দেশের বিভিন্ন স্থানে রাসায়নিক সার বিতরণ ও বিপণনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অনেক স্থানে প্রয়োজন অনুসারে সার পাচ্ছেন না কৃষক। কোথাও সরবরাহ সংকটের কথা বলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে কৃষকের কাছে। ফলে কোনো কোনো স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন গ্রামের কৃষকরা। কোথাও বা ডিলারের গুদাম ঘেরাও করে সারের বস্তা ছিনিয়ে নিয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, গুদামে সার থাকার পরও কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছেন ডিলাররা। ফলে বেশি দাম দিয়ে খুচরা দোকান থেকে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে ডিলারদের অনেকে বলছেন, চাহিদা মোতাবেক সারের জোগান তারা পাচ্ছেন না। পক্ষান্তরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে সারের অভাব নেই। মজুদ ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। অথচ এ বছর আমন চাষের মৌসুম শুরুর পর থেকেই সার নিয়ে নানা ধরনের সংকট ও অস্থিরতার কথা শোনা যাচ্ছে। এর জন্য মোটা দাগে ব্যবস্থাপনা অদক্ষতাই দায়ী বলে ধারণা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে রাসায়নিক সারের মোট চাহিদা বছরে প্রায় ৬৭-৬৮ লাখ টন বলে ধারণা করা হতো। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সারের মোট ব্যবহার ছিল ৬৬ দশমিক ২৮ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৬৭ দশমিক ৪৬ লাখ টন। তখন সার বিতরণে কোনো সমস্যা ছিল না। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারের ব্যবহার ৫৯ লাখ টনে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের চাহিদা ধরা হচ্ছে ৫৮ লাখ টন। গত বছর সারের ব্যবহার কমার প্রধান কারণ ছিল আমদানি হ্রাস। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সরবরাহ অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধি এর জন্য দায়ী। এবার পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে এবং বাব-আল মান্দেবে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাসায়নিক সারের দামও আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেছে দেড়-দুই গুণ। ফলে বাংলাদেশের আমদানি হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের সাতটি সার উৎপাদন কারখানার মধ্যে ছয়টি কারখানাই অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। তাতে আগের তুলনায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও কমেছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮ লাখ টন, যা অবমূল্যায়িত মনে হতে পারে। সরকারি হিসাবে এ বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২১ লাখ টন। তার বিপরীতে প্রাপ্যতা হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ টন। অর্থাৎ দশমিক ৩৪ লাখ টন উদ্বৃত্ত। এটি রক্ষণশীল হিসাব। প্রকৃত প্রস্তাবে সারের চাহিদা আরো বেশি। কিন্তু সে অনুযায়ী ডিলাররা সারের সরবরাহ পাচ্ছেন না। এ কারণে বাজারে সার নিয়ে অস্থিরতা। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কারসাজি করে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ থাকে কম। অনেকের মতে, কৃষকরা রবি মৌসুমে আলু ও সবজি চাষের জন্য আগাম সার ক্রয় করে রাখতে চাচ্ছেন। তাই চাহিদা বেশি। ডিলারদের ওপর চাপ বেশি। বোরো মৌসুমে চাহিদা আরো বাড়বে। তখন সার সংকটও আরো তীব্র হবে। মোট সারের প্রায় ৭০ শতাংশই ব্যবহার হয় রবি ও বোরো মৌসুমে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, আগামী ফেব্রুয়ারি নাগাদ রবি শস্য ও বোরো ধান আবাদের জন্য ৩৫ দশমিক ৮৭ লাখ টন রাসায়নিক সার দরকার হবে। তার বিপরীতে সম্ভাব্য মজুদ থাকবে ৫১ দশমিক ৭১ লাখ টন। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত থাকবে ১৫ দশমিক ৮৪ লাখ টন। বাস্তবে যদি তা সত্য হয় তবে ভালো। নতুবা সার সংকট গভীরতর হবে। প্রধান দুটো ফসলের উৎপাদন বিঘ্নিত হবে। খাদ্যনিরাপত্তায় শঙ্কা সৃষ্টি হবে; বাড়বে খাদ্য মূল্যস্ফীতি।
বাংলাদেশে মূলত ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার বেশি পরিমাণে ব্যবহার হয়। এছাড়া রয়েছে এনপিকেএস, এএস, জিপসাম, জিংক ও অন্যান্য সার। এগুলোর মধ্যে ইউরিয়ার হিস্যা প্রায় ৪০ শতাংশ, ডিএপি ২২, টিএসপি ১১, এমওপি ১৪ ও অন্যান্য সার ১৩ শতাংশ। বর্তমান সরকারের আমলে সারের দাম বাড়ানো হয়নি। এখন ইউরিয়া সারের প্রতি কেজি সরকার নির্ধারিত মূল্য ২৭ টাকা। টিএসপি ২৭, ডিএপি ২০ ও এমওপি ২১ টাকা। তবে এ দামে কৃষক অনেক ক্ষেত্রেই সার কিনতে পারছেন না। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের প্রতি কেজি সারে ৩-৫ টাকা বেশি দাম দিতে হচ্ছে। সারের আন্তর্জাতিক মূল্য এখন চড়া। সরকার বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দিয়ে রাসায়নিক সারের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। সার বিতরণে অদক্ষতা দূর করা সম্ভব হলে দেশের কৃষকরা সরকারি ভর্তুকির পুরো সুবিধা পাবেন। তবে বাংলাদেশের কৃষকরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় জমিতে বেশি সার প্রয়োগ করে থাকেন। এর গড় প্রতি হেক্টরে ৩১৯ কেজি। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় ১৫৪ কেজি। বাংলাদেশের তুলনায় বিশ্বের গড় ফসল উৎপাদনের নিবিড়তা অনেক কম। দেশে অতিরিক্ত সার প্রয়োগের ফলে ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। তাছাড়া জমির কর্ষিত মাটি গুণাগুণ হারাচ্ছে এবং পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষককে যথাযথ মাত্রায় ভারসাম্যময় হারে বিভিন্ন ধরনের সার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করা উচিত।
এ দেশে রাসায়নিক সারের প্রচলন শুরু হয় পঞ্চাশের দশকে। তখন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে সার বিতরণ করা হতো নামমাত্র মূল্যে। ষাটের দশকে বিএডিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সার সংগ্রহ, বিপণন ও বিতরণের দায়িত্ব চলে যায় সংস্থাটির হাতে। ১৯৬৮-৬৯ সালে সারের ওপর ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৫৮ শতাংশ। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছর নাগাদ এর পরিমাণ ছিল ৫২ শতাংশ। এর পর থেকে তা ক্রমাগত হ্রাস পায়। ১৯৯৮-৯৯ সালে রাসায়নিক সারসহ কোনো কৃষি উপকরণ বা উৎপাদিত পণ্যের ওপর একদমই ভর্তুকি ছিল না। এর পর আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সাল থেকে পুনরায় ভর্তুকি দেয়া শুরু হয়। বর্তমানে টাকার অংকে সারের ওপর ভর্তুকির পরিমাণ অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
কালের পরিক্রমায় রাসায়নিক সারের বিপণন ও বিতরণের ক্ষেত্রেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। পুরো ষাটের দশকে ও সত্তরের দশকের গোড়াতে সার বিপণন ও বিতরণের দায়িত্ব ছিল একচ্ছত্রভাবে বিএডিসির। সত্তরের দশকের শেষ ভাগে পুরনো বিপণন ব্যবস্থার পরিবর্তে সূত্রপাত হয় এক নতুন বিপণন ব্যবস্থার। ক্রমেই সরকারি খাতের গুরুত্ব তথা বিএডিসির কর্তৃত্ব খর্ব হতে থাকে। সার বিপণনে গুরুত্ব পেতে থাকে বেসরকারি খাত। ১৯৮৫ সালের জুলাই নাগাদ বিএডিসির অধীন ৪২৩টি থানা বিক্রয় কেন্দ্রের প্রায় সবগুলোই বন্ধ হয়ে যায়। মোট ব্যবহৃত সারের প্রায় ৯৭ শতাংশই বিতরণ ও বিপণন করা হয় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। ১৯৯৪ সাল নাগাদ সার বিপণনে মুক্ত বাজার ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে কার্যকর বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু ১৯৯৫ সালের সার সংকটের পর সরকার পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সার বিতরণের ক্ষেত্রে। বিদেশ থেকে সার আমদানি, বিপণন ও বিতরণে বিসিআইসি এবং বিএডিসির আধিপত্য হয় বিস্তৃত।
বর্তমানে ইউরিয়া সারের উৎপাদন ও আমদানি পুরোপুরি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন বা বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন বা বিএডিসি এবং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা মিলিতভাবে আমদানি করেছেন টিএসপি, এমওপি ও ডিএপিসহ অন্যান্য সার। তাতে সরকারি খাতেরই প্রাধান্য বিদ্যমান। ভর্তুকির অধিকাংশ টাকাই যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর খাতে। বাকি টাকা যাচ্ছে বেসরকারি ঠিকাদার ও আমদানিকারকদের পকেটে। এক হিসাবে দেখা যায়, কৃষি ভর্তুকির ৫৫ শতাংশ পায় বিসিআইসি, ১৮ শতাংশ বিএডিসি, ২২ শতাংশ নেয় বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা এবং বাকি ৫ শতাংশ যায় কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা হিসেবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যে টাকা ভর্তুকি হিসেবে নেয় তার বহুলাংশই খরচ হয় রাসায়নিক সারের ‘ট্রেড গ্যাপ’ বা বাণিজ্য ঘাটতি মেটানোর জন্য। অর্থাৎ এ টাকা খরচ হয় সার আমদানি খাতে।
দেশের অভ্যন্তরে রাসায়নিক সার উৎপাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত আছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন বা বিসিআইসি। ২০০৬-০৭ সালে সংস্থাটি ১৮ দশমিক ১৭ লাখ টন ইউরিয়া, দশমিক ৫০ লাখ টন টিএসপি এবং দশমিক ৮০ লাখ টন ডিএপি সারসহ মোট ১৯ দশমিক ৪৭ লাখ টন সার উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছিল। সেটি ছিল মোট ব্যবহৃত সারের শতকরা ৬৫ দশমিক ৫৮ ভাগ। তখন আমদানি করতে হতো মাত্র ৩৪ দশমিক ৪২ শতাংশ সার। বর্তমানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ টনে। এটি মোট ব্যবহৃত সারের ২০ শতাংশ মাত্র। বাকি ৮০ শতাংশ সারের জন্য আমরা আমদানিনির্ভর।
বাংলাদেশে এখন সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩৬ লাখ টন। এর মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ সক্ষমতা আমরা ব্যবহার করতে পারছি। এরই মধ্যে গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে দেশের ছয়টি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শতভাগ রফতানিমুখী জয়েন্ট ভেঞ্চার সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানির (কাফকো) উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত। বাংলাদেশে এক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে ৪৩ দশমিক ৭২ মিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস প্রয়োজন হয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তার পরিমাণ ২৫ মিলিয়ন কিউবিক ফিট। এ অপচয় বন্ধ হওয়া দরকার। উৎপাদনের বাইরে থাকা ফ্যাক্টরিগুলো পুনরায় চালু করা দরকার। প্রয়োজনে নতুন সার কারখানা স্থাপন করে উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। সস্তা শ্রমিক সরবরাহের কারণে বাংলাদেশে প্রতি ইউনিট রাসায়নিক সার উৎপাদনের খরচ কম। অথচ একসময় যেখানে প্রায় ৬৬ শতাংশ সারের চাহিদা মেটানো হতো অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে, সেখানে বর্তমানে মাত্র ২০ শতাংশ চাহিদা মেটাতে আমরা সক্ষম হচ্ছি। এটি দুঃখজনক। আমদানিনির্ভরতা আর না বাড়িয়ে বিসিআইসিকে এখন উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। রাসায়িক সারের আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকট ও মূল্যের অস্থিরতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার এটাই প্রধান উপায়।
বাংলাদেশ ইউরিয়া সার আমদানি করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও কাতার থেকে। টিএসএমপি সারের আমদানি হয় মরক্কো ও তিউনিসিয়া থেকে। ডিএপি সার আমদানি করা হয় চীন ও জর্ডান থেকে। এমওপি সার আমদানি করা হয় রাশিয়া, বেলারুশ ও কানাডা থেকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক সারের আমদানির উৎস একই দেশ হয়ে থাকে। কোনো সময় আবার নির্দিষ্ট কোনো দেশ সার রফতানি বন্ধ রাখে। সেক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে সারের আমদানি সচল রাখা ও মূল্য যথাসম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে। বাংলাদেশে যৌথ মালিকানাধীন কারখানা স্থাপন করে রাসায়নিক সারের সরবরাহ সংকট ও উচ্চমূল্য পরিহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের ব্যক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে।
রাসায়নিক সারে বর্তমানে যে ভর্তুকি দেয়া হয় তার অধিকাংশই আচ্ছাদিত ভর্তুকি। প্রদত্ত ভর্তুকির সুবিধা যারা বেশি ভোগ করেন তারা মাঝারি ও বড় কৃষক। ছোট কৃষকদের শরিকানা এতে খুবই কম। অথচ ভর্তুকি এদের জন্যই বেশি দরকার। এ অবস্থায় আমাদের প্রয়োজন হলো আচ্ছাদিত ভর্তুকির পাশাপাশি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকেন্দ্রিক বাছাইকৃত ভর্তুকি। ঢালাওভাবে সবার হাতে সমভাবে কৃষি ভর্তুকির সব টাকা তুলে না দিয়ে প্রগ্রেসিভ হারে সরাসরিভাবে কৃষকের হাতে ওই ভর্তুকির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা নগদ পৌঁছে দেয়া উচিত। এর জন্য বর্তমান সরকারের আমলে করা কৃষক কার্ড কাজে লাগানো যেতে পারে। এ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ঢালাওভাবে প্রদত্ত আচ্ছাদিত কৃষি ভর্তুকির বিষয়টি খুবই সেকেলে মনে হয়।
রাসায়নিক সার শস্য উৎপাদনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এর সরবরাহ সংকট হলে বা দাম বাড়লে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন; উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। তাতে অস্থির হয়ে ওঠে গ্রামীণ অর্থনীতি। অতএব অত্যন্ত সাবধানতা ও দক্ষতার সঙ্গে এর উৎপাদন, আহরণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। পাশাপাশি জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধির প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। কারণ জৈব সার মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাসকে দমিয়ে দেয়। মাটির ক্ষয় প্রক্রিয়া পুনর্গঠনে সহায়তা করে। ফসলের প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ হ্রাস করে। অতএব জমিতে জৈব সার প্রয়োগের বিষয়ে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। তাতে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার হ্রাস পাবে। সরবরাহ সংকট দূরীভূত হবে। মূল্যে স্থিতিশীলতা আসবে।
ড. জাহাঙ্গীর আলম: কৃষি অর্থনীতিবিদ; সাবেক উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিভি) এবং সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)










