ছোট্ট ও দুর্বল দেহ নিয়ে জন্ম নিয়েছিল সে। অন্য মুরগিরা প্রতিদিন তাকে তাড়া করত, যেন দল থেকে আলাদা করে দিতে চাইছে। সবাই ভেবেছিল, বেশিদিন বাঁচবে না। কিন্তু সেই ‘পার্ল’-ই আজ এক বিস্ময়ের নাম। টেক্সাসের সোনিয়া হালের ঘরে জন্ম নেয়া এই মুরগি গড়েছে ইতিহাস। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণতম জীবিত মুরগি হিসেবে।

২০১১ সালের ১৩ মার্চ ইনকিউবেটরের ভেতরে ফুটেছিল পার্ল। শুরু থেকেই ছিল দলছুট। মালিক সোনিয়া হাল আগলে রেখেছিলেন তাকে। হাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অন্য মুরগিরা ওর পেছনে লেগেই থাকত। কিন্তু আমি জানতাম, ও ভেতরে ভেতরে অনেক শক্ত।’

পার্লের জীবনে এসেছে অসংখ্য বিপদ। একবার পা ভেঙে গিয়েছিল, এক রাতে র‍্যাকুনের ভয়ংকর হামলাও কোনোমতে বেঁচে গেছে। চিকেন পক্স আর বয়সজনিত আর্থ্রাইটিসও তাকে দমাতে পারেনি। অবশেষে চলতি বছরের মে মাসে, ১৪ বছর ৬৯ দিন বয়সে, গিনেস রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে সে।

বয়সের কারণে হাঁটা কষ্টকর হয়ে গেছে। তাই এখন আর তাকে খোপে রাখা হয় না। পরিবারের সঙ্গেই থাকে পার্ল। হালের বাড়ির লন্ড্রি রুমেই এখন তার রাজত্ব। সেখানে মপের পাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা তার প্রিয় কাজ। আশ্চর্যজনকভাবে, ঘরের বয়স্ক বেড়াল আর নতুন আনা বিড়ালছানার সঙ্গেও গড়ে উঠেছে তার স্নেহের সম্পর্ক। বিড়ালছানাটি প্রায়ই গিয়ে বসে তার পাশে, যেন দুজনের মধ্যে নীরব বোঝাপড়া আছে।

প্রতিদিন রোদে বসানো হয় পার্লকে। ডানা ঝাপটে পালক ছড়িয়ে দেয়, বাতাসে খেলে বেড়ায়। তবে গরমে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। বসে বসেই পা নেড়ে ব্যায়ামের চেষ্টা করে, যেন লড়াইয়ের সংকেত দেয় সবার কাছে— ‘আমি এখনো আছি।’

সোনিয়া হাল আবেগ নিয়ে বলেন, ‘পার্ল এতকিছু পার করে যে আজও বেঁচে আছে, এটিই এক আশ্চর্য। সাধারণত এই জাতের মুরগি পাঁচ থেকে আট বছরের বেশি বাঁচে না। কিন্তু পার্ল সব হিসাব উল্টে দিয়েছে।’

ছোট্ট দেহে অদম্য সাহস আর লড়াইয়ের গল্পে পার্ল প্রমাণ করেছে, ভালোবাসা আর দৃঢ়তায় জীবন সব বাধা জয় করতে পারে।

—এনডিটিভি অবলম্বনে