এটি সুস্থ দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও ত্বকের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত খাদ্যের মাধ্যমেই শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ পেয়ে থাকে।

খাদ্য থেকে মূলত দুই ধরনের ভিটামিন এ পাওয়া যায়। প্রাণিজ উৎস যেমন মাংস, মাছ, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকে প্রিফর্মড ভিটামিন এ। অন্যদিকে লাল, হলুদ, সবুজ ও কমলা রঙের ফল ও শাকসবজিতে থাকা ক্যারোটিনয়েড শরীরে রূপান্তরিত হয়ে প্রোভিটামিন এ তৈরি করে।

যদিও সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে সাধারণত এ ভিটামিনের ঘাটতি হয় না, তবে গর্ভবতী নারী, বুকের দুধ খাওয়ানো মা এবং শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা সিস্টিক ফাইব্রোসিসের মতো সমস্যাও ভিটামিন এর অভাবের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

শরীরে ভিটামিন এর ঘাটতি থাকলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া

ভিটামিন এ ত্বকের কোষ গঠন ও পুনর্গঠনে সহায়তা করে। এর ঘাটতি থাকলে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ হয়ে যেতে পারে এবং একজিমার মতো প্রদাহজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

রাতকানা রোগ

রাতে বা কম আলোতে দেখতে অসুবিধা হওয়া ভিটামিন এর ঘাটতির পরিচিত লক্ষণ। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে রাতকানা রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গর্ভধারণ ও প্রজননে জটিলতা

ভিটামিন এ নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাব থাকলে গর্ভধারণে সমস্যা কিংবা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চোখে শুষ্কতা অনুভব

ভিটামিন এর অভাব চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করতে পারে। ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা পর্যাপ্ত অশ্রু তৈরি না হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কর্নিয়ার ক্ষতি এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিও থাকে।

শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া

শিশুর শারীরিক বিকাশ ও বৃদ্ধি ঠিক রাখতে ভিটামিন এ প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পরিমাণে না পেলে তাদের বৃদ্ধি ধীর বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ঘন ঘন গলা ও বুকে সংক্রমণ

ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। তাই বারবার গলা বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হলে সেটিও ঘাটতির একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।

ক্ষত সারতে দেরি হওয়া

ভিটামিন এ কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা ত্বক ও ক্ষত নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে শরীরে এ ভিটামিনের অভাব থাকলে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ক্ষত শুকাতে সময় বেশি লাগতে পারে।

তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে নিশ্চিতভাবে ভিটামিন এ-র অভাব রয়েছে, এমন নয়। একই ধরনের উপসর্গ অন্য রোগ বা শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন এসব সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন