কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন—এআই কি বিপুল পরিমাণে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে? কেউ মনে করেন, এআই অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব উৎপাদনশীলতা আনবে; অন্যদিকে সংশয়বাদীদের ধারণা, এ নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে উভয় পক্ষই একটি মৌলিক বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নটি শুধু এআই কতটা উৎপাদনশীল হবে তা নয়; বরং এ উৎপাদনশীলতার অর্থনৈতিক মূল্য কার হাতে যাবে এবং এর ফলে অর্থনীতির কাঠামো কীভাবে বদলাবে।

অতীতের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলো অনেক পেশা ও শিল্পকে ধ্বংস করলেও একই সঙ্গে নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান ও বাজার সৃষ্টি করেছে। গাড়ির আবির্ভাবে ঘোড়ার গাড়িসংশ্লিষ্ট বহু পেশা হারিয়ে গেলেও তৈরি হয়েছে গাড়ি নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ, মেরামত ও সেবা খাতের নতুন কর্মসংস্থান। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ও বাজারের পরিসর বেড়েছে।

এআইয়ের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটবে কিনা, সেটিই বড় প্রশ্ন। এআই এরই মধ্যে মানুষের শ্রমের তুলনায় অনেক বেশি কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা দেখাচ্ছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে অর্থনীতিতে উৎপাদিত আর্থিক মূল্যও একই হারে বাড়বে। এআই যদি আইন, হিসাবরক্ষণ, কোডিং, অনুবাদ, স্থাপত্য কিংবা শিক্ষার মতো পেশায় মানুষের প্রয়োজন কমিয়ে দেয় এবং নতুন কর্মসংস্থান তুলনামূলকভাবে কম সৃষ্টি করে, তাহলে মজুরি ও শ্রমনির্ভর আয় কমতে পারে। এছাড়া কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হতে পারে এআই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থার গভীর সংকটও তৈরি করতে পারে।

[প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের এক নিবন্ধে]

ইয়ানিস ভারুফাকিস: গ্রিসের সাবেক অর্থমন্ত্রী