যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ১৫ কোটি বছর আগের এক বিরল প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। আকারে এটি ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুরের মতো। সম্প্রতি রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন এ প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে এনিগমাকরসার মলিবরথউইকে। লাতিন শব্দ এনিগমাকরসার অর্থ রহস্যময় দৌড়বিদ।
২০২১-২০২২ সালে কলোরাডোর মরিসন ফরমেশন এলাকায় জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। জীবাশ্মের খুলির অংশ ও কিছু মেরুদণ্ডের হাড় না থাকায় ডাইনোসরটির সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা যায়নি। তবে এর লেজ ছিল শরীরের অর্ধেকের সমান।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক পল ব্যারেট বলেন, ছোট তৃণভোজী ডাইনোসরের এমন জীবাশ্ম খুবই বিরল। প্রায়ই এদের ভাঙা হাড় পাওয়া যায়। তবে সম্পূর্ণ কঙ্কাল পাওয়া বেশ ঘটনাই বটে!
এই এনিগমাকরসার প্রজাতির ডাইনোসরের শরীর ছিল হালকা গঠনের, ওজন একটি কলি কুকুরের সমান হতে পারে। পেছনের লম্বা পায়ে ভর দিয়ে দ্রুত দৌড়াত, যাতে শিকারির হাত থেকে পালাতে পারত।
জীবাশ্মটি প্রথম নজরে আসে লন্ডনের এক আর্ট গ্যালারির প্রদর্শনীতে। সেখানেই পল ব্যারেট ও সহকর্মী সুজানা মেইডমেন্ট এটি নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হন। পরে এক দাতার সহায়তায় জীবাশ্মটি ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে আনা হয়। সেই দাতার নামেই প্রজাতির নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মলিবরথউইক। ২৬ জুন থেকে এটি প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবাশ্মটির উরুর হাড়ের গঠন অন্য ডাইনোসরের চেয়ে আলাদা। পেশির সংযুক্তি ছিল ভিন্ন রকমের। এটি চীনে পাওয়া ইয়ান্ডুসরাস হংহেনিস ডাইনোসরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, জীবাশ্মটির কশেরুকা এখনো পুরোপুরি গঠিত হয়নি। তাই এটি সম্ভবত পূর্ণবয়স্ক ছিল না।
পল ব্যারেট বলেন, ‘প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন ডাইনোসরের খোঁজ মেলে। তবে ছোট আকারের ডাইনোসর খুবই বিরল। এমন আবিষ্কার আমাদের সে সময়কার পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র বোঝার দরজা খুলে দেয়।’ দর্শনার্থীরা কৌতূহলী হয়ে সে অতীতের প্রাণীটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন মিউজিয়ামে।
—সিএনএন










