তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, নারীরা দীর্ঘদিন অটিজমের লক্ষণ বহন করলেও তা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্ণয় করা হয় না।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, অটিজম ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় চার গুণ বেশি নির্ণীত হয়। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, বাস্তবে এ পার্থক্য এতটা নয়। বরং অনুমান করা হচ্ছে, প্রায় ৮০ শতাংশ অটিস্টিক নারী ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ণয়ের বাইরে থেকে যান। ফলে অনেক নারী দীর্ঘদিন ধরে অজানা সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেন, যার সঠিক ব্যাখ্যা তারা পান না।
অটিজম নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটির জন্য কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরীক্ষা নেই। চিকিৎসকেরা সাধারণত ব্যক্তির শৈশবকালীন বিকাশ, আচরণ ও উপসর্গ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেন। নির্ণয়ের জন্য দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য খোঁজা হয়—সামাজিক যোগাযোগে অসুবিধা এবং সীমিত বা পুনরাবৃত্ত আচরণ। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এ লক্ষণগুলো প্রায়ই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না।
এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দীর্ঘদিন ধরে অটিজমকে ‘ছেলেদের সমস্যা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অধিকাংশ গবেষণা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পুরুষদের লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় নারীদের ভিন্নধর্মী লক্ষণ অনেক সময় ধরা পড়ে না। ফলে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অনেক বেশি সংখ্যায় অটিজম নির্ণয়ের জন্য পাঠানো হয়।
এছাড়া শৈশবে মেয়েদের অটিজমের প্রকাশ ভিন্ন হতে পারে। তারা তুলনামূলকভাবে সামাজিকভাবে বেশি মানিয়ে নিতে পারে এবং বন্ধুত্ব গড়ার চেষ্টা করে। তাদের যোগাযোগ দক্ষতা অনেক সময় স্বাভাবিক মনে হয়, যদিও তারা ভেতরে ভেতরে সংগ্রাম করে। অন্যদিকে ছেলেদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা, আক্রমণাত্মক আচরণ বা স্পষ্ট আচরণগত সমস্যা বেশি দেখা যায়, যা সহজেই নজরে আসে।
নারীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তারা প্রায়ই তাদের সমস্যাগুলো নিজের মধ্যে চেপে রাখেন। ফলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা মানসিক চাপ তৈরি হয়, যা অনেক সময় সাধারণ লাজুকতা হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়।
গবেষণায় আরো দেখা যায়, শৈশবে অটিস্টিক মেয়েদের সামাজিক ও যোগাযোগ দক্ষতা তুলনামূলক ভালো হলেও কৈশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে তাদের সমস্যাগুলো বাড়তে পারে। তখন তারা সামাজিক সম্পর্ক, কর্মজীবন ও দৈনন্দিন জীবনে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
অটিজম নির্ণয় অনেক প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটি তাদের দীর্ঘদিনের অজানা সমস্যার ব্যাখ্যা দেয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। তাই নারীদের অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিকভাবে লক্ষণ চিহ্নিতকরণ ও উপযুক্ত সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি।
প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে অটিজম একটি অবহেলিত, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। সঠিক জ্ঞান, গবেষণা ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং এতে সমাজ আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক হয়ে উঠবে।
সূত্র: ইসিএলএ হেলথ










