বহু মনীষী পৃথিবীকে স্বর্গে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছেন যুগে যুগে। লেনিন নামে খ্যাত ভ্লাদিমির ইলিচ উলিনভ তাদের অন্যতম।

পুঁজিবাদী বিশ্বে ১৮৯৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আলফ্রেড নোবেল পুরস্কার তহবিল সৃষ্টি করেছিলেন বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও কবি-সাহিত্যিকদের সম্মানিত করার জন্য। এই একই বছর রাশান ফার্মেসি সোসাইটি স্থাপিত হয়।

১৮৯৫ সাল পৃথিবীর পরিবর্তনের সূচনার বছর। সেন্ট পিটার্সবার্গে শ্রমিকদের সংঘটিত করে লিগ অব স্ট্রাগলের মাধ্যমে আন্দোলন এবং দার্শনিক প্লেখানভের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ডিসেম্বর ১৮৯৫-তে লেনিন গ্রেফতার হন। শাস্তি হিসেবে আইনের ছাত্র লেনিন ফেব্রুয়ারি ১৮৯৭ পর্যন্ত এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পরে আরো তিন বছর নির্জন বাসের দণ্ড ভোগ করলেন সাইবেরিয়ায়। দণ্ড শেষে ১৯০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে লেনিন ফিরে এলেন সেন্ট পিটার্সবার্গে। নির্বাসনকালে লিখলেন ‘The Development of Capitalism in Russia’ and ‘The Tasks of the Russian Social Democrats’. যা অচিরে সব বিপ্লবীর পাঠ্যপুস্তকে পরিণত হয়।

স্মরণ প্রয়োজন যে, জার সম্রাটকে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে লেনিনের বড় ভাই আলেকজান্ডার ইলিচ উলিনভের ফাঁসি হয়েছিল ১৮৮৭ সালের ২০ মার্চ। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আলেকজান্ডার উচ্চকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘বিপ্লব অনিবার্য। আমি মৃত্যু আলিঙ্গনে ভীত নই।’ জারের পুলিশের নজর এড়িয়ে এবং ইউরোপের শিল্প বিপ্লবকে সম্যকভাবে জেনে রাশিয়ার কৃষক-শ্রমিকদের সংগঠিত করে বিপ্লবের চারণভূমি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ১৯০০ সালের এপ্রিলে গোপনে লেনিন যাত্রা করলেন ফিনল্যান্ড ও জার্মানি হয়ে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে।

শিল্প বিপ্লবের প্রাক্কালে, ওই একই বছর সুইজারল্যান্ডের শিল্পনগরী বাসেল শহরে জন্ম নেয় ভবিষ্যতের ফার্মাসিউটিক্যালস দানব সিবা (Ciba)। বাসেলে আরো রয়েছে ডাচ দার্শনিক এরাসমাসের সমাধি।

সিবা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫০ সালে সিল্কে রঙ করার রাসায়নিক দ্রব্যাদি উৎপাদনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে। ১৯০০ সালে সিবা ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। ১৯৭০ সালে সিবার সঙ্গে যুক্ত হয় আরেক রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান জি আর গেইগি। গেইগির গবেষক পল মুলার মশা নিরোধক ডিডিটি (Dichloro diphenyl trichlorethane : DDT) আবিষ্কারের জন্য ১৯৪৮ সালে ‘নোবেল পুরস্কার’ পেয়েছিলেন। ক্যান্সার সৃষ্টিতে সহায়তা করে বিধায় বাংলাদেশসহ ৪৯টি দেশে ডিডিটি ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং অন্য ২৩টি দেশে সীমিত ব্যবহারের অনুমতি আছে।

১৯৯৬ সালে সিবাগেইগির সঙ্গে একীভূত হয় পৃথিবীর অন্যতম