জলবায়ু রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে একটি বড় বৈপরীত্য। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চাইলেও অনেক দেশের ভোটাররা এমন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করছেন, যারা জলবায়ু সংকটকে অস্বীকার করে বা কম গুরুত্ব দেয়। আর এর পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দা ও পরবর্তী বৈশ্বিক ধাক্কাগুলো দেখিয়েছে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মুনাফা ব্যক্তিমালিকানায় থাকে। কিন্তু ঝুঁকির বড় অংশ সাধারণ মানুষকে বহন করতে হয়। ফলে সরকারের ওপর আস্থা কমেছে। যদিও এখনো সেই সরকারগুলো মানুষকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে এবারের জলবায়ু রূপান্তর আগের চেয়ে বেশি ন্যায্য হবে। কিন্তু আর্থফরঅলের এক জরিপে অংশ নেয়া ১৭ দেশের ১৩ হাজার ৫১৬ মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশ মনে করে তাদের দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট এবং ৬৫ শতাংশ মনে করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধনী ও ক্ষমতাবানদের সুবিধা দেয়। একই জরিপে ৫৪ শতাংশ মানুষ মূল্যস্তর বাড়লেও গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে শক্তিশালী সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেছে। তবে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপের সমর্থন কম। কাজেই জলবায়ু রূপান্তরের রাজনৈতিক সমর্থন টেকসই করতে হলে এর ব্যয় ন্যায্যভাবে বণ্টন করতে হবে। সাশ্রয়ী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, নিরাপদ কর্মসংস্থান, সর্বজনীন জনসেবা এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে ধনী ও বেশি কার্বন নিঃসরণকারী পক্ষগুলোকে ন্যায্য অংশের ব্যয় বহন করতে হবে। অর্থাৎ মানুষের সম্মতি তৈরির চেয়ে প্রয়োজন এমন একটি সামাজিক চুক্তি, যার সুফল মানুষ বাস্তব জীবনে দেখতে পায়।
জয়তী ঘোষ: ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের অর্থনীতির অধ্যাপক
ওয়েন গ্যাফনি: আর্থফরঅলের সহসভাপতি










