সম্প্রতি এক গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের মতোই নাকি শিম্পাঞ্জিরাও প্রতিদিন মদ পান করে! তবে বোতল বা গ্লাসে নয়, তারা এটি গ্রহণ করে সরাসরি ফল থেকে। আর সেই ফল থেকেই তাদের শরীরে প্রবেশ করে অ্যালকোহল।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন শিম্পাঞ্জিরা যতটুকু ইথানল গ্রহণ করে, তা প্রায় এক গ্লাস মদের সমান।
অনেক দিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল, শিম্পাঞ্জিরা আসলেই অ্যালকোহল নেয় কিনা। অবশেষে সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেল। ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় প্রথমবারের মতো পরিমাপ করে দেখা হয়েছে, শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন ঠিক কতটা অ্যালকোহল গ্রহণ করছে।
আইভরি কোস্ট ও উগান্ডার দুটি শিম্পাঞ্জির দলকে নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালান। তারা শিম্পাঞ্জিদের প্রতিদিন খাওয়া ফলের নমুনা সংগ্রহ করেন। ফলাফল দেখে সবাই অবাক! শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন ফল থেকে প্রায় ১৪ গ্রাম ইথানল গ্রহণ করে। এটি প্রায় ১.৪টি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের সমান। শিম্পাঞ্জিদের শরীরের ওজনের সঙ্গে তুলনা করলে এই পরিমাণ একজন মানুষের প্রতিদিন ২.৬টি পানীয় গ্রহণের সমান।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট ডাডলি জানান, শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন তাদের শরীরের ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পরিমাণ পরিপক্ব ফল খায়। এ কারণে ফলের মধ্যে ইথানলের পরিমাণ কম হলেও তা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যালকোহল তাদের শরীরে প্রবেশ করে।
অধ্যাপক রবার্ট ডাডলি বহু আগে থেকেই ‘মাতাল বানর’ বা ড্রাঙ্কেন মাংকি তত্ত্বের জন্য পরিচিত। তার মতে, মানুষের অ্যালকোহলের প্রতি আকর্ষণের মূল উৎস সম্ভবত আমাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া একটি বিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য। তারা যখন মিষ্টি ও পাকা ফল খুঁজত, তখন স্বাভাবিকভাবেই অ্যালকোহলও শরীরে যেত। আর সেই প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে মানুষের ভেতরে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উগান্ডা ও আইভরি কোস্টের শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন প্রায় ৪.৫ কেজি ফল খায়। ২০ ধরনের ফল পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে গড়ে ০.৩১ থেকে ০.৩২ শতাংশ ইথানল রয়েছে। বিশেষ করে উগান্ডার এক ধরনের ডুমুর আর আইভরি কোস্টের এক ধরনের প্লামে অ্যালকোহলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল। বোঝাই যাচ্ছে, এগুলো অনেক বেশি পাকা ছিল। আর এতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকায় আরো সহজেই ফার্মেন্টেশন হয়েছে।
তবে বিজ্ঞানীরা এটাও পরিষ্কার করেছেন, শিম্পাঞ্জিরা এতে মাতাল হয় না। কারণ তারা সারা দিন ধরে ধীরে ধীরে ফল খায়। তাই শরীরে অ্যালকোহল গেলেও এটি তাদের আচরণে প্রভাব ফেলে না।
ডাডলির মতে, ইথানলের গন্ধ শুধু শিম্পাঞ্জি নয়, সব ফলখেকো প্রাণীকেই বেশি চিনি থাকা ফল খুঁজে পেতে সাহায্য করে। তাই মানুষের অ্যালকোহলের প্রতি আকর্ষণ ও আসক্তির পেছনে গভীর বিবর্তনীয় কারণ রয়েছে। তিনি বলছেন, মানুষের অ্যালকোহল আসক্তি বোঝার জন্য এ ধরনের আরো গবেষণা প্রয়োজন।
শুনতে গল্প মনে হলেও সত্যি যে, মানুষ যেমন গ্লাসে ঢেলে মদ পান করে, শিম্পাঞ্জিরাও তেমনই প্রতিদিন প্রকৃতির দেয়া ফল খেতে গিয়ে নিজেদের অজান্তেই অ্যালকোহল গ্রহণ করছে!
—সিএনএন










