কিন্তু এটিই কি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনার একমাত্র উপায়? আমাদের নিজস্ব জ্বালানির উৎস বলতে আদতে কিছু নেই। নতুন গ্যাস অনুসন্ধান অথবা বিদ্যমান গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জ্বালানি আহরণে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও দেখাতে পারিনি। ঐতিহাসিকভাবে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সন্ধানে এক ধরনের উদাসীনতা ও গাফিলতি দেখা গেছে। এর মাশুল হিসেবে আজ বৈশ্বিক অস্থিরতায় আমাদের জ্বালানি সংকটে ভুগতে হচ্ছে।
এই কনক্লেভে (বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর) ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। সেটি হলো, আমরা কি আদৌ জ্বালানিতে স্বনির্ভর হতে পারব? আমি মনে করি, আমাদের শতভাগ জ্বালানি স্বনির্ভর হওয়ার সম্ভাবনা বা সুযোগ নেই। তাহলে করণীয় কী? নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবশ্যই আমাদের জ্বালানির উৎস বাড়াতে সহযোগিতা করতে পারে। আমাদের নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতার যতটুকু আছে তা এ খাত থেকেই আসতে পারে।
কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারে আগে থেকেই আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে। আমরা নিজস্ব কয়লা উত্তোলন করব না। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এমনিতে আমরা প্রায় ৮ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করছি। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক দূষণ নিয়ে আমাদের অতটা উদ্বেগ নেই। মূল দুশ্চিন্তার জায়গা স্থানীয় দূষণ। নিজস্ব কয়লা উত্তোলন করতে গেলে স্থানীয় পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি হবে। এটি আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়। কয়লাতে বৈশ্বিক দূষণ বেশি হয়। বিশ্বজুড়ে এ দূষণ কমাতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রায় ২৫ বছরের চুক্তি রয়েছে। প্রতি বছর এসব কেন্দ্রে আনুমানিক ২০-২৫ মিলিয়ন টন কয়লা প্রয়োজন। আমরা সারফেস মাইনিং বা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করলে দেশীয় উৎস থেকেই প্রায় ১০-১৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করতে পারব। এক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ আমরা সঠিকভাবে পরীক্ষা কিংবা যাচাই করে দেখিনি। এজন্য আগে এ দিকটা ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। পরিবেশের ক্ষতি হবে এ কারণে কয়লা উত্তোলন করা একেবারেই সম্ভব না হলে এর আশা বাদ দিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
এবার আসা যাক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের সফলতার কথা উদাহরণ হিসেবে টানা হয়েছে। পাকিস্তানের বাড়িঘরের কাঠামো সম্পর্কে আপনারা জানেন কিনা জানা নেই। সেখানকার প্রতিটি বাড়িই আলাদা। ফলে সেখানে যে মডেল কাজ করেছে এখানে তা করবে না। কারণ বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। বাসাবাড়ির ছাদ আকারে ছোট। অল্প কয়েক কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার বসালেই পুরো ছাদ ঢেকে যাবে। তাতে হয়তো বাড়ির লাইট আর ফ্যান চলবে; এর বেশি কিছু সম্ভব নয়। অবশ্যই এটি সম্পূরক হিসেবে কিছু বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে। সব বাড়ির ছাদে সোলার দিলে হয়তো ২০০-৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম লাগবে। কিন্তু এটি আমাদের মূল জ্বালানি সংকট মেটাতে পারবে না।
আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বাণিজ্যিক বা শিল্প-কারখানার ছাদ এবং সোলার পার্কগুলোর দিকে। কিন্তু সোলার পার্কের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো, ১৫-২০ বছর ধরে আমরা পুরো নবায়নযোগ্য শক্তি খাতকে বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দিয়ে রেখেছি। কিন্তু যথাযথ নীতিমালার অভাব এবং জমির তীব্র সংকটের কারণে এত বছরে মাত্র ১ হাজার মেগাওয়াটের কিছুটা বেশি সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেছে। দেশে সরকারি উদ্যোগ ছাড়া বড় সোলার পার্ক করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ বেসরকারি খাতের পক্ষে ২০০-৪০০ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্পের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার একর জমি জোগাড় করা এ মুহূর্তে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সরকারের কাছে জমি অধিগ্রহণ করা আছে। উদাহরণস্বরূপ, রামপালে দুটি ইউনিটে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১ হাজার ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেখানে এখনো প্রায় ৮০০ একর জমি ফাঁকা পড়ে আছে (যদিও পিডিবি সম্প্রতি সেখানে ৪০০ মেগাওয়াটের একটি টেন্ডার দিয়েছে)।
আমাকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের কি কোনো একক সমাধান আছে? এর কোনো একক বা জাদুকরী সমাধান নেই। সমাধানটি অবশ্যই হতে হবে একটি বহুমুখী ও সমন্বিত সমাধান। নবায়নযোগ্য শক্তি, কয়লাসহ সব ধরনের জ্বালানির সমন্বয়ে এটি করতে হবে। তবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে। তেলের ওপর নির্ভরতা আমরা যত কমাতে পারব, আমাদের জন্য তত ভালো। বর্তমানে আমাদের তেলের বিদ্যুতে খরচ সবচেয়ে বেশি, তাই এটিকে অতি দ্রুত নামিয়ে আনতে হবে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, যা ড. হাসিবও কিছুটা উল্লেখ করেছেন। সেটি হলো ‘সংরক্ষণ ও দক্ষতা বাড়ানো’। আপনি যদি শীত ও গ্রীষ্মকালের বিদ্যুতের চাহিদার কার্ভ খেয়াল করেন, তবে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ক্যাপাসিটি পেমেন্ট নিয়ে আমরা এত কথা বলি, শীতকালের চার মাস (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) আমাদের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র একেবারে অলস বসে থাকে। শীতে বিদ্যুতের পিক চাহিদা থাকে ১১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে দিনে পিক লোড থাকে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং রাতজুড়ে এ চড়া চাহিদা বজায় থাকে। গ্রীষ্মকালে দিনে ও রাতে চাহিদার পার্থক্য বা ওঠানামা খুব একটা থাকে না, যা বেসলোড পাওয়ার প্লান্ট চালানোর জন্য আদর্শ। কিন্তু শীতকালে যখন প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র অলস বসে থাকে, তখন নীতিগত কৌশল কী হবে?
আমাদের দেখতে হবে গ্রিড কতটুকু রিনিউয়েবল শক্তি নিতে পারে। এটি পিজিসিবির সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করতে হবে। আমার ধারণা, বর্তমানে দিনে গ্রীষ্মকালে আমরা তেলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখে যদি ৪-৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে দিতে পারি, তবে অন্তত বিশাল অংকের জ্বালানি খরচ বাঁচানো সম্ভব।
জ্বালানি দক্ষতার একটি সহজ উদাহরণ দেয়া যাক। আপনি যদি একটি সাধারণ এসির পরিবর্তে ইনভার্টার যুক্ত এসি ব্যবহার করেন, তবে মডেলভেদে ২০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। রেফ্রিজারেটর বা অন্যান্য গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্টার-রেটিং ব্যবস্থার কথা বলে আসছি। বাজারে নীতিগত সহায়তা দিয়ে যদি সাধারণ এসির ওপর ৫০ শতাংশ ট্যাক্স বসানো হয়, তবে তার দাম ইনভার্টার এসির চেয়ে বেড়ে যাবে। ফলে মানুষ বাধ্য হয়েই ইনভার্টার এসি কিনবে। বর্তমানে এক টনের একটি সাধারণ এসি যদি ৫০ হাজার টাকা হয় আর ইনভার্টার এসির দাম যদি ৫৫ হাজার টাকা হয়, তবে মাত্র ৫ হাজার টাকার পার্থক্যের কারণে অনেকেই অদক্ষ সাধারণ এসিটি কিনছেন। একই কথা ফ্যানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাজারে এখনো ৯০ ওয়াটের ফ্যান চলছে। অথচ প্রযুক্তির কল্যাণে ৬০ ওয়াটের ফ্যান সহজেই পাওয়া যায়। ট্যাক্স ও সারচার্জের সঠিক পলিসি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজারকে দক্ষ যন্ত্রপাতির অনুকূলে নিয়ে আসা সম্ভব।
আমাদের শিল্প খাতের মোট বিদ্যুতের সিংহভাগ খরচ হয় মোটরে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ‘ভেরিয়েবল স্পিড মোটর’ ব্যবহারের কথা বলছি, কিন্তু এর জন্য কোনো নীতিগত সহায়তা বা প্রণোদনা নেই। উল্টো সাধারণ মোটরের চেয়ে এগুলোর দাম অনেক বেশি। এ নীতিগত পরিবর্তনগুলো না আনলে সাশ্রয় সম্ভব নয়। বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে হলে আমাদের সার্বিক ও সামগ্রিক চিন্তাভাবনা দরকার; কোনো একটি একক পদক্ষেপে এটি সম্ভব নয়, এর জন্য বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের মতামত এবং একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। জ্বালানি মিশেল নিয়ে এমন একটি সুদৃঢ় নীতিমালা করতে হবে, যা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেন বদলে না যায়। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ঐকমত্য অত্যন্ত জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা’। আমরা বর্তমানে ভারত থেকে যে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনছি, তা কিন্তু আমাদের নিজস্ব গ্যাসের বিদ্যুতের পরই দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ব্যয়ের বিদ্যুৎ। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নবায়নযোগ্য শক্তি আমদানির এক বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও গ্রিড সংযোগ ছাড়া ভবিষ্যতে সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের মতো পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য শক্তি একা আমাদের সিস্টেম অপারেটরের পক্ষে সামলানো অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হবে। ইউরোপের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি দেশের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ আন্তঃসংযোগ রয়েছে। এক দেশে ১০ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি হলে পাশের দেশ থেকে মুহূর্তে তা চলে আসে। এভাবে তিন দেশের সংযোগ থাকলে ৩০ শতাংশ ব্যাকআপ নিশ্চিত হয়। এ ধরনের আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বড় ভূমিকা রাখবে—এ স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।
বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা আছে এবং সরকার নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। এনবিআর ও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি স্পষ্ট সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা যায়। সরকার হয়তো ট্যাক্স ছাড়ের ঘোষণা দেয়, কিন্তু রাজস্ব আদায়ের চাপে এনবিআর তা বাস্তবায়ন করতে গড়িমসি করে এক বছর পার করে দেয় এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় করে নেয়। যেমন শিল্প খাতে সোলারের ওপর আগে ট্যাক্স ছিল ১ শতাংশ। এটি বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করা হয়েছে। কেন করা হলো, তার সদুত্তর নেই।
শুধু সেমিনারে বা মঞ্চে সুন্দর বক্তৃতা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, বাস্তবে কাজ হয় সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে। জ্বালানিমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্টদের উচিত এনবিআর চেয়ারম্যানসহ চার-পাঁচজন নীতিনির্ধারককে নিয়ে টেবিলে বসা এবং সরকারের রাজনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত কীভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে তা যৌথভাবে সুরাহা করা।
নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে আমাদের মূলত কলকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন, সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদকে কাজে লাগাতে হবে। আবাসিক বাসাবাড়ির ছাদ নিয়ে আপাতত খুব বেশি আশা দেখার সুযোগ নেই। পাকিস্তানে বাসাবাড়িতে সোলার বিপুল জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ ছিল সেখানকার চড়া বিদ্যুতের ট্যারিফ। বিদ্যুৎ খরচ অতিরিক্ত হওয়ায় মানুষ সেখানে প্যানেল ও ট্যাক্সের তোয়াক্কা না করে ছাদে সোলার বসিয়েছে। কারণ তাদের একেকটি বড় বাড়ি ও লন রয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ভালো চিন্তা ছিল সরকারি জমিতে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ মডেলে বড় সোলার পার্ক তৈরি করা। বর্তমান নীতি অনুযায়ী, নিকটস্থ সাব-স্টেশনে সংযোগ দেয়ার দায়িত্ব ইনভেস্টরের। দুই-তিন কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন টানতে লাখ লাখ ডলার খরচ হয়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় বাধা। সরকার যদি জমি ও সংযোগের সুযোগ প্রস্তুত করে রিভার্স অকশনের মাধ্যমে এগোয়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
একই সঙ্গে আমাদের জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে দেখা যাচ্ছে আমাদের পুরো জ্বালানি খাত ঝুঁকিতে পড়েছে। কারণ আমরা মধ্যপ্রাচ্যের গ্যাস, এলপিজি ও ক্রুড অয়েলের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। ক্রুড অয়েল না আসার কারণে আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে আছে, কারণ এটি কেবল সৌদি ও ইউএইর ক্রুড প্রসেস করতে পারে। অন্যান্য উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে এ সংকট হতো না। আমেরিকার ট্রেড পলিসি নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও উৎসের বৈচিত্র্য আনার খাতিরে সেখান থেকে এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির পথ খোলা রাখা যেতে পারে।
জ্বালানি সংকট একটি অত্যন্ত জটিল বিষয়। এজন্যই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোতে হবে। পরমাণু শক্তির দিকেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিশ্ব এখন পরমাণু শক্তির দিকে ঝুঁকেছে। সার্বিক এ পরিকল্পনা এখনই করা জরুরি, কারণ ক্রিটিক্যাল সময় এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। আমাদের দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করতে হবে।
অধ্যাপক ম. তামিম: উপাচার্য, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
[বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে]










