ফ্লোরিডার ল্যান্ড ও লেকস শহরের এক দুপুর। চার মাস বয়সী কুকুরছানা ড্যাক্সকে নিয়ে হাঁটছিলেন ড্যানি রাইট। সবকিছুই ছিল শান্ত ও স্বাভাবিক। আচমকা পানির ভেতর থেকে উঠে এল প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা এক কুমির। এক ঝটকায় কুকুরছানার কলারে দাঁত বসিয়ে টানতে শুরু করল সে। মুহূর্তেই হাঁটার স্বস্তি কেটে গেল, শুরু হলো প্রাণ বাঁচানোর লড়াই।
হঠাৎ টান অনুভব করে প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি ড্যানি। পরে দেখেন, কুমিরটি ড্যাক্সকে পানির দিকে টেনে নিচ্ছে। তখনই ঠিক করেন, যে করেই হোক কুকুরছানাকে ছাড়াতে হবে। কুমিরটি পানির বাইরে প্রায় ১৫ ফুট উঠে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই ভয়াবহ মুহূর্তে ড্যানি খালি হাতেই কুমিরকে ঘুষি মারতে শুরু করেন।
বারবার ঘুষি খেয়ে একপর্যায়ে কুমিরের চোয়াল একটু ঢিলে হয়ে আসে। সুযোগ বুঝে প্রাণপণ টানে তিনি কুকুরছানাকে ছাড়িয়ে আনেন। কুকুরছানা অক্ষত থাকলেও ড্যানির হাতে গভীর ক্ষত হয়। পরে এজন্য যদিও তাকে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। অন্যদিকে ড্যাক্স সুস্থ আছে, তবে আতঙ্ক কাটাতে কিছুটা সময় লাগবে। ঘটনার পর স্থানীয় বন্যপ্রাণী দপ্তর কুমিরটিকে নিয়ে যায়।
এ ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ড্যানি রাইটকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পরে তিনি জানিয়েছেন, হঠাৎ করে কুমির কীভাবে বের হয়ে আসে, বোঝাই যায় না। আর এই প্রাণীগুলোকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
ফ্লোরিডার এ ঘটনার পর মনে পড়ে যায় মাসের শুরুর দিকে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ১২ বছর বয়সী অটিস্টিক এক শিশু বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। পরে শিশুটির ছিন্নভিন্ন দেহ খালে পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, শিশুটি কুমিরের আঘাত ও ডুবে যাওয়ার কারণে মারা গেছে। অবহেলার দায়ে শিশুর মাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
ড্যানি রাইটের খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই একদিকে যেমন শিহরণ জাগায়, তেমনি মনে করিয়ে দেয় ভালোবাসার শক্তি কতটা প্রবল হতে পারে। প্রতিটি প্রাণকে হয়তো বাঁচানো যায় না, তবে প্রিয়জনকে রক্ষার দৃঢ়তা কতদূর যেতে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় এ ঘটনার মধ্য দিয়ে।
সূত্র: এনডিটিভি










