যে ভ্যাট বাড়াতে বলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সুপারশপের সুবিধা হচ্ছে, এখানে বাজারের সব তথ্য-উপাত্ত সরকারের কাছে থাকবে। এসব তথ্য-উপাত্ত সরকারের বাজেট ঘোষণার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। অর্থনীতিকেও দ্রুত এগিয়ে দেবে এটি। ভোক্তা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তত ১/২ শতাংশে কমিয়ে আনা হলে সুপারস্টোর খাতের জন্য টিকে থাকা সহজ হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপের মতো দেশগুলোয় রফতানির বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন গাড়ি উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এক্ষেত্রে নীতিসহায়তা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে ব্যাংকের করপোরেট করহার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বহুদিন থেকেই ব্যাংকের করপোরেট কর কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যাংক খাতের উদ্যোক্তারা। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার করহার কিছুটা কমিয়েছে। এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় এ করহার অনেক বেশি বলেই মনে করছেন তারা। আসন্ন বাজেটে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ঘোষণার দাবি খাতসংশ্লিষ্টদের। এ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হবে শুধু অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে।
আধুনিক ও বাণিজ্যিক কৃষির প্রয়োজনে দেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য। তবে কৃষিযন্ত্রের বেশি দাম হলে কৃষকরা কিনতে নিরুৎসাহিত হবেন। ফলে দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তন ও ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। গবেষণা, উদ্ভাবন, বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পোস্ট হারভেস্ট লস কমিয়ে আনতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন কৃষি খাতসংশ্লিষ্টরা। মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুল্ক কমানো না হলে কাঁচামাল সংকটে রডের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি উঠেছে। ক্লিংকারের ক্রমবর্ধমান দাম এবং ডলারের বিপরীতে টাকা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় সিমেন্টের উৎপাদন খরচ বেড়েছে বহুলাংশে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, যার প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।
সিরামিক শিল্পে উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক আরোপ আছে। খাতটিকে সম্পূরক শুল্কের আওতামুক্ত রাখার প্রস্তাব উদ্যোক্তাদের।
বড় কোম্পানির জন্য যে আইন, একটি ক্ষুদ্র বা অতিক্ষুদ্র কোম্পানির জন্য একই আইন মেনে চলা সম্ভব হয় না। কোম্পানির আকার অনুযায়ী আইন তৈরির প্রস্তাব আছে প্লাস্টিক খাতের।
এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে আড়াই থেকে ৪ শতাংশ হারে অগ্রিম শুল্ক দিতে হয়। অগ্রিম শুল্ক দেয়ার ফলে কস্ট অব ক্যাপিটালে তার প্রভাব পড়ে। গ্রাহকের কাছে বিক্রির সময় ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। ফলে জ্বালানিপণ্যটির ব্যবহার বাড়াতে শুল্ক-করে ছাড় চাইছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। স্বাস্থ্যসেবায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমদানীকৃত যন্ত্রপাতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর সঙ্গে বিভিন্ন কর ও শুল্ক যোগ হয়, যা রোগীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই শুল্ক-কর কমানোর দাবি খাতসংশ্লিষ্টদের। ওষুধ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দুই দশকের বেশি সময়েও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি এপিআই পার্ক। এটির বাস্তবায়ন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
জাতীয় সংসদে আগামী ৯ জুন উপস্থাপন হতে যাচ্ছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব। বাজেটকে সামনে রেখে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা। খাতসংশ্লিষ্টদের ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়ে এ আয়োজন






