নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় শুধু নেপালে নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ বাহিনীর দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে নেপাল সরকার। এছাড়া তিব্বতে ২৬৫ জন নিখোঁজ এবং তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি। খবর রয়টার্স, বিবিসি।

নেপালের স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার সকালে ৮টা ৩৭ মিনিটে অনুভূত একটি ভূমিকম্পের পর তুষারধস নামে। এতে গলিত বরফের পানি দ্রুত পাহাড়ি নদী ‘ভোতে কোশি’তে আছড়ে পড়লে এ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত দুর্গম এলাকাগুলোয় নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্ধার তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর তলদেশ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকের আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা করছে।

দেশটি এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৫৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৮ দেশের ৪৬৬ জন বিদেশী নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া নিখোঁজ তালিকায় ১১৩ জন নেপালি পর্যটক, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন নাগরিক এবং যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়া ৩৩ জন পর্যটক রয়েছেন। হতাহতের এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নেপালের হিমালয় সীমান্তে একটি বিশাল কাদা ও পাথরের স্তর নদীতে ধসে পড়ে। এতে লহেন্দে নদীতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নদীটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

দুর্যোগটির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ভূমিকম্পের বিষয়টিও সামনে এসেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের কারণে পাহাড়ে তুষার ও পাথরের ধস বা অ্যাভালাঞ্চ সৃষ্টি হয়ে বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

আর জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসও জানিয়েছে, আকস্মিক এ বন্যা ও ভূমিধ্বসের প্রায় সাত মিনিট আগে ওই অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ১৫টি হেলিকপ্টার যুক্ত করা হয়েছে। তবে অন্ধকার নেমে আসায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিমুরে, স্যাফ্রোবেসি ও বেত্রাবতী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে সেতু ভেসে গেছে।