ঈদ ওই এল বলে। এরই মধ্যে হয়তো শাড়ি-পাঞ্জাবি কেনা শেষ। শেষ হয়েছে শিশু আর বাড়ির বয়স্কদের পোশাক-আশাক কেনাও। তবে বাকি রয়ে গেছে অন্য সব আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনাকাটা। সেসব কিনলেই না পরিপূর্ণ হবে ঈদ।

বাজার ঘুরলেই এখন পেয়ে যাবেন নানা ধরনের পণ্য। ঘড়ি, বেল্ট, জুতা কী নেই সেখানে? ইনফিনিটি মেগা মলের চিফ কোঅর্ডিনেশন অফিসার রাশেদুল হক মুকুল জানান, এই মেগা মলে এক ছাদের নিচেই পেয়ে যাবেন সবকিছু। পোশাক থেকে শুরু করে ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ সব আছে এখানে। ছেলেদের জন্য পাবেন টুপি, বেল্ট, ওয়ালেটসহ অনেক কিছু। সেসব সংগ্রহে সবসময় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। আবার কেউ কেউ পারফিউম, বডি স্প্রে ও অন্যান্য বিউটি কেয়ার প্রডাক্টও নিচ্ছে। মেয়েদের অ্যাকসেসরিজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গহনা, হাতব্যাগ, স্কার্ফের চাহিদা বেশি। শিশুদের জন্য রঙিন সব সানগ্লাস, ঘড়ি, বেল্ট এসবও নিচ্ছেন অনেকে।

চোখ বুলিয়ে নিন ঈদের আগে আগে পোশাক ছাড়া কেনাকাটার তালিকায় আর কী কী যোগ করা যেতে পারে সেদিকে।

ঈদের প্রসঙ্গ আসতেই প্রথম যে আনুষঙ্গিকের কথা মাথায় আসে সেটার নাম টুপি। টুপি ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র পুরান ঢাকার চকবাজার। তবে বাজার ঘুরলেও এখন বিভিন্ন ধরনের টুপি পেয়ে যাবেন। পাবেন বিভিন্ন রঙের টুপিও, মিলবে ডিজাইনেও ভিন্নতা। সেখান থেকে নিজের পছন্দমতো বেছে নিতে পারবেন আপনি। দাম পড়বে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ঈদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গের নাম আতর। পারফিউম আর বডি স্প্রের এ যুগে আতর সেভাবে ব্যবহার করা না হলেও অনেকের কাছেই আতর আগের সেই জায়গাটা দখল করে আছে। বাজার ঘুরলে আতরের বিভিন্ন ঘ্রাণের সঙ্গে যেমন পরিচিত হবেন, তেমনি বৈচিত্র্য দেখবেন আতরের দামেও। ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকারও আতর পাবেন বাজারে।

টুপি-আতর ছাড়িয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাজের অনুষঙ্গের নাম হলো জুতা। বাজারে বিভিন্ন দামের জুতা পাবেন। পাবেন বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা। ছেলে, মেয়ে, শিশু ও বয়স্কদের জন্য আলাদা আলাদা ধরনের জুতা পাবেন বাজারে। সেখানে যেমন কিছু দেশে তৈরি চামড়ার জুতা পাবেন, তেমনই পাবেন বিদেশ থেকে আনা জুতাও। জুতা কেনার সময় সবচেয়ে বেশি মাথায় রাখতে হবে স্বস্তির কথা। তাহলে সারা দিনের জন্য ঘরের বাইরে যেতে হলেও পা জোড়া অস্বস্তি বোধ করবে না। বিভিন্ন ধরনের জুতার দাম শুরু ২০০ টাকা থেকে।

মেয়েদের সাজসজ্জার একটি বড় অংশ দখল করে রাখে হাতব্যাগ। ছোট-বড়-মাঝারি বিভিন্ন আকারের হাতব্যাগের দেখা মেলে বাজারে। তবে হাতব্যাগটা মূলত কিনতে হবে নিজের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে। বড় হাতব্যাগ দরকার হলে সেটাই কিনে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে আর ছোট হাতব্যাগ বেশি প্রয়োজনীয় হলে সেটাও নিতে হবে। বাজারে এখন চামড়ার, পেইন্ট করা, কাপড়ের, কৃত্রিম লেদার ও পাটের ব্যাগ পাবেন। দামের পার্থক্য দেখতে পাবেন এখানেও। তার মধ্য থেকে নিজের পছন্দ ও প্রয়োজনমতো মিলিয়ে নিলেই হবে। বাজারে যেমন ৪০০ টাকার ব্যাগ পাবেন, তেমনই পাবেন ৪ হাজার টাকার ব্যাগও।

রোদ গরমের এ সময়ে সানগ্লাসের প্রয়োজনও অনেক। তাই ঈদের সময় নিজের সুরক্ষার জন্য বেছে নিতে পারেন পছন্দের সানগ্লাস। সেটাও এখন হয়ে উঠেছে ঈদের সাজসজ্জার একটা অন্যতম উপকরণ। ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা সানগ্লাস পাবেন বাজারে। পাবেন শিশুদের জন্য রঙিন সানগ্লাসও। ভালোমানের সানগ্লাসের দাম শুরু ৪০০ টাকা থেকে।

গহনাগাটির ক্ষেত্রে একেকজনের একেক পছন্দ। কেউ হালকা গহনা পছন্দ করেন তো কারো পছন্দ জাংক জুয়েলারি বা ভারী গহনা। কেউ রুপালি রঙের গয়না পছন্দ করেন তো কারো পছন্দ সোনালি গহনা। তাই বাজারে ছোট-বড় বিভিন্ন দোকানেই পাবেন বিভিন্ন ধরনের মালা, চুরি, আংটি, কানের দুল। চাইলে এক হাতে পরার জন্য বেছে নিতে পারেন ঘড়িও। বাজারে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা ঘড়ি পাওয়া যায়। পাওয়া যায় কাপল সেটও। রাশেদুল হক বলছিলেন, এক হাতে ঘড়ি থাকলেই এখন সাজ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তাই গহনা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটু মিশ্র পছন্দ দেখা যাচ্ছে। জাংক জুয়েলারি এখন অনেক সহজলভ্য। পাশাপাশি অনেক নতুন নতুন ধরনের গহনা পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। কেউ ঘড়ি নিচ্ছেন, কেউ ব্রেসলেট নিচ্ছেন। কেউ এ দুইয়ের মিশ্রণে ব্রেসলেট ওয়াচ নিচ্ছেন।

তাছাড়া টাই, ওয়ালেট, পারফিউম আর বডি স্প্রের চাহিদাও রয়েছে বাজারে। মেয়েদের জন্য আরো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মেকআপের উপকরণ, লিপস্টিক, নেইলপলিশের সমাহারও। তবে এসব থেকে নিজের জন্য কেনার সময় অবশ্যই নিজের রুচি, দাম আর স্বস্তির কথা মাথায় রেখে কিনবেন। কিনতে পাবেন শ্যাম্পুু, তেল, ফেসওয়াশ, কন্ডিশনারও।

রাশেদুল হক জানান, ইনফিনিটিতে মিডরেঞ্জ ও হাইরেঞ্জের বিভিন্ন পণ্যই পাওয়া যায়। এমনটা করা হয় যেন আমরা সব ধরনের ক্রেতার চাহিদা পূরণ করতে পারি। এখানে বেল্ট ১০০০-২৫০০, হ্যান্ডব্যাগ ২০০০-৩৭০০, সানগ্লাস ১৫০০-২৫০০, এক্সক্লুসিভ সানগ্লাস ৩০০০-৪০০০ ও ঘড়ি ১২০০-২৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন। ছেলেদের ঘড়ির দাম ৮০০০-৯০০০ টাকাও আছে।

রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং সেন্টার, মৌচাক মার্কেট, পুলিশ প্লাজা, ইস্টার্ন মল্লিকা, ইস্টার্ন প্লাজা, নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন বাজারে পাবেন সাজসজ্জার এসব অনুষঙ্গ।