গত ২৬ মার্চের ঘটনা, দিনটা ছিল বুধবার। প্রতিদিনের মতো সেদিনও আদালতে উপস্থিত হন বিচারকরা। সেদিনের কার্যতালিকায় থাকা এক ব্যক্তির আপিলের শুনানি শুরু করলেন। বিবাদী পক্ষের উকিল আদালতে সশরীরে হাজির থাকলেও বাদী পক্ষের উকিল হাজির হলেন ভিডিওতে। তবে মজার বিষয় হলো, এ উকিলের কোনো পেশাগত ডিগ্রি নেই। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো বাস্তবেই তার কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি মূলত কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি করা একটি এভাটার (মানুষের প্রতিকৃতি)।
এমনটাই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে। ওইদিন চাকরি-সংক্রান্ত একটি আপিল শুনানিকালে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন জেরোমি ডিওয়াল্ড নামে এক ব্যক্তি। নিজের পক্ষে কোনো উকিল না থাকায় তিনি এআইয়ের সহায়তায় অ্যাভাটার বানিয়ে তাকেই আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তবে এতে বিশেষ কোনো লাভ হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার চালাকি ধরে ফেলেন বিচারকরা।
সেদিন আদালতে আপিলের শুনানির সময় নিজের পক্ষে কথা বলতে একটি ভিডিও উপস্থাপনের অনুমতি চেয়েছিলেন ডিওয়াল্ড। অনুমতি মেলার পর ভিডিওটি চালু হলে স্ক্রিনে (পর্দায়) বেশ গোছালো ও পরিপাটি পোশাক পরিহিত এক সুদর্শন যুবককে দেখা যায়। তিনি বলেন, আদালতের সদয় বিবেচনার জন্য জানাচ্ছি, আমি বিচারকদের সামনে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাদীর পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি।
সঙ্গেই সঙ্গেই তাকে থামিয়ে দিয়ে বিচারক জানতে চান, এই ব্যক্তি মামলার কোনো আইনজীবী কিনা? উত্তরে বাদী জানান, ভিডিওর ব্যক্তি আসলে মানুষ নন, এআইয়ের সহায়তায় একে তিনি তৈরি করেছেন আদালতে তার পক্ষে কথা বলার জন্য। এ কথা শুনেই রেগে যান বিচারক। বলেন, আমি প্রতারিত হতে পছন্দ করি না। ডিওয়াল্ডকে তিনি বলেন, আপনি যখন আবেদন করেছেন, এ বিষয়ে তখনই আদালতকে অবগত করা প্রয়োজন ছিল।
এ ঘটনার জন্য বিচারকদের কাছে ক্ষমা চান ডিওয়াল্ড। আদালতকে জানান, কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে তিনি এই কাজ করেননি। তার আইনি বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য কোনো আইনজীবী পাননি। এ কারণে তার বক্তব্য তুলে ধরতে এ অ্যাভাটার বানিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এপির এক খবরে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর এক টেক কোম্পানি থেকে একটি এআই টুল কিনে ওই অ্যাভাটার তৈরি করেছিলেন ডিওয়াল্ড। নিজের চেহারার মতো করেই ওই এভাটার বানাতে চেয়েছিলেন। তবে শুনানির আগে তা সম্ভব হয়নি।
তবে বিচারিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে কিন্তু প্রথম নয়, খোদ আইনজীবীরাই এর ব্যবহার করে সমস্যায় পড়েছেন। ২০২৩ সালের জুনে একটি মামলায় এআইয়ের ব্যবহার করে ৫ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল নিউ ইয়র্কের দুই আইনজীবীকে।
- ইউএনবি















