গোল্ডম্যান স্যাকসের ২০০১ সালের প্রাক্কলন সত্য প্রমাণিত করে বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থল এখন এশিয়ার দিকে সরে এসেছে। ২০৭৫ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বৈশ্বিক জিডিপি বৃদ্ধির সার্বিক হার দিন দিন ধীরগতির হয়ে পড়ছে। এ মন্দার প্রধান কারণ এশিয়ার অনেক দেশেই জনসংখ্যা বাড়ার হার দ্রুত কমে আসতে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির গতি কমলেও, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উদীয়মান বা বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধির গতি অনেক বেশি।

চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মতো এশিয়ার ঘন জনসংখ্যাবহুল দেশগুলোই মূলত এ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। ২০৫০ সালের মধ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জার্মানি বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সঠিক নীতি অনুসরণ করতে পারলে পরবর্তী সময়ে নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও মিসরের মতো দেশগুলোও শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। তবে এ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির সামনে দুটি প্রধান ঝুঁকি রয়েছে।

প্রথমত, ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদ নীতি বা মুক্ত বাণিজ্য সংকটের কারণে বিশ্বায়নের উল্টো রথ, যা রফতানিনির্ভর দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দ্বিতীয়টি হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া পরিবেশগত বিপর্যয়, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জলবায়ুর নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক।

[নিক্কেই এশিয়া থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ]

কেভিন ডালি: অর্থনীতিবিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গোল্ডম্যান স্যাকস