নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টার দিকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো চার শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৩৮৪ জন বিদেশী পর্যটক। হতাহতের এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি।
নেপালের স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার সকালে ৮টা ৩৭ মিনিটে অনুভূত একটি ভূমিকম্পের পর তুষারধস নামে। এতে গলিত বরফের পানি দ্রুত পাহাড়ি নদী ‘ভোতে কোশি’তে আছড়ে পড়লে এ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত দুর্গম এলাকাগুলোয় নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্ধার তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর তলদেশ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকের আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নেপালের হিমালয় সীমান্তে একটি বিশাল কাদা ও পাথরের স্তর নদীতে ধসে পড়ে। এতে লহেন্দে নদীতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নদীটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
দুর্যোগটির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ভূমিকম্পের বিষয়টিও সামনে এসেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের কারণে পাহাড়ে তুষার ও পাথরের ধস বা অ্যাভালাঞ্চ সৃষ্টি হয়ে বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
আর জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসও জানিয়েছে, আকস্মিক এ বন্যা ও ভূমিধ্বসের প্রায় সাত মিনিট আগে ওই অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। আর দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বন্যায় বেঁচে যাওয়া ৮৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাইলাং গ্রাম থেকে আরো ১১৫ জনকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এছাড়া অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ১৫টি হেলিকপ্টার যুক্ত করা হয়েছে। তবে অন্ধকার নেমে আসায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে তাদের জীবন বাঁচানোর লড়াই।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিমুরে, স্যাফ্রোবেসি ও বেত্রাবতী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে সেতু ভেসে গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ শেয়ার করা একটি হালনাগাদ তথ্যে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, তারা মোট ৩৮৪ জন পর্যটককে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। এদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশী নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশীদের মধ্যে ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক, ১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই), ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন আমেরিকান, ১ জন অস্ট্রেলীয় এবং ১ জন ডাচ নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া আরো ১১১ জন নিখোঁজের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকস্মিক এ বন্যায় তাদের আটজন নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিখোঁজ ব্যক্তিরা ওই এলাকায় একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ ছাড়া আরো ১০ জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারের জন্য হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।















