কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ডেটা ও কম্পিউটিং অবকাঠামো আর নিছক প্রযুক্তিগত সম্পদ নয়; এগুলো জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। উপসাগরীয় অঞ্চলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ডেটা সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, ডেটা সেন্টার এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা বন্দরের মতোই কৌশলগত অবকাঠামো।
‘এআই সার্বভৌমত্ব’-কে তিনটি স্তরে দেখি—ডেটা সার্বভৌমত্ব, কম্পিউট সার্বভৌমত্ব এবং শাসন বা গভর্ন্যান্স সার্বভৌমত্ব। নাগরিকদের তথ্য দেশের ভেতরে রাখাই যথেষ্ট নয়; সেই তথ্য কোথায় ও কার মালিকানাধীন অবকাঠামোতে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে এবং এআই ব্যবস্থার নিয়ম কে নির্ধারণ করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজস্ব এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ করলেও আমার শঙ্কা, বিচ্ছিন্ন জাতীয় ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সহযোগিতার বদলে নতুন বিভাজন তৈরি করবে। তাই এআই অবকাঠামোকে বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে সুরক্ষা, আন্তঃপরিচালনযোগ্য মানদণ্ড, কঠোর অডিট ও দুর্ঘটনা প্রতিবেদনের ব্যবস্থা এবং সীমিতসংখ্যক শক্তিশালী এআই মডেলের লাইসেন্সিং প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এআই অবকাঠামো যেন ধনী দেশগুলোর একচেটিয়া সম্পদ না হয়ে ওঠে। আঞ্চলিকভাবে যৌথভাবে পরিচালিত কম্পিউটিং অবকাঠামো ছোট দেশগুলোকেও সক্ষমতা দেবে। আমার মতে, প্রয়োজন নতুন কোনো বৈশ্বিক চুক্তি নয়; বরং বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়।
বিজান বার্নার্ড: প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উদ্যোক্তা। ডি-এআই ও ল্যাটিস ইনকের সিইও










