যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ অস্থায়ীভাবে নিজের অধীনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সঙ্গে, ওয়াশিংটন ডিসিতে ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করছেন তিনি। রাজধানীতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার এক নজিরবিহীন প্রয়োগ হিসেবেই ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। খবর এপি।

ট্রাম্প মূলত এই পদক্ষেপ নিয়েছেন শহরের নির্বাচিত নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, তার দ্বিতীয় মেয়াদে এটি আরেকটি উদাহরণ যেখানে তিনি আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে রাজনৈতিক রীতিনীতিকে অগ্রাহ্য করে নজিরবিহীনভাবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করছেন।

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের রাজধানী সহিংস গ্যাং ও রক্তপিপাসু অপরাধীদের দখলে চলে গেছে।‘ শহরকে বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে তিনি এই পদক্ষেপকে তুলে ধরেন। যদিও সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে সহিংস অপরাধ বেড়ে গেলেও এরপর দ্রুত তা হ্রাস পাচ্ছে।

চলতি গ্রীষ্মে এটি দ্বিতীয় ঘটনা যখন ট্রাম্প কোনো ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরে সেনা মোতায়েন করলেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের অনুমতি ছাড়াই জুন মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড পাঠান ট্রাম্প। এ ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা চলছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিকাগোসহ অন্যান্য বড় ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরও পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ট্রাম্পের নির্দেশে কয়েক ডজন ফেডারেল সংস্থার শতাধিক কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি শহরের পুলিশ তদারকি করবেন বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা এবং আইন প্রয়োগে শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউসার বলেন, ২০২৪ সালে শহরে সহিংস অপরাধ ৩৫% এবং ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে আরো ২৬% কমেছে—যা তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে তিনি স্বীকার করেন, আইন অনুযায়ী জরুরি অবস্থায় অস্থায়ীভাবে পুলিশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের আছে। শহরের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শ্যাল্ব ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন।

ট্রাম্প হোম রুল অ্যাক্টের একটি ধারা ব্যবহার করে শহরে ‘জননিরাপত্তা জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ৩০ দিনের জন্য পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিলেন। একইসঙ্গে তিনি গৃহহীনদের অস্থায়ী বসতি উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তবে স্থানান্তরের পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

উল্লেখ্য, রাজধানীর ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের উপর প্রেসিডেন্টের সরাসরি কর্তৃত্ব রয়েছে—যা রাজ্যভিত্তিক বাহিনীর ক্ষেত্রে সাধারণত গভর্নরের হাতে থাকে। অতীতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলা ও ২০২০ সালের পুলিশি নির্যাতনবিরোধী বিক্ষোভ দমনেও ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল।