তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো রুবেলার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবুও রোগটি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো বিদ্যমান থাকায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও জনসংযোগের মাধ্যমে নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

যারা কখনো রুবেলা টিকা নেননি এবং আগে রুবেলায় আক্রান্তও হননি, তাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে খুব সহজেই এটি অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ কারণে টিকাবিহীন ব্যক্তি বা শিশুদের জন্য ঝুঁকি বিশেষভাবে বেশি। কোনো এলাকায় রুবেলার প্রাদুর্ভাব হলে যারা পূর্ণাঙ্গ টিকাদান সম্পন্ন করেননি অথবা আগে কখনো রুবেলায় আক্রান্ত হননি, তাদের সংক্রমণের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

রুবেলা কি জটিলতা তৈরি করতে পারে?

অধিকাংশ ক্ষেত্রে রুবেলা তুলনামূলক মৃদু রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও কিছু বিরল ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে—

 রক্তে প্লাটিলেট সংখ্যা কমে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া)

 মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)

 বিরল ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ, যা স্নায়বিক জটিলতার কারণ হতে পারে

গর্ভবতী নারী ও অনাগত শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি

রুবেলার সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকি গর্ভবতী নারী ও তার গর্ভস্থ শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় কোনো নারী রুবেলায় আক্রান্ত হলে ভাইরাসটি প্লাসেন্টার মাধ্যমে অনাগত শিশুর শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম দিকে সংক্রমণ ঘটলে ভ্রূণের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে জন্মগত রুবেলা সিনড্রোম (Congenital Rubella Syndrome বা সিআরএস) নামের একটি গুরুতর অবস্থা তৈরি হতে পারে।

এ সিনড্রোমের কারণে দেখা দিতে পারে—

 গুরুতর জন্মগত ত্রুটি

 গর্ভপাত

 মৃত শিশুর জন্ম (স্টিলবার্থ)

ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি সমাজে পর্যাপ্ত টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে রুবেলার বিস্তার রোধ করা এবং জন্মগত রুবেলা সিনড্রোমের মতো ভয়াবহ জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।