একটি হাসিখুশি কুকাবুরা, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মিলল সে মেয়ে। কিন্তু ভেতরে? তার ভেতরে রয়েছে পুরুষের প্রজনন অঙ্গ! প্রথমে বিজ্ঞানীরা ভাবলেন পরীক্ষায় ভুল হয়েছে। আবার পরীক্ষা করলেন, ফলাফল একই। যেন প্রকৃতি তার বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে এক বিস্ময়কর ধাঁধা!
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডের বন্যপ্রাণী হাসপাতালগুলোতে মৃত অবস্থায় আনা ৪৮০টি পাখির ওপর গবেষণা চালান একদল বিজ্ঞানী। তারা প্রথমে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পাখিগুলোর জেনেটিক লিঙ্গ নির্ধারণ করেন। সাধারণত পুরুষ পাখির থাকে দুটি ‘Z’ ক্রোমোজোম আর স্ত্রী পাখির থাকে একটি ‘Z’ ও একটি ‘W’ ক্রোমোজোম। এরপর যখন মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে তাদের প্রজনন অঙ্গ পরীক্ষা করা হয়, তখন দেখা যায় ২৪টি পাখির জেনেটিক লিঙ্গ আর তাদের প্রজনন অঙ্গের লিঙ্গ একরকম নয়।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্ত্রী পাখির শরীরে মিলেছে পুরুষ পাখির প্রজনন অঙ্গ। আবার একটি কুকাবুরা ছিল জেনেটিকভাবে পুরুষ, কিন্তু তার শরীরে ছিল ডিম উৎপাদনের অংশ। আবার কিছু পাখির শরীরে একইসঙ্গে ডিম্বাশয় ও অণ্ডকোষ জাতীয় গঠনও পাওয়া গেছে।
গবেষণায় অংশ নেয়া বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ ধরনের লিঙ্গ পরিবর্তন প্রজনন সাফল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়া, সঙ্গী নির্বাচনে সমস্যা, এমনকি প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এই অদ্ভুত ঘটনার পেছনের নিশ্চিত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পরিবেশে থাকা কিছু রাসায়নিক পদার্থ এই পাখিগুলোর হরমোনের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। কেননা আগেও এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টিং কেমিক্যাল নামে পরিচিত একটি রাসায়নিক কিছু কীটপতঙ্গ ও মাছের মধ্যেও লিঙ্গ পরিবর্তনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাখির ডিফল্ট লিঙ্গ নারী হওয়ায় নারী পাখি থেকে পুরুষ পাখিতে রূপান্তরের ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তাপমাত্রার পরিবর্তন বা প্রাকৃতিক বিভিন্ন কারণও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার পাখিদের এই অদ্ভুত রূপান্তরের রহস্য খুঁজে বের করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
একটা কথা নিশ্চিত যে, প্রকৃতি এখনো এমন সব গোপন রহস্যে ভরপুর, যা বিজ্ঞানকেও মাঝেমধ্যে বিস্মিত করে ফেলে!
—দ্য গার্ডিয়ান










