ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বিশ্বশক্তির ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে। আমাদের দৃষ্টিতে, এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই পরাশক্তিই আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে নতিস্বীকারে বাধ্য করতে পারেনি; বরং যুদ্ধটি ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে অবরোধ চীনের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের সময় চীন রাশিয়া ও ইরানের সস্তা তেল-গ্যাস আমদানি করে এবং রাশিয়ার কাছে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান হয়েছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ সেই সুবিধার ভিত্তি নড়বড়ে করে দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি খুলতে বা অন্তত চীনা জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে বেইজিং তেহরানকে রাজি করাতে পারেনি। এতে চীনের প্রভাবের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শক্তি কমে যাওয়ায় নতুন শক্তি ও জোটের জন্য একটি শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা জোট এরই একটি উদাহরণ।
আমরা মনে করি, এ পরিস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য নিজের বৈশ্বিক ভূমিকা পুনর্নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু ২৭ দেশের ঐকমত্যনির্ভর কাঠামো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ ইউরোপকে পিছিয়ে দিচ্ছে। তাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ ও কাঁচামালের সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষা এবং গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি। ইউরোপকে আরো নমনীয় ও বহুমাত্রিক কাঠামো গ্রহণ করে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজের ভূমিকা পুনর্গঠন করতে হবে।
পিটার আইটেল: ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিবিষয়ক পরামর্শক এবং জার্মানির ল্যুনেবুর্গের ল্যুফানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক
সিগমার গ্যাব্রিয়েল: জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভাইস চ্যান্সেলর; বর্তমানে তিনি আটলান্টিক-ব্র্যুকের চেয়ারম্যান










