দূর থেকে সমুদ্রকে মনে হয় এক শান্তির প্রতিচ্ছবি, আর কাছে গেলে চোখে পড়ে তার আসল রূপ। তবে নীল জলরাশির নিচে বিশ্বের সমুদ্রসীমার মানচিত্রটি দেখতে যতটা স্থির লাগে, বাস্তবে তা একেবারেই নয়। আজও বিশ্বের বহু সমুদ্রসীমা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে, যার বড় অংশ গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোয়। পৃথিবীর অন্যান্য সংঘাতের মতো এ বিরোধগুলোর গোড়াপত্তনও এক দেশের সীমানা ঠিক কোথায় শেষ বা শুরু সে প্রশ্নকে ঘিরেই।
তবে জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, অবৈধ মৎস্য শিকার এবং সংঘাতের ঝুঁকি বিবেচনায় এসব বিরোধ আর দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখার সুযোগ নেই। থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সমুদ্রসীমা বিরোধে কম্বোডিয়া সংঘাতের বদলে জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশনের বাধ্যতামূলক সমঝোতা প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছে। ঘানা-আইভরি কোস্টের বিরোধ নিষ্পত্তিও দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো কার্যকরভাবে অনিশ্চয়তা দূর করতে পারে। মামলা, সালিশি ও মধ্যস্থতার মতো পদ্ধতি পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহার করে বিরোধ মেটানো সম্ভব।
বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল না করে আরো কার্যকর করা জরুরি। সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি শুধু সংঘাত এড়াবে না, বরং বিনিয়োগ, সম্পদ আহরণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন পথও খুলে দিতে পারে।
[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত নিবন্ধে]
মাকানে মইসে এমবেঙ্গে: জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভাগের পরিচালক










