অনেকেই মনে করেন, চিকেন পক্স তেমন গুরুতর কোনো রোগ নয়। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতো, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। তাদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হতো এবং প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটত। ফলে এ রোগকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।
চিকেন পক্স শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি তার পরিবার ও আশপাশের মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলে। কোনো শিশু আক্রান্ত হলে অনেক সময় তার বাবা-মাকে কর্মস্থল থেকে ছুটি নিতে হয় এবং পরিবারের অন্য শিশুদেরও স্কুলে যাওয়া বন্ধ রাখতে হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে টিকা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং তার চারপাশের মানুষকেও সুরক্ষা দেয়। তবে টিকা কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, একবার চিকেন পক্স হলে তা ভ্যাকসিনের তুলনায় বেশি শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। বাস্তবে এ ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং নিরাপদ থাকার জন্য টিকাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। তাছাড়া চিকেন পক্সে আক্রান্ত হওয়ার পর ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা টিকা গ্রহণের মাধ্যমে অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
কেউ কেউ মনে করেন, ভ্যাকসিন নিলে চিকেন পক্স হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ভ্যাকসিন মূলত রোগ প্রতিরোধের জন্যই দেয়া হয়। চিকেন পক্স নিয়ে আরো কিছু ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত আছে। যেমন অনেকে মনে করেন এ রোগে গোসল করা উচিত নয়, অথচ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে ত্বকে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। আবার অনেকে এটিকে শুধু শিশুদের রোগ বলে মনে করেন, যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এটি হতে পারে এবং তাদের ক্ষেত্রে তা আরো মারাত্মক হতে পারে। ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করাও বিপজ্জনক, কারণ এতে রোগ জটিল হয়ে উঠতে পারে। সাধারণভাবে একবার এ রোগ হলে পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও বিরল ক্ষেত্রে তা আবারো হতে পারে। এছাড়া পক্সের ফোসকা খুঁটে বা ফুটিয়ে দিলে স্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই অসুস্থ অবস্থায় খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেন, যা ভুল ধারণা; বরং এ সময় পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।










