জলবায়ু পরিবর্তনকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধনী দেশগুলোও এখন ভয়াবহ দাবানল, খরা, তাপপ্রবাহ ও বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক ও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া বাড়ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া বা অভিযোজনের বিষয়টি রাজনৈতিক পরিসরের বিভিন্ন অংশে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
১৮টি দেশের ১৮ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে মানুষের গভীর উদ্বেগ রয়েছে এবং অভিযোজনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন আছে। উত্তরদাতারা মনে করেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং খাদ্য, পানি ও জ্বালানির সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। অন্যদিকে বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সাশ্রয়ী অভিযোজনমূলক সমাধান দেয়ার প্রত্যাশা রয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছে। এছাড়া মানুষ অভিযোজনকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিকল্প নয়, বরং এর পরিপূরক হিসেবে দেখে।
জলবায়ু সংকট এমন কিছু নীতিকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে, যেগুলো আগে রাজনৈতিকভাবে কঠিন বলে বিবেচিত হতো। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট, কভিড-১৯ মহামারী এবং রুশ গ্যাসের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমানোর উদাহরণ দিয়ে তারা দেখিয়েছেন, সংকট কীভাবে নীতিগত পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করতে পারে। একইভাবে জলবায়ু অভিযোজনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
রাজনীতিবিদদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার বাইরে গিয়ে অভিযোজনকে জনআলোচনা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করতে হবে। ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের জি২০ সভাপতিত্বের সময় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার সুযোগ রয়েছে।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে অনূদিত]
সাইমন জাডেক: সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং পার্টনার, মরফোসিস
নাটালি সামারাসিংহে: ওয়ান ফর ৮ বিলিয়ন-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা










