ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও থাইল্যান্ডে অবস্থানের জন্য সন্দেহভাজন ১০ হাজারের বেশি বিদেশীকে খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন ব্যুরো। ব্যাংকক, পর্যটন দ্বীপ ও সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে এ অভিযান চলবে। আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকা ও অপরাধসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ইমিগ্রেশন ব্যুরো। খবর আসিয়ান নাউ।
সংঘবদ্ধ প্রতারণা, মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন ব্যুরোর প্রধান পুলিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোপাসিন পুলসাওয়াত নির্দেশে এ অভিযানের পরিচালনা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত, ১৯ অক্টোবর ব্যাংককে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে থাই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক প্রতারণাচক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটজন দক্ষিণ কোরীয় ও দুজন চীনা নাগরিক গ্রেফতার করেছে।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তি থেকে কার্যক্রম চালিয়ে ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা ও স্ক্যামের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভুক্তভোগীদের টার্গেট করত। ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও থাইল্যান্ডে থেকে যাওয়া ও প্রতারণা মামলায় ওয়ান্টেড এক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর এ তদন্ত শুরু হয়। এর সাথে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া ১০ জনেরই ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
ব্যাংককের হুয়াই খোয়াং থেকে ৫৪ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, তিনি ২ হাজার ৯৫ দিন বা প্রায় পাঁচ বছর নয় মাস ওভারস্টে করেছেন। তার আবাসস্থলে ক্রিস্টাল মেথ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, ১৬ অক্টোবর কো সামুই, কো ফাঙান ও কো তাওয়ে ওভারস্টের দায়ে একাধিক বিদেশি নারী গ্রেফতার হন। তাদের একজন অনুমোদিত সময়ের চেয়ে ৭৯৯ দিন বেশি ছিলেন। পরদিন মিয়ানমার সীমান্তে ২০০-র বেশি অপরাধী ধরা পড়েন। একই অভিযানে আটটি মাদক ও ছয়টি অনলাইন জুয়ার মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
ইমিগ্রেশন ব্যুরোর প্রধান নোপাসিন গত ১ অক্টোবর জানান, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ৮১ হাজারের বেশি বিদেশিকে দেশটিতে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। মাসে গড়ে প্রায় ৭ হাজার।
ইমিগ্রেশন অভিযানের পাশাপাশি চলছে বড় পরিসরের মাদকবিরোধী অভিযানও। ৯ অক্টোবর রয়্যাল থাই পুলিশ ১ দশমিক ৮ টনের বেশি ক্রিস্টাল মেথ, ১ কোটি ৮০ লাখ মেথ ট্যাবলেট এবং ৫৫ কোটি বাথের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দের কথা জানায়।
গত ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল স্বাক্ষরিত নতুন নির্বাসন পদ্ধতি । অবৈধ প্রবেশ, ওভারস্টে, অনুমোদনহীন কাজ, নথি জালিয়াতি ও গুরুতর অপরাধে প্রযোজ্য এ বিধিতে কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পরপরই নির্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ওভারস্টে ও অবৈধ কাজের দায়ে ১৪ হাজার ১৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৬৬৮টি স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল হয়েছে। এছাড়াও ১৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।
অভিযানে কোনো বাংলাদেশী গ্রেফতারের খবর পাওয়া না গেলেও স্থানীয় গণমাধ্যম বরাতে জানা গেছে, চলতি বছর ৮ এপ্রিল থাইল্যান্ডের একটি রিসোর্ট থেকে ২১ বাংলাদেশীকে অবৈধ প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ২৫ মে সীমান্ত এলাকায় আরো ছয় বাংলাদেশী আটক হন। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, থাইল্যান্ডের কারাগারে বর্তমানে ১২৭ বাংলাদেশী বন্দি রয়েছেন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (আজ) পর্যন্ত মাত্র ১১ জন বাংলাদেশী কর্মী ভিসায় থাইল্যান্ডে গেছেন। আর শুধু এ বছর গেছেন মাত্র ৩ জন কর্মী। ধারনা করা হয় দেশটিতে আনুমানিক প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশী বৈধভাবে রয়েছেন।










