বিশ্বজুড়ে
বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ও বৃদ্ধির সুযোগ তৈরির নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বেসরকারীকরণ। দেশভেদে এর ফলাফল ভিন্ন। কিছু দেশ আছে যারা বেসরকারীকরণ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে, আবার কিছু দেশ ভীষণ রকম ব্যর্থতার পরিচয় বহন করছে। ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঠামোগত বাধা, অনুপযুক্ত নীতি, আরোপিত নির্দেশনা আর অকার্যকর বাস্তবায়ন কৌশল গ্রহণ।
ঐতিহাসিকভাবে
বাংলাদেশের উন্নয়ন
সরকারি কর্মকাণ্ড
দ্বারা ব্যাপকভাবে
প্রভাবিত। ব্রিটিশ
শাসন থেকে
১৯৪৭-৭১-এর
মধ্যকার পাকিস্তান
আমলে রাষ্ট্রের
নেতৃত্বের ভূমিকা
উদ্ভূত হয়েছে
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক
পরিসরে অবাঙালি
উদ্যোক্তা শ্রেণীর
ঐতিহাসিক আধিপত্য
থেকে। ব্যাংকিং,
বীমা, জাহাজ,
অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন,
বিদেশী সহায়তা,
অভ্যন্তরীণ পাইকারি
বাণিজ্য, বৃহৎ
খুচরা কারবারের
মতো ক্ষেত্রে
ব্যক্তি ব্যবসায়িক
কর্মকাণ্ড প্রধানত
অবাঙালি দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত ছিল।
১৯৭১ সালের
১৬ ডিসেম্বর
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর
আত্মসমর্পণের প্রাক্কালে
বাংলাদেশ থেকে
এ অবাঙালি
ব্যবসায়ী শ্রেণীকে
পাইকারি হারে
প্রত্যাহার বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে বড়
ধরনের উদ্যোক্তাশূন্যতা
তৈরি করে।
চলে
যাওয়া পাকিস্তানিদের
শূন্যস্থান পূরণে
অর্থনৈতিক পরিসরে
বাংলাদেশের হাতে
প্রস্তুত কোনো
বাঙালি উদ্যোক্তা
শ্রেণী ছিল
না। মোট
শিল্পসম্পদের মধ্যে
বাঙালি উদ্যোক্তাদের
অংশ ছিল
১৮ শতাংশ,
যাদের অধিকাংশেরই
অংশগ্রহণ ছিল
মূলত পাট
ও বস্ত্র
শিল্পে—এক
দশকের কম
সময়ে মাঝারি
আকারের উৎপাদন
কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার
অধীনে প্রথম
প্রজন্মের উদ্যোক্তা
শ্রেণীর বিকাশ
ঘটে। একটি
ক্ষুদ্র শ্রেণীর
বাঙালি জনগোষ্ঠী
১৮ শতাংশ
আমানতধারী বাঙালি
মালিকানার ব্যাংকিং
খাতে অগ্রসর
হয়, যেখানে
পাকিস্তানি মালিকানার
ব্যাংকে আমানতের
অংশ ছিল
৭০ শতাংশ
(সোবহান ও
আহমদ)।
বীমা ব্যবসায়
১২টি বাঙালি
বীমা কোম্পানির
কেবল ক্ষুদ্র
অংশ, যেটি
ব্যাপকভাবে পাকিস্তানি
কোম্পানিগুলো দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত ছিল।
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের
বিকাশের প্রধান
অবদান শুরু
হয়েছিল বাংলাদেশের
স্বাধীনতা দ্বারা
সৃষ্ট ঐতিহাসিক
পরিস্থিতি থেকে।
১৯৭০
সালে বঙ্গবন্ধু
বেতারে যে
ভাষণ দিয়েছিলেন,
সেখানেও নতুন
দেশের ভবিষ্যৎ
উন্নয়ন কৌশলের
একটি সম্ভাব্য
রূপরেখার সন্ধান
পাওয়া যায়।
১৯৯৪ সালে
বিশ্বব্যাংকের গবেষণায়
দেখা যায়,
শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক
ও আর্থিক
প্রতিষ্ঠানসহ প্রায়
৩০৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত
প্রতিষ্ঠান সরকারি
মালিকানায় চলে
যায়। ১৯৭২
সালে অর্থনীতির
রাষ্ট্রীয় খাতের
আকার বৃদ্ধিতে
আদর্শ খুব
কমই ছিল।
যেখানে আদর্শ
কাজ করেছিল,
সেটি হলো
পাট ও
বস্ত্র এবং
ব্যাংক ও
বীমা খাতের
প্রতিষ্ঠানগুলো বাঙালি
জনগোষ্ঠী কর্তৃক
অধিগ্রহণ করার
ক্ষেত্রে। এটি
সম্ভবত হয়েছিল
১৯৭২ সালের
মার্চে এসব
খাত জাতীয়করণ
করার নীতিগত
সিদ্ধান্ত এবং
২০ নং
প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের
(পিও) অধীনে
বিধিবদ্ধ করার
মাধ্যমে। এটি
অবশ্য স্পষ্টত
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের
বিকাশের প্রধান
অবদান শুরু
হয়েছিল বাংলাদেশের
স্বাধীনতা দ্বারা
সৃষ্ট ঐতিহাসিক
পরিস্থিতি থেকে।
শেখ
মুজিবুর রহমানের
সরকার অর্থনীতিকে
সচল রাখার
জন্য পরিত্যক্ত
ব্যবসাগুলো পুনরায়
চালু করার
পাশাপাশি সরবরাহ
করে উদ্যোক্তাদের
সহায়তা। সরকার
সব পরিত্যক্ত
কারখানা ও
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের
পরিচালনার দায়িত্ব
গ্রহণ করে।
দেশ স্বাধীন
হওয়ার পরপরই
বাংলাদেশ সরকার
১৯৭২ সালে
পরিত্যক্ত সম্পত্তি
অধ্যাদেশ ও
জাতীয়করণ আদেশ
জারির মাধ্যমে
দেশে পরিত্যক্ত
সব মাঝারি
ও বৃহৎ
শিল্প কারখানার
মালিকানা নিয়ে
নেয় এবং
ব্যাংক, বীমা
কোম্পানি, বড়
আকারের আমদানি
কর এবং
রসায়ন, চিনি
ও খাদ্য,
জাহাজ নির্মাণ
ও প্রকৌশল,
বন, পাট,
বস্ত্র ইত্যাদি
খাতের সব
কল-কারখানা
জাতীয়করণ করে।
তবে পরিচালনার
অদক্ষতার কারণে
অলাভজনক শিল্পে
পরিণত হয়
ও জনসাধারণের
বিনিয়োগকে বিরূপভাবে
প্রভাবিত করে।
কারণ জাতীয়করণ
কর্মসূচির লক্ষ্যগুলো
সম্পর্কে সুস্পষ্ট
দৃষ্টিভঙ্গি, রাষ্ট্রায়ত্ত
প্রতিষ্ঠান পরিচালনার
জন্য প্রশিক্ষিত
ও দক্ষ
পরিচালনার অভাব,
প্রয়োজনের তুলনায়
অত্যধিক কর্মচারী,
অনমনীয় মজুরিকাঠামো
এবং নিয়ন্ত্রিত
মূল্য নীতিমালা
এ শিল্পগুলোকে
লোকসানে পরিণত
করে (হাওলাদার
২০১৫)।
রাষ্ট্রায়ত্ত এসব
শিল্পকে বাঁচাতে
রাষ্ট্রীয় অনুদানের
পরিমাণ বাড়াতে
হয়েছিল, যা
জাতীয় রাজস্বের
পক্ষে ছিল
অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
তাছাড়া একই
সঙ্গে দুর্নীতি
ও পরিচালন
অদক্ষতায় ভুগতে
শুরু করে।
বিদ্যমান পরিস্থিতি
ও উল্লিখিত
বিষয়গুলো বেসরকারীকরণের
পক্ষে সবচেয়ে
জোরালো যুক্তি
তৈরি করে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে
১৯৭৪ সালের
শুরুর দিকে
রাষ্ট্রের মালিকানা
ও শিল্প
নিয়ন্ত্রণের নীতির
পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ
হয়ে ওঠে।
তাছাড়া,
স্বাধীনতা-উত্তর
সরকারের কাছে
এটি স্পষ্ট
ছিল, আদর্শিক
প্রভাব যা-ই
হোক না
কেন, পাকিস্তানিদের
রেখে যাওয়া
৭২৫টি উদ্যোগ-প্রতিষ্ঠানের
ওপর নিজেদের
দায়িত্ব বা
কর্তৃত্ব বজায়
রাখার কোনো
উপায় নেই।
আসল প্রেসিডেন্সিয়াল
অর্ডারে উৎপাদন
খাতে রাষ্ট্রীয়
বিনিয়োগের পরিধির
সংজ্ঞায়ন এভাবে
পরিত্যক্ত উদ্যোগগুলোর
অধিগ্রহণ ১
দশমিক ৫
মিলিয়ন টাকার
অধিক স্থির
বা স্থাবর
সম্পদের অধিকারীদের
কাছে সীমাবদ্ধ
করেছে। এক্ষেত্রে
রাষ্ট্র অধিগ্রহণ
করেছিল ২
হাজার ৬৩০
মিলিয়ন টাকার
সমমূল্যের ২৬৩টি
প্রতিষ্ঠান। ২৫৬
মিলিয়ন টাকার
সম্পদমূল্যের ৪৬২টি
প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রকে
ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে
দিতে হয়েছিল।
এছাড়া এ
উৎপাদন এস্টাবলিশমেন্টের
মধ্যে পরবর্তী
সময়ে বাংলাদেশ
সরকারের প্রশাসনের
অধীনে পাকিস্তানি
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও
ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে
দেয়া হয়েছিল;
যেহেতু সরকার
সেগুলো রাষ্ট্রীয়
মালিকানার অধীনে
রাখার পর্যায়ে
ছিল না।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা ও সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাসনক্ষমতা পরিবর্তিত হয়। তখন থেকে একটি জনপ্রিয় ধারণার সূচনা হয়, সরকারি মালিকানায় রাখার কারণে করপোরেশনের অধীন সব প্রতিষ্ঠান খারাপ করেছে। এ জনধারণা—যেটি ১৯৭০-এর মাঝামাঝি থেকে তৈরি হয়েছে—উত্তরসূরি নীতিনির্ধারকদের নীতি ওরিয়েন্টেশনে গেঁথে গেছে, যারা নিজেরাই তর্ক তোলা শুরু করল, সব রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানই খারাপভাবে নৈপুণ্য করছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন করপোরেশনের মধ্যে কোনো পার্থক্য, বাস্তব অর্থনৈতিক নৈপুণ্য বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার পার্থক্যসহ বাজার ব্যবস্থা ও পরিচালনগত পরিবেশ বিবেচনায় নেয়নি। এ সবর্জনীনবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থা থেকে উদ্ভূত উন্নয়নমূলক ভিশনে পরিবর্তন দ্বারা পুনরায় শক্তিশালী করা হয়; যারা বলতে শুরু করে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দিয়ে সরকারের ‘ব্যবসা’ প্রত্যাহার করা উচিত। এ দৃষ্টিভঙ্গি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘ব্যুরোক্র্যাটস ইন বিজনেস’ গবেষণায় বিকাশ লাভ করে।
রাষ্ট্রপতি
জিয়াউর রহমানের
শাসন মেয়াদে
১৯৭০-এর
দশকের শেষার্ধে
বাংলাদেশ সরকারের
অ্যাপ্রোচ ডিএফআইয়ের
মাধ্যমে মেয়াদি
ঋণ প্রদানপূর্বক
সরাসরিভাবে ব্যক্তি
উদ্যোগ উন্নয়ন;
যা বিশ্বব্যাংক,
এডিবি ও
অন্য দাতাদের
কাছ থেকে
ঋণ নেয়ার
পূর্বশর্ত ছিল।
এ অ্যাপ্রোচ
ব্যক্তি উদ্যোগ
উন্নয়নে সক্রিয়
আনুষ্ঠানিক নীতির
সঙ্গে একটি
সম্প্রসারিত রাষ্ট্রায়ত্ত
খাতের সহাবস্থান
নিশ্চিত করেছিল।
জিয়ার শাসনামলের
শেষের দিকের
বছরগুলোয় একসময়
বাংলাদেশীদের মালিকায়
থাকা পাট
ও বস্ত্র
কারখানাগুলো ফিরিয়ে
নেয়ার আলোচনা
ছিল, যেগুলো
পিও ২৭
অর্ডারের অধীনে
জাতীয়করণ হয়েছিল।
তথ্যে
দেখা যায়,
১৯৭৫ সালের
শুরু থেকে
১৯৮১ সাল
পর্যন্ত (জিয়াউর
রহমানের শাসনামলও
অন্তর্ভুক্ত) ৫২৯
মিলিয়ন টাকার
বিক্রয়মূল্যের ২৪৭টি
পরিত্যক্ত প্রতিষ্ঠান
বা উদ্যোগ
বেসরকারীকরণ হয়।
এসব বিক্রির
ইউনিটপ্রতি মূল্য
আসে ২
দশমিক ১
মিলিয়ন টাকা,
যা নির্দেশ
করে, প্রতিষ্ঠানগুলোর
বড় অংশই
এখন বেসরকারীকরণ
হচ্ছে। অবশ্য
জিয়াউর রহমানের
পুরো আমলেই
অধিকতর বৃহৎ
ইউনিটগুলো সেক্টর
করপোরেশনের অধীনে
থেকে যায়।
এভাবে বিনিময়
প্রক্রিয়া সত্যিই
শুরু হয়,
১৯৮২ সালের
মার্চে সামরিক
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে
জেনারেল এরশাদের
শাসনক্ষমতা দখলের
সময় থেকে।
১৯৮২-৯১
দশকে কেবল
১২৫টি প্রতিষ্ঠান
ছেড়ে দেয়া
হয় বা
বিনিময় করা
হয়। তবে
প্রতি ইউনিট
১০ দশমিক
১ মিলিয়ন
সম্পদমূল্য নিয়ে
এসব ইউনিটের
মূল্য ছিল
১ দশমিক
২৬ বিলিয়ন
টাকা। এটি
ইঙ্গিত করে,
বেশির ভাগ
সেক্টর করপোরেশন
থেকে প্রাপ্ত
আরো বড়
আকারের প্রতিষ্ঠান
বিনিময়ের জন্য
রাখা হয়েছিল।
১৯৮২
সালে বেসরকারি
বিনিয়োগের ওপর
আরোপ করা
সীমা তুলে
নেয়া হয়।
ছয়টি বাদে
(বিদ্যুৎ, জ্বালানি,
বিমান, যোগাযোগ,
অস্ত্র) সব
খাত বেসরকারি
উদ্যোগের জন্য
উন্মুক্ত করে
দেয়া হয়।
বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের
মালিকানাধীন পাট,
টেক্সটাইল ও
চিনি শিল্পকে,
যা ১৯৭২
সালে জাতীয়করণ
করা হয়েছিল,
তা বেসরকারীকরণ
করা হয়।
সব শিল্প
খাত সরকারির
জন্য রাখা
ছয়টি ছাড়া
বেসরকারি-সরকারি
যৌথ উদ্যোগের
জন্যও উন্মুক্ত
করে দেয়া
হয়। একটি
গুরুত্বপূর্ণ নতুন
নীতি হলো
সরকারি উদ্যোগের
শেয়ার বেসরকারি
মালিকদের হাতে
৪৯ শতাংশ
পর্যন্ত ছেড়ে
দেয়া। এ
নীতি আশ্চর্যজনকভাবে
জনগণের কাছ
থেকে তীব্র
বিরোধিতার সম্মুখীন
হয় এবং
১৯৮৬ সাল
পর্যন্ত মুলতবি
রাখতে বাধ্য
হতে হয়।
বেসরকারীকরণের দিকে
এগিয়ে আনার
জন্য জনগণের
মনোভাব তখনো
প্রস্তুত ছিল
না।
১৯৯০-এর
দশকে এরশাদের
আমলে ব্যাপকভাবে
নেয়া বেসরকারীকরণ
অ্যাপ্রোচের নৈপুণ্য
নির্ণয়ে বাংলাদেশ
সরকারের ব্যর্থতা
বাংলাদেশী দাতাদের
কাছে কিছুটা
ধোঁয়াশা হিসেবে
থেকে যায়।
১৯৯১
সালে বেসরকারি
খাতের উন্নয়নে
শিল্পনীতি প্রণয়ন
করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ
ও অর্থায়নে
সরকার বৈদেশিক
বাণিজ্যকে উদারীকরণ,
বিনিময় নিয়ন্ত্রণ
শিথিলকরণ এবং
আমদানি শুল্ক
পুনর্গঠনের মাধ্যমে
একটি কার্যকর
পরিবেশকে উন্নীত
করে ব্যাপক
বেসরকারীকরণের পথ
প্রশস্ত করেছে
(হাওলাদার ২০১৫)।
১৯৯১ সালের
মার্চ পর্যন্ত
৫০৫টি প্রতিষ্ঠানকে
বেসরকারি করা
হয়েছে। কিন্তু
বেসরকারি করার
ফলে ওই
সব প্রতিষ্ঠানের
ফলাফল কী,
তা নির্দেশকারী
কোনো দলিল
বা তথ্যপ্রমাণ
পাওয়া যায়নি।
বেসরকারীকরণ এজেন্ডা
বাস্তবায়নে চাপ
দেয়া দাতা
সংস্থাগুলোর দিক
থেকেও তাদের
যুক্তির বৈধতা
প্রতিষ্ঠায় বেসরকারীকৃত
প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য
নির্ণয়ে কোনো
অভিজ্ঞতালব্ধ গবেষণা
হয়নি; সরকারের
প্রতি যাদের
স্বতঃসিদ্ধ পরামর্শ
ছিল, বেসরকারীকরণ
ক্ষুদ্র পরিসরে
প্রতিষ্ঠান ও
বৃহৎ পরিসরে
অর্থনীতি উভয়
পর্যায়ে অর্থনৈতিক
নৈপুণ্যের উন্নয়ন
ঘটাবে।
অর্থনীতিবিদ
রেহমান সোবহান
তার ‘বেসরকারীকরণ:
রাজনৈতিক প্ররোচনা
দ্বারা প্রভাবিত’
শীর্ষক নিবন্ধে
যেমন উল্লেখ
করেছেন, ১৯৯০-এর
দশকে বেসরকারীকরণ
প্রক্রিয়া ধীর
হওয়ার বিষয়টি
তদন্ত ছাড়া
বিশ্বব্যাংক যুক্তি
দিল, একজন
অবসরপ্রাপ্ত আমলার
নেতৃত্বাধীন প্রাইভেটাইজেশন
বোর্ড (পিবি)
গঠন করলে
বেসরকারীকরণ গতি
পাবে। ১৯৯৬
সালের জুনে
নতুন নির্বাচিত
আওয়ামী লীগ
সরকার পিবির
চেয়ারম্যান হিসেবে
একজন খ্যাতিমান
ব্যবসায়ীকে নিয়োগ
দেয়। তাকে
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা
দেয়া হয়
এবং নিজের
ব্যবসা পরিচালনার
অনুমতি দেয়া
হয়। একই
সঙ্গে বোর্ডের
সাম্মানিক (অবৈতনিক)
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব
পালনেরও সুযোগ
দেয়া হয়।
ব্যাংক
বেসরকারীকরণের কিছু
ফলাফল থেকে
আমরা দেখি,
বিনিময় প্রক্রিয়ার
এ সময়ে
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর
খেলাপি ঋণের
পরিমাণও বেড়ে
গিয়েছিল। এটি
ইঙ্গিত করে,
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের
আকার হ্রাস
ও ব্যক্তি
খাতের সম্প্রসারণ
ব্যাংকিং ব্যবস্থার
জন্য কোনো
স্বস্তি আনেনি,
যেমনটা এটি
স্বস্তি আনেনি
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের
জন্য। প্রাপ্ত
তথ্যপ্রমাণ বলে,
বেসরকারি ব্যাংকের
বিরূপ ঋণ
শ্রেণীবিন্যাসের কারণ
ছিল অভ্যন্তরীণ
ঋণদান (ইনসাইডার
লেন্ডিং), যেখানে
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর
পরিচালকরা ব্যাংকিং
আইন তোয়াক্কা
না করে
আইনবহির্ভূতভাবে ব্যাংকঋণের
অনুমোদন দিয়েছে
এবং বেশির
ভাগ ক্ষেত্রে
সেসব ঋণ
খেলাপি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাবিত
ঋণদান ও
দুর্বল পুনরুদ্ধার
প্রক্রিয়ার কারণে
এনসিবির ব্যাপক
সংকট ক্ষমা
করা যায়
না। একই
সঙ্গে ব্যাংকিং
ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক
হিসেবে কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের যথাযথ
দায়িত্ব পরিপালন
না করার
বিষয়টিতেও কোনো
অজুহাত খাড়া
করা যায়
না। তবে
এটা স্পষ্ট,
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায়
ব্যাংক বেসরকারীকরণ
ব্যাংকিং ব্যবস্থার
সংকট বাড়িয়েছে।
প্রকৃত বিষয়
হলো, কোনো
বাণিজ্যিক ব্যাংকের
ঋণ পোর্টফোলিওর
এক-তৃতীয়াংশ
শ্রেণীকৃত থাকা
ও ডিএফআইয়ের
কাছে ঋণগ্রহীতার
৯০ শতাংশ
খেলাপি থাকা
(সোবহান, ১৯৯৩)
ইঙ্গিত দেয়,
১৯৮২ সালের
পর বেসরকারীকরণ-পরবর্তী
যুগে ব্যক্তি
খাত ব্যাংকিং
ব্যবস্থার কাছে
ব্যাপক খেলাপি
বা দায়গ্রস্ত
হিসেবে আবির্ভূত
হয়েছে এবং
বেসরকারীকরণের যুগেও
সমরূপ থাকছে,
যেটিকে এখন
বাংলাদেশে বলা
হয় খেলাপি
সংস্কৃতি।
সূত্র:
২০০২ সালে প্রকাশিত সিপিডির অকেশনাল পেপার সিরিজে লেখা গবেষণা নিবন্ধ এবং
ইউপিএল থেকে প্রকাশিত ‘মেকিং অব আ নেশন বাংলাদেশ’।
রুহিনা ফেরদৌস: সাংবাদিক





