মানুষের উৎস নিয়ে যতই গবেষণা হোক, কিছু প্রশ্ন রয়ে যায় উত্তরহীন। আমরা কোথা থেকে এসেছি? আমাদের জিনের ভেতরে কি লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা এই পৃথিবীর নয়? সাম্প্রতিক এক গবেষণা আবারো উসকে দিয়েছে সেই পুরোনো কৌতূহল। মানুষ কি সত্যিই এলিয়েনদের ছোঁয়ায় বদলে গেছে?
গবেষণাটির নেতৃত্বে থাকা বিজ্ঞানী ডক্টর ম্যাক্স রেমপেল একদল বিশেষজ্ঞকে নিয়ে খুঁজে দেখেছেন মানুষের জিনের গভীরে লুকিয়ে থাকা অজানা চিহ্ন। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য, যা বিজ্ঞানকেও ভাবিয়ে তুলেছে।
রেমপেল ও তার দল স্বাভাবিক মানুষদের ডিএনএ আর সেই সব মানুষ যারা কিনা দাবি করেন, তারা নাকি জীবনের কোনো এক পর্যায়ে এলিয়েনদের সংস্পর্শে এসেছিলেন— তাদের ডিএনএ তুলনা করেছেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ হাজার জিনোম প্রজেক্টের ৫৮১টি পরিবারের মধ্যে ১১টি পরিবারের জিনে এক অদ্ভুত মিল পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ সন্তানদের ডিএনএর বড় অংশ কোনো অভিভাবকের সঙ্গে মেলে না। এই বিচ্যুতি থেকে গবেষকদের ধারণা, মানুষের দেহে হয়তো এমন কিছু জিন আছে যা পৃথিবীর স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় আসেনি।
তাদের অনুসন্ধান এখানেই থেমে থাকেনি। ২৩এন্ডমি নামের এক ডিএনএ প্ল্যাটফর্মের তথ্যেও পাওয়া গেছে একই ধরনের ইঙ্গিত। কিছু পরিবারের জিনের অংশ অভিভাবকের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। যদিও ডক্টর রেমপেল সতর্ক করে বলেছেন, এখনো এটুকু প্রমাণ যথেষ্ট নয়, আরো গভীর তথ্য প্রয়োজন।
এ গবেষণায় উঠে এসেছে ‘হরাইজন্টাল জিন ট্রান্সফার’ এর ধারণা— যেখানে জিন বংশপরম্পরা ছাড়াই এক জীব থেকে আরেক জীবের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। গবেষকদের ভাষায়, মানুষের জিনে এমন ১৪৫টি অংশ পাওয়া গেছে যা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে আসেনি। বরং অন্য উৎস থেকে এসেছে। এই ‘অন্য উৎস’ই হয়তো মহাজাগতিক কিছু।
কিছু গবেষক মনে করছেন, অটিজম, এডিএইচডি বা আসপার্জারের মতো নিউরোডাইভার্জেন্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও এই বিশেষ জিন থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনো অনুমান পর্যায়ে। নাসা অবশ্য এখন পর্যন্ত জানায়নি, কোনো এলিয়েন জীবের অস্তিত্ব তারা পেয়েছে কি না।
গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফল এখনো প্রাথমিক। পিয়ার-রিভিউ হয়নি, অর্থাৎ বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইও সম্পূর্ণ নয়। তবুও এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। মানুষ আবারো ফিরে গেছে সেই পুরোনো প্রশ্নে— আমরা কি এই মহাবিশ্বে সত্যিই একা?
—এনডিটিভি










