২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে করোনভাইরাস মহামারী দেশে দেশে শিল্পোৎপাদন থেকে শুরু করে পরিষেবা খাত, রফতানি এবং রেমিটেন্স প্রবাহ সকল ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলা স্বাস্থ্য সেবা খাত কভিড-১৯ মহামারীতে ভেঙে পড়ার কারণে মানুষ ও পরিবেশ উভয়ের স্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অন্য দিকে, ভোগনির্ভর অর্থনীতিতে একটি শার্ট তৈরিতে প্রায় ২৭০০ লিটার পানি খরচ হয়, একটি স্মার্ট ফোন তৈরিতে প্রায় ৪৫ কেজি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার হয়, এমনিভাবে যত ভোগ্যপণ্য তৈরি হবে তত বেশি প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাবহার হচ্ছে। এরকম নিয়ন্ত্রণহীন ভোগ চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন মনোক্সাইড নিঃসরণ হ্রাসে বর্তমান পৃথিবীর প্রায় সাড়ে ৮ গুণ বড় এবং কাঠের চাহিদা মেটাতে প্রায় সাড়ে ৩ গুণ বড় পৃথিবী লাগবে। কিন্তু চাইলেই কি আরেকটি পৃথিবী তৈরি সম্ভব? তার মানে মানুষ যতদিন পর্যন্ত ভোগস্পৃহা কমিয়ে এনে পৃথিবীর সীমিত সম্পদ হতে প্রয়োজন না মেটাবে ততদিন পর্যন্ত একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় তা সাইক্লোন বা রোগ জীবাণুর আক্রমণ চলতেই থাকবে। তাতেও কি মানুষের হুশ ফিরবে?
প্রযুক্তির কল্যাণে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্ষেত্রবিশেষে নির্ভরতা কমলেও তা নগণ্য, ইতিমধ্যে বৈশ্বিকভাবে বনাঞ্চল, পানির উৎস, বায়ু এবং মাটি ধ্বংসের ফলে মানুষ ও প্রাণী বা অণুজীবের বাস্তুসংস্থান নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, শিল্পায়নের নামে নির্বিচারে কার্বন নিঃসরণের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যার ফলে বিভিন্ন অণুজীব মানুষের বসতিতে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। একইসাথে উষ্ণায়নের কারণে অনেক কীটপতঙ্গ ও রোগজীবাণু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে উন্নয়নের নামে প্রাণ ও প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে অদূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ কওে ত্রিশ বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করছে মানুষ। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই ১৫০ বছরে মাথাপিছু ভোগব্যয় ১৭ গুণ বাড়িয়ে বিশ্বের প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশে পরিণত হয়েছে। একইভাবে শিল্পোন্নত দেশগুলো তথাকথিত উন্নয়নের নামে প্রাণ ও প্রকৃতির সহাবস্থান নষ্ট করার ফলে অদৃশ্য বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কভিড-১৯ ভাইরাসের প্রবল আক্রমণে সারা পৃথিবী থমকে দাঁড়িয়েছে এবং এরকম আরো ভয়াবহ আক্রমণ ধেয়ে আসছে।
পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে অনাহারে বা অর্ধাহারে রেখে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যায় করে যুদ্ধাস্ত্রের মাধ্যমে মানুষ হত্যার আয়োজন করে তারা তথাকথিত উন্নত দেশগুলো নিজেদেও এতই ক্ষমতাধর মনে করছিলো যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসের আক্রমণে এমনভাবে বিপর্যস্ত হবে তা তারা চিন্তাও করতে পারেনি। কতটা আত্মঘাতী তাদের এ আয়োজন, কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যায় করে মুমূর্ষূ রোগির জন্য প্রয়োজনীয় আইসিইউ, অক্সিজেন সিলিন্ডার কিংবা ভ্যান্টিলেটর মেশিনের মতো অবশ্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ তৈরিকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেছে। আর তার ফল হাতেনাতেই পাচ্ছে পৃথিবীর অদূরদর্শী নেতৃত্ব। ট্রিলিয়ন ডলারের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার তো দূরে থাক শত কোটি মানুষ গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, লাখ লাখ মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত, হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করছে। মাসের পর মাস লকডাউনের কবলে পড়ে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ নিজেই ফাঁদে পড়েছে।
অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিকভাবে ভোগ ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় আগের তুলনায় কার্বন নিঃসরণের হার ৫ শতাংশ কমেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির গাড়ি, উড়োজাহাজ, ট্রেন বা জাহাজ চলাচল বা শিল্প কারখানা বন্ধ থাকলেও প্রাকৃতিক কাজকর্ম যেমন কৃষিকাজ, মৎস্য চাষ, হাস মুরগির খামার, দ্রুত গতিতে বনে গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি, নগরে বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়া যাচ্ছে, হালদা নদীতে সর্বকালের রেকর্ড পোনা মাছ উৎপাদন, সমুদ্রে মাছের উৎপাদন বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এ সময়ে মানুষের বাইরের অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের মাত্রা ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ফাস্টফুড বা পানীয় পান না করলে মনে হতো জীবনই চলবেনা, প্রতিদিন বিভিন্ন ব্রান্ডের গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বের না হলে মনে হতো জীবনটাই বৃথা, দেশে বিদেশে বিভিন্ন সভায় স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলে কি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা আলোচনা করা অসম্ভব, বিদেশি খাবার, পোষাক পরিধান বা তৈজসপত্র ব্যবহার না করলে কি জাত থাকে? আসলে এসবই যে আপেক্ষিক এবং অভ্যাসের পরিবর্তন যে সম্ভব তা মানুষ ব্যার্থ হওয়ায় স্রষ্টা মানুষকে তার জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে অভ্যাসের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। প্রমাণিত হয়েছে মানুষ এবং রাষ্ট্রগুলো কভিড-১৯ উত্তর পৃথিবীতে তথাকথিত উন্নয়নের মডেল বাদ দিয়ে প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ বান্ধব কর্মকান্ড চালাতে সক্ষম।
কোভিড-১৯ কি আমাদের শিক্ষা দিতে পেরেছে যে, আমাদের অপরিসীম ভোগস্পৃহা না কমালে ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটানো অসম্ভব? আমরা যা ভোগ করি তার সবই কি প্রয়োজনীয়, না শুধু মনের অপরিমেয় আকাংখা, অনুকরণ, সখ বা সম্পদের প্রাচুর্যুতা দেখানো বা শুধু আনন্দ ফুর্তির জন্য পণ্য ক্রয় করি? বৈশ্বিক সুখ ইনডেক্স অনুসারে বৈষয়িকভাবে বেশি ভোগ করলেই মানসিক শান্তি আসে না, বরং অন্যের অধিকার রক্ষা, সামাজিক কল্যাণের মাধ্যমেই সুখ ও শান্তি নিশ্চিত হয়। একটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের সম্পদ সীমিত, তাই যদি কোনো শ্রেণী সেটা বেশি আকারে ভোগ করে তবে দরিদ্ররা বঞ্চিত হবে। পৃথিবীর মাত্র ২০ শতাংশ ধনী বিশ্বেও ৮০ শতাংশ জ্বালানি এবং ৭৫ শতাংশ বৈশ্বিক কাঠের উৎপাদন ভোগ করে। কভিড-১৯ মহামারীতে প্রবৃদ্ধিভিত্তিক উন্নয়ন তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের উপার্জনের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দরিদ্র আরো বেশি দরিদ্র হচ্ছে। নিয়ন্ত্রনহীণ ভোগের কারণে কোভিড-১৯ ভাইরাসের আক্রমণে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রেক্ষিতে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা কওে অনুজীবদের সাথে মানুষের সহাবস্থান ফিরিয়ে আনতে হবে, ভোগের নামে অপচয়ের সুযোগ নেই, সর্বোপরি দরিদ্র শ্রেণীকে যদি সম্পদের সুরক্ষা প্রদান করা যায় তবেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা মানব সম্পদ উন্নয়ন টেকসই হয়।
২০২০-২১ অর্থ বছরে বিশেষকরে কভিড-১৯ উত্তর অর্থনৈতিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে যেসব প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে তা অবশ্যই সেসব উৎপাদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুদের হার বা মূলধর উভয় ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকার দিতে হবে যারা প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ বান্ধব উৎপাদন চালাতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। রাষ্ট্রীয় নীতি, কৌশল এবং প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া প্রবৃদ্ধি-নির্ভর উন্নয়ন মডেল পুরোপুরি সংশোধন কওে বনাঞ্চল, নদী, খাল, বিল এবং পানি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনাকে সুনিশ্চিত করতে হবে। তথাকথিত প্রবৃদ্ধির সূচকের পরিবর্তে মানব কল্যাণ সূচক যেমন কত সালের মধ্যে শতভাগ শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, পানি ও পয়ঃনিস্কাশন, চিকিৎসা প্রাপ্তির হার ইত্যাদি নিশ্চিত হবে সেটাই প্রধান লক্ষ্য হতে হবে কল্যাণ রাষ্ট্রের। সাম্য ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণই মূলকথা। এজন্য বিদেশ নির্ভর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ড কম্যুনিটির নেতৃত্বাধীন হতে হবে, যেমন, বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষনে পাউবো শুধু কারিগরি সহায়তা এবং তদারকি করবে, সরাসরি অর্থ যাবে কম্যুনিটির কাছে, ব্যাবস্থাপনা করবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ।
কভিড-১৯ এ স্বাস্থ্য সংকটের পাশাপাশি উদ্ভূত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবারের বাজেটে প্রবৃদ্ধি অর্জনের চেয়ে কৃষি উৎপাদন ও এর বহুমুখী বাজারজাতকরণ, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীকে সম্প্রসারিত কওে বেকার ও উপার্জনহীন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই মানব সম্পদ উন্নয়নে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে সর্বোচ্চ প্রণোদনা এবং সুদমুক্ত ঋণ প্রদান, অধিকতর নজর প্রদান করতে হবে। ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য চীন, কিউবার মতো দেশগুলোর ন্যায় সার্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা ও সেবা নিশ্চিত করতে জিডিপির কমপক্ষে ১০ শতাংশ তহবিল বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত বাজেট ঔষধ উৎপাদন এবং বিতরণ, স্বাস্ব্য সেবার মানোন্নয়ন, প্রয়োজনীয় মেডিকেল যন্ত্রপাতি, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, কম্যুনিটি-ভিত্তিক চিকিৎসা প্রদানের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যায় করতে হবে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে যে করোনাভাইরাসের এর বিস্তাওে লকাডাউনের প্রভাবে দারিদ্র হার বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে নগদ অর্থ সহায়তা, বেকার ভাতা প্রদান, রেশনিং ব্যাবস্থা, শিশু সহায়তা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, আবাসন সহায়তা, স্বাস্থ্য ভাতা সহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিদ্যমান বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির কমপক্ষে ১০ শতাংশ বরাদ্দ, শহরাঞ্চলের শ্রমজীবীদের জন্য বিশেষ স্কিম ঘোষণা করা জরুরি, কাজ হারালে যেন তারা ভাতা ও রেশন পান। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর নির্ভরযোগ্য তালিকা প্রণয়ন করে তালিকায় থাকা প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ বা তাদের পরিবার আগামী কয়েক মাস প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান, টিসিবি সহ বিভিন্ন মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে রেশনিং ব্যাবস্থা চালু রাখতে হবে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ত্রাণ, সুপেয় পানি এবং প্রকৃতি বান্ধব বাসস্থান তৈরিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
এছাড়াও ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে কৃষিতে কমপক্ষে বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ প্রদান, কৃষি নির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতির সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পুঞ্জীভূত মুনাফাকে কিভাবে অংশীদারিত্বেও ভিত্তিতে কাজে লাগানো যায় সে ব্যাবস্থা নিতে হবে। কৃষককে সর্বোচ্চ প্রণোদনা এবং ন্যায্য মূল্য ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, কম্যুনিটি ফার্মিং চালু, কৃষিভিত্তিক খামার/শিল্প স্থাপনে জামানতবিহীন দীর্ঘমেয়াদী সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করতে হবে। পচনশীল ফল সংরক্ষণে প্রত্যেক উপজেলায় হিমাগার স্থাপন, পরিবেশ বান্ধব শস্য, সবজি ও তৈজসপত্র উদ্ভাবন (যেমন পুনচক্রায়ন সক্ষম সুমনের তৈরি বন কাগজ, যাতে থাকে ফুল ও সবজির বীজ, কাগজটি কাজ শেষে আস্তাকুড়ে ফেললে তাতে থাকা বীজ অংকুরোদগম হয়ে তা থেকে জন্মায় গাছ), সৌর সেচ কাজে সর্বোচ্চ ভর্তুকি প্রদান করতে হবে, সামাজিক বনায়নকে সবুজ বিপ্লবে পরিণত করতে বাজেটে যথাযথ বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০২০-২০২৫) প্রাণ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সকল পরিকল্পনা প্রনয়ণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতিনিধিত্ব করে ‘‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা এজেন্সি/পরিষদ” গঠন এবং ব্যাপক পরিবেশ দুষণ রোধে ‘দুষণ কর’ প্রয়োগ করতে হবে। দখলকৃত বন ও জলাশয়গুলোকে অবৈধ দখলদারিত্ব হতে উদ্ধারে বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও প্রয়োজনীয় তহবিল প্রদান করতে হবে। সুন্দরবন ও অন্যান্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিকটে বাস্তবায়িত সকল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উল্লেখ্য, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৬-৭ টাকা হলেও বর্তমানে প্রতি ইউনিট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ মাত্র ৫.৭৮ টাকা এবং প্রতিবছরে এ উৎপাদন ব্যয় গড়ে ১৩ শতাংশ হারে কমছে। উল্লেখ্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর কয়লা বিদ্যুতের প্রভাব হিসাব করলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত দাম প্রায় ২২-২৫ টাকা। এছাড়াও উপকুলে লবণাক্ততা নিরসনে স্থায়ী বাধ নির্মাণ এবং বাধের দুই পাশে পরিকল্পিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টি এবং দুর্যোগ সহনীয় ও পরিবেশ ও কৃষি বান্ধব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে দেশীয় প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোগ নিতে হবে। এর পাশাপাশি, নগরে বায়ু দূষণ রোধে দূষণমুক্ত ও নাগরিক বান্ধব ইলেকট্রিক পরিবহন ব্যবস্থার দ্বি-চক্র যানের ব্যবহার বাড়াতে পৃথক লেন ও এসব উৎপাদনে দেশীয় উৎপাদকদের প্রণোদনা প্রদান করতে হবে।
প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতে পরিবার ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল ক্ষেত্রে সম্পদের ব্যবহার হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনর্চক্রায়ন নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
লেখক: পরিবেশ ও জলবায়ু অর্থায়ন বিশ্লেষক










