গত মাসে চীন-নেপাল সীমান্তে হিমালয়ের যে দুর্যোগ নেমে এসেছিল, সেটি গণমাধ্যমের গল্প হয়ে ওঠার আগে ছিল এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত উপত্যকাগুলো ভাসিয়ে নেয়, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর দুই দেশের বহু পরিবার প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায় পড়ে থাকে।

তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অস্থিতিশীল পাহাড় উদ্ধারকাজ যেমন কঠিন করে তুলেছিল, তেমনি তথ্যপ্রবাহও সীমিত করেছিল। ফলে প্রথম দিকে অসম্পূর্ণ তথ্যের শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করে গুজব ও অনুমান। হতাহতের সংখ্যা থেকে শুরু করে দুর্যোগের কারণ নিয়েও ছড়ায় নানা অযাচাইকৃত দাবি।

দুর্যোগের সময় এটাই সবচেয়ে বড় যোগাযোগ ঝুঁকি। একটি ভাঙা সড়ক, অচল মোবাইল নেটওয়ার্ক কিংবা দেরিতে আসা সরকারি তথ্য—পরিবারগুলোর কাছে সবকিছুর ফল একই; অনিশ্চয়তা।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বিদেশী সাংবাদিকদের দুর্গত এলাকায় যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। তাদের প্রতিবেদন ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধারকাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট করে, যদিও তথ্যপ্রবাহ এবং গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক থেকে যায়।

তবে বড় শিক্ষা অন্য জায়গায়। জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা ও চরম আবহাওয়ায় হিমালয়ে এ ধরনের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই চীন ও নেপালের মধ্যে আগাম সতর্কতা, তথ্য বিনিময় ও সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত বার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা জরুরি।

[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক নিবন্ধে]

বার্নার্ড চ্যান: ওয়েস্ট কাউলুন কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট অথরিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান