ডাইনোসরের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের দরজা খুলে দিলেন বিজ্ঞানীরা। টি-রেক্সের বহু আগের এক পূর্বসূরির সন্ধান পেয়ে তারা বলছেন— এ আবিষ্কার শুধু একটি নতুন প্রজাতির নয়। বরং একটি দীর্ঘ পরিক্রমায় হারিয়ে যাওয়া এই প্রাণীর বিবর্তনের খোঁজ।

প্রায় ৮৬ মিলিয়ন বছর আগের এই প্রজাতির নাম দেয়া হয়েছে খানখুলু মঙ্গোলিয়েনসিস। বাংলায় যার অর্থ মঙ্গোলিয়ার ড্রাগন প্রিন্স। আকৃতিতে এটি ছিল ছোট। ওজনে মাত্র ৭৫০ কেজির মতো, যা আধুনিক একটি ঘোড়ার সমান। তুলনায় টি-রেক্স ছিল প্রায় হাতির সমান ভারী ও বিশাল।

WhatsApp Image 2025-06-14 at 13.44.22 (1)

বিশাল টার্বোসরসের একটি কঙ্কাল প্রদর্শনীতে স্থাপন করা হয়েছে

এই খানখুলু ডাইনোসরের জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমিতে। তখন অবশ্য বিজ্ঞানীরা এর গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। কয়েক দশক পরে, আধুনিক প্রযুক্তি আর নতুন বিশ্লেষণে বোঝা গেল— এই খানখুলুই হয়তো টিরানোসরের বিবর্তনের মাঝপথের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

গবেষকদের মতে, তিনটি মহাদেশীয় অভিবাসনের ফলে খানখুলুর মতো প্রজাতির উদ্ভব হয়। এরা এশিয়া থেকে আমেরিকায় পৌঁছে বিশাল আকার ধারণ করে। আর পরবর্তীতে গিয়ে টি-রেক্সে পরিণত হয়।

টি-রেক্সকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি। কিন্তু ছোট আকৃতির খানখুলু যেন জানিয়ে দেয়— সব কিছু একদিনে হয় না। বিশাল হওয়ার পেছনেও থাকে ছোট ছোট ধাপ, বহু যুগের ধৈর্য ও অভিযোজন।

খানখুলুর মাথার হাড় ছিল ফাঁপা, চোখের চারপাশে ছিল না টি-রেক্সের মতো শিং বা উঁচু গঠন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রমাণ করে— টি-রেক্সের সরাসরি পূর্বপুরুষ এটি নয়। তবে এরা তাদের বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গবেষণার নেতৃত্বে থাকা বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগে সংগৃহীত অনেক ফসিলই হয়তো নতুন করে বিশ্লেষণ করলে এমন আরো অনেক অজানা তথ্যই সামনে আসবে।

এখন প্রশ্ন, আর কী কী গল্প লুকিয়ে আছে পৃথিবীর নিচে? হয়তো কোনো মরুভূমির বালুতে, হয়তো পাহাড়ের চূড়ায়... অথবা হয়তো কোনো জাদুঘরের তাকেই অপেক্ষা করে আছে ইতিহাস বদলে দেয়ার মতো আরেকটি ‘ড্রাগন প্রিন্স’।

—সিএনএন