স্কটল্যান্ডের গভীর হাইল্যান্ডে শুয়ে আছে বিশাল লক নেস হ্রদ। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সব হ্রদের চেয়ে বেশি গভীর এটি। আর সেই গভীরতায় লুকিয়ে আছে এক শতবর্ষের রহস্য। তাই একে বলা হয় লক নেস মনস্টার বা নেসি। শিকারি, বিজ্ঞানী, পর্যটকসহ সবাইই শতাব্দী ধরে নেসিকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কেউ তাকে খুঁজে বের করতে পারেনি।
১৯৩৩ সালের এক রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে হোটেল ম্যানেজার অ্যাল্ডি ম্যাকি শান্ত জলের উপর অদ্ভুত কিছু দেখতে পান। প্রথমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, সেটি কী— হাতি, তিমি নাকি অন্য কোনো প্রাণী। বস্তুটি কালো, ভেজা ও চকচকে ছিল। হঠাৎ এটি পানিতে কিছুক্ষণের জন্য ভেসে উঠে ঘূর্ণির মতো ঘুরে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। স্থানীয় রূপকথার সঙ্গে পরিচিত ম্যাকি নিজেই ভেবে বসেছিলেন, হয়তো সেটিই সেই জন্তু, কিন্তু বিশ্বাস করা কঠিন।
ঘটনাটি থেমে থাকেনি। কানাকানি হতে হতে শেষ পর্যন্ত তা গিয়ে পৌঁছায় স্থানীয় এক সাংবাদিক ও ফিশিং কর্মকর্তা অ্যালেক্স ক্যাম্পবেলের কাছে। তিনি প্রথম পত্রিকায় প্রাণীটিকে ‘মনস্টার’ বা ‘দানব’ হিসেবে পরিচয় করান। এতে করে মানুষের মধ্যে নতুন আরেক চাঞ্চল্য শুরু হয়। ম্যাকির ব্যক্তিগত অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও, গল্পটি দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

নেসির কল্পনা আরো ছড়িয়ে পড়ে ১৯৩৪ সালে সবচেয়ে পরিচিত ছবির মাধ্যমে। ছবিতে দেখা যায় হ্রদের পানি থেকে লম্বা গলার কিছু মাথা উঁচু করে আছে। সাপের মতো মনে হলেও সেটি আসলে কী-তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। বহু বছর ধরে ছবিটি সেই রহস্যকে জীবিত রেখেছে।
১৯৭৯ সালে এক প্রকৃতিবিদ ধারণা দেন, এটি সম্ভবত পানিতে সাঁতার কাটা হাতির শুঁড় হতে পারে। ২০০৬ সালে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিল ক্লার্কও একই ধারণা দেন। কারণ সেই সময়ে সার্কাসের হাতিরা লক নেসে বিশ্রাম নিত। হাতি যখন সাঁতার কাটত, তখন শুঁড় ও পিঠের অংশ দেখা যেত, যা নেসির মতো মনে হতো।
তবে ১৯৭৬ সালে এক আমেরিকান ট্রোম্বোন বাদক অদ্ভুত চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ট্রোম্বোনে নেসির ডাক নকল করে প্রাণীটিকে পানি থেকে বের করার চেষ্টা করেন। ফলাফল ছিল, নেসি কোনো সাড়া দেয়নি। সেই থেকে শতবর্ষ ধরে নেসি নিজস্ব রহস্যে হাইল্যান্ডের গভীরে অদৃশ্য থেকে গেছে। মানুষ যতই তার খোঁজ করুক না কেন, রহস্যের ছায়া ততই অটুট থেকে গেছে।
—বিবিসি










