শুটিং বা রেসিং ঘরানার নয়, এবার গেমিং দুনিয়া মাতিয়েছে এক শান্ত ও ধীরগতির গেম, যার মূল বিষয় বাগান গড়া। শুনতে অবাক লাগলেও চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত গেমের নাম ‘গ্রো আ গার্ডেন’। অনলাইন গেমিং প্লাটফর্ম রোবলক্সে তৈরি গেমটিতে খেলোয়াড়দের ভার্চুয়াল জমিতে ধীরে ধীরে গাছ লাগিয়ে ফসল ফলাতে হয়। আর এ সরল আইডিয়াতেই চলতি মাসে মাত্র এক সপ্তাহান্তে গেমটিতে অংশ নিয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি খেলোয়াড়, যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। এত খেলোয়াড় একসঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যাকশন ঘরানার ফোর্টনাইটের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে।
২০২৫ সালের মার্চে চালু হওয়া গেমটি এখন পর্যন্ত ৯০০ কোটিরও বেশি বার খেলা হয়েছে। রোবলক্স বলছে, খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশের বয়স ১৩ বছরের নিচে। গেমটির কনসেপ্টও বেশ সহজ। তা হলো খেলোয়াড়রা ছোট একটি জমি পাবে। সেখানে দোকান থেকে বীজ কিনে বপন করতে হবে। এরপর বীজ থেকে গাছ বড় হতে থাকবে। গেম থেকে বেরিয়ে গেলেও গাছ বাড়তে থাকবে।
শান্ত সুরের মূর্ছনায় গাছ লাগানোর গেমটিতে শুধু ধৈর্য নয়, প্রতিযোগিতার আমেজও আছে। খেলোয়াড়রা ‘শেকলস’ নামে ভার্চুয়াল মুদ্রা জমাতে পারেন, চাইলে অন্যের বাগান থেকে ফসল চুরি করাও যায়। গেমে লেভেল বাড়লে পাওয়া যায় নানা রকম দুর্লভ গাছ—যার মধ্যে সবচেয়ে দামি ‘সুগার অ্যাপল’ আর সবচেয়ে সাধারণ হলো গাজর।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরার ১০ বছরের ওউয়েন ও আট বছরের এরিক—দুই ভাই গেমটির দারুণ ভক্ত। এরিক বলেন, ‘আমার অনেক স্কুল বন্ধু এ গেম খেলে। আমরা প্রতিযোগিতা করি—কার বেশি শেকলস আছে, কার বাগান সবচেয়ে ভালো।’

ছবি: রোবলক্স
ওউয়েন বলেন, ‘প্রতিযোগিতাটা ভালো লাগে আর গাছপালার নানা ধরনও আমাকে আকর্ষণ করে।’
গেমটি বিনামূল্যে খেলা গেলেও যদি কেউ চায়, তাহলে ‘রোবাক্স’ নামের প্রকৃত মুদ্রার সাহায্যে গেমের গতি বাড়ানো সম্ভব। এমনকি ই-কমার্স প্লাটফর্ম ইবে-তে বিক্রি হচ্ছে ভার্চুয়াল ক্যান্ডি ব্লসম ট্রি বা ড্রাগনফ্লাইয়ের মতো দুর্লভ গাছ, যার দাম শত শত পাউন্ড পর্যন্ত।
এ বিষয় শিশুদের আর্থিক সচেতনতায় প্রভাব ফেলতে পারে। লাফবোরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারা মিলস বলেন, ‘যদিও গেমটি ফ্রি, কিন্তু এর পুরস্কারভিত্তিক পদ্ধতি অনেক সময় শিশুদের অর্থনৈতিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে অনেক পরিবারের জন্য ডিজিটাল খরচ ও পকেট মানি ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।’
তবে অনেকেই মনে করছেন, গেমটি বাস্তব জীবনে বাগান করার আগ্রহ জাগাতে পারে। বিবিসি প্রেজেন্টার ও গার্ডেনিং পডকাস্টার থোরডিস ফ্রিদরিকসন বলেন, ‘বাস্তব আর ভার্চুয়াল বাগান আলাদা হলেও বীজ বপন করে গাছ বড় করার আনন্দটা কিন্তু এক। আশা করি, কেউ কেউ ঘরেও গাছ লাগাতে আগ্রহী হবে।’
তবে এ বিষয়ে একমত নন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু পজবাইলস্কি। তার মতে, ‘গ্রো আ গার্ডেন খেলে কেউ বাস্তব জীবনে বাগান করতে আগ্রহী হবে—এমন ভাবা অযৌক্তিক, ঠিক যেমন সুপার মারিও খেললেই কেউ প্লাম্বার হয়ে যাবে না!’
বিবিসি অবলম্বনে











