নিঃশব্দ, ঠান্ডা আর আলোহীন সমুদ্রের গভীরে কেউ কি কখনো ভাবতে পেরেছে জীবন এত বিচিত্র হতে পারে? আলো-উদ্ভিদ কিছুই নেই, তবুও সেখানে টিকে রয়েছে প্রাণ। তারা শিখে নিয়েছে টিকে থাকার অদ্ভুত এক কৌশল। খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ানো মিথেন গ্যাস।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাস্কার উপকূলের গভীর সাগরে আবিষ্কৃত হয়েছে এমন তিনটি নতুন প্রজাতির সমুদ্র মাকড়সা, যাদের বেঁচে থাকার গল্প শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হয়। এদের শরীরে বাস করে বিশেষ ব্যাকটেরিয়া, যারা মিথেন ও অক্সিজেন থেকে তৈরি করে চিনি আর চর্বি। আর সেই খাবার খেয়েই বেঁচে থাকে এই সি-স্পাইডাররা।

গবেষক শানা গফ্রেদি জানিয়েছেন, এই মাকড়সাগুলোর শরীরে স্বাভাবিক শিকার বা আহারের অঙ্গ নেই। অন্য প্রজাতির সি স্পাইডার যেখানে শিকার করে, সেখানে এরা নিজের শরীরেই খাবার চাষ করে। যেন এক ধরনের স্বয়ংসম্পূর্ণ খামার!

গল্প এখানেই থেমে থাকে না। এই সি স্পাইডারদের পুরুষ সদস্যরা হাঁটুর ভাঁজে ডিম ধরে রাখে, আর সেই সময় ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয় বাচ্চার শরীরে। অনেকটা আমাদের শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মতো, যেগুলো জন্মের সময় মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে যায়। গবেষকেরা বলছেন, এটি মানুষের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া উত্তরাধিকারের ধারণা বোঝার ক্ষেত্রেও বড় সূত্র হতে পারে।

এত প্রতিকূলতার মাঝেও পরিবেশের সেবায় নিয়োজিত থাকে এরা। কারণ এদের শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলো মিথেন গ্যাস শোষণ করে। এগুলো বাতাসে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনে গুরুতর প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আকৃতিতে ছোট হলেও এদের কাজকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আজ যখন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছে বিশ্ব, তখন অজানা সমুদ্রের অন্ধকারে এমন প্রাণীরা দেখিয়ে দিচ্ছে— প্রকৃতি কখনোই হাল ছাড়ে না। হয়তো এই নীরব বাস্তুতন্ত্রের যোদ্ধারাই একদিন আমাদের জলবায়ু সংকটের সমাধান দেখাতে পারবে।

—সিএনএন