কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এর ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক তদারকি ও জবাবদিহি কাঠামো গড়ে ওঠেনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হলেও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার বাইরে এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজারের প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
এআইয়ের ব্যবহার বিদ্যমান বৈষম্য বাড়াতে পারে। অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বৈষম্য, প্রযুক্তি ও কম্পিউটিং সক্ষমতায় অসম প্রবেশাধিকার, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব এবং নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতা এর উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি। অন্যদিকে এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক সুবিধা অল্প কয়েকটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তাই শুধু প্রযুক্তির ত্রুটি সংশোধন নয়, এর পেছনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।
এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক এআই তদারকি সংস্থা গঠন করা। এ সংস্থা এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তার মান নির্ধারণ, ব্যবহারের আগে বাধ্যতামূলক ঝুঁকি মূল্যায়ন, স্বাধীন পর্যালোচনা এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে পারে। পাশাপাশি এআইয়ের মানবিক ও সামাজিক প্রভাবও মূল্যায়নের আওতায় আনতে হবে।
এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে এর ব্যবহার কতটা নিরাপদ, ন্যায়সংগত ও জবাবদিহিমূলক করা যাচ্ছে তার ওপর। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এ ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবেলা কঠিন।
গ্যাব্রিয়েলা রামোস: বৈষম্য ও সামাজিক বিষয়ক আর্থিক প্রকাশ-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সহসভাপতি; ইউনেস্কোর সামাজিক ও মানববিজ্ঞানবিষয়ক সাবেক সহকারী মহাপরিচালক









