যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সম্প্রতি ‘আমেরিকানবাদ, কার্যকর পরোপকারবাদ নয়’ স্লোগান দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নয়ন গতি কমানোর বিরোধিতা করেছে। অথচ কার্যকর পরোপকারবাদ এমন একটি আন্দোলন, যার লক্ষ্য সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা। দাতব্য সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়নের মাধ্যমে এ আন্দোলন এরই মধ্যে কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় অবদান রেখেছে।
প্রাথমিকভাবে বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রাণীদের দুর্ভোগ কমানো নিয়ে কাজ করলেও পরে আন্দোলনটি পারমাণবিক যুদ্ধ, জৈব সন্ত্রাস এবং অতি সক্ষম এআইয়ের সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ঝুঁকি মোকাবেলায় মনোযোগী হয়। এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে—এ আশঙ্কায় কয়েকজন প্রযুক্তি নেতাও এর উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের সতর্কতাকে ‘ভিত্তিহীন আতঙ্ক’ আখ্যা দিয়ে এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন। কার্যকর পরোপকারবাদ ও এআই নিরাপত্তার প্রবক্তাদের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের প্রচারণা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষত এআইয়ের সামরিক ব্যবহার ও নাগরিকদের ওপর নজরদারির বিষয়ে বিধিনিষেধ শিথিল করতে অ্যানথ্রপিকের অনীহার পর প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কোনো সুদূর ভবিষ্যতের বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো এক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিভাজন বৈশ্বিক সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ মানবকল্যাণ ও সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি উন্নয়ন অপরিহার্য।
পিটার সিঙ্গার: প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োএথিকস বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক










