করের জাল সম্প্রসারণের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়াতে চায় সরকার। এজন্য ৫০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্ট (পরিশোধ) ব্যাংক বা মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দেয়া প্রস্তাবটি পাস হলে আগামী অর্থবছর থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি বিল বা পেমেন্ট অবশ্যই ব্যাংকের চেক, ফান্ড ট্রান্সফার বা এমএফএসের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের চেয়ে বেশি করপোরেট কর দিতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও সম্মানীর পরিমাণ ১৫ হাজার টাকার বেশি হলে তা ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে করার বিধান রয়েছে। সেটি না হলে আয়কর রিটার্নে এ খাতে ব্যয় করা অর্থ ব্যয় হিসাবে দেখানো যায় না। আয় হিসেবে গণ্য করে ব্যয়কৃত অর্থও করযোগ্য হয়ে যায়। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে ৫০ হাজার টাকার
বেশি অর্থের
পেমেন্ট অবশ্যই ব্যাংক বা এমএফএসের মাধ্যমে হতে হবে। অন্যথায় পরিশোধ করতে হবে বাড়তি কর।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকীকরণ ও করনেট সম্প্রসারণ জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য বাজেটে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। প্রস্তাবগুলো হলো যেসব ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধে ব্যাংক ট্রান্সফারের বাধ্যবাধকতা আছে, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে পরিশোধের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা।
৫০ হাজার টাকার অধিক পেমেন্ট হলে তা ক্রস চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফার বা এমএফএসের মাধ্যমে সম্পাদন করার বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি সরবরাহ ও ঠিকাদারির বিল ব্যাংকিং বা এমএফএসের মাধ্যমে গ্রহণ করা না হলে প্রযোজ্য উৎসে করহারের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ কর্তন করা, করনেট সম্প্রসারণে, বাড়ির নকশা অনুমোদনে ও সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশনে এবং ২ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে ও পোস্টাল সেভিংস হিসাব খুলতে টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব করেন। ই-কমার্স প্লাটফর্মকে উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাবও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবগুলো পাস হলে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার বড় হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও রাজস্ব সংগ্রহ বাড়বে। ব্যাংকের পাশাপাশি এমএফএসে অর্থ পরিশোধের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে একটি আধুনিক প্রযুক্তিকে আইনি ভিত্তি দেয়া হয়েছে। এতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে তালিকাভুক্ত এমএফএস কোম্পানির ক্ষেত্রে করহার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত না হলে করহার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান ২০২০-২১ অর্থবছরে উভয় ধরনের এমএফএস কোম্পানিগুলোর করের হার নির্ধারণ ছিল ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবে যেসব ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধে ব্যাংক ট্রান্সফারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন করার বাধ্যবাধকতা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব প্রস্তাব সংসদে পাস হলে অর্থনীতির আকার বড় হবে, বিনিয়োগ ও রাজস্ব বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি এমএফএসের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে একটি আধুনিক প্রযুক্তিকে আইনি ভিত্তি দেয়া হবে।
বর্তমানে দেশে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্তত ১৫টি ব্যাংকের এমএফএস সেবা চলমান রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব পাস হলে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও সেবার আওতা বহুগুণ বাড়বে।





